অভিস্রবণ কাকে বলে? (সহজ সংজ্ঞা) | অভিস্রবণের প্রক্রিয়া | অভিস্রবণের প্রকারভেদ

প্রিয় পাঠক, আজকের পোস্টে আমরা জানব অভিস্রবণ সম্পর্কে। অভিস্রবণ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া যা আমাদের জীবনে নানা ক্ষেত্রে ঘটে। 

গাছের শিকড় থেকে পানি শোষণ, কিংবা কিশমিশ ফুলে ওঠার পিছনের রহস্য জানতে পড়ুন পুরো পোস্টটি। আশা করি, আপনাদের ভালো লাগবে এবং অভিস্রবণের জাদু আপনাকে মুগ্ধ করবে।

অভিস্রবণ কাকে বলে? (সহজ সংজ্ঞা) | অভিস্রবণের প্রক্রিয়া | অভিস্রবণের প্রকারভেদ

অভিস্রবণ কাকে বলে?

দ্রাবকের বৈষম্যভেদ্য পর্দা ভেদ করে তার নিম্ন ঘনত্বের দ্রবণ থেকে উচ্চ ঘনত্বের দ্রবণের দিকে প্রবাহিত হওয়াকে অভিস্রবণ প্রক্রিয়া বলে।

অভিস্রবণ হল একটি প্রক্রিয়া যা দুই ধরনের দ্রবণ (যার একটির ঘনত্ব অন্যটির তুলনায় কম) অর্ধভেদ্য পর্দার মাধ্যমে পৃথক করলে ঘটে। যখন পাতলা দ্রবণ (যার ঘনত্ব কম) ঘন দ্রবণের দিকে চলে যায়, তখন সেটিকে অভিস্রবণ বলা হয়।

অভিস্রবণের প্রক্রিয়া

গাছপালা মাটি থেকে পানি শোষণ করতে অভিস্রবণ ব্যবহার করে। উদ্ভিদের মূলরোমের কোষ এবং মাটির পানির মধ্যে ঘনত্বের পার্থক্য থাকে। মূলরোমের কোষে থাকা রস মাটির পানির তুলনায় ঘন হয়। তাই পানি অর্ধভেদ্য পর্দা পার করে মূলরোমে চলে আসে।

দ্রবণ ও দ্রাবক

দ্রবণ হল দ্রব + দ্রাবক। দ্রাবক হলো যে উপাদান দ্রবণে বেশি থাকে, আর দ্রব হল কম ঘনত্বের উপাদান। যেমন, এক গ্লাসে ৫ চামচ পানির সাথে দুধ মিশালে, সেখানে দুধ দ্রাবক এবং পানি দ্রব।

অভিস্রবণের প্রক্রিয়া

একটি অর্ধভেদ্য পর্দার মাধ্যমে দুই ভিন্ন ঘনত্বের দ্রবণ পৃথক করলে, দ্রাবক অণুগুলি কম ঘনত্বের থেকে বেশি ঘনত্বের দিকে চলে যায়। এই চলনকে অভিস্রবণ বলা হয়।

অভিস্রবণের উদাহরণ

যখন দুটি ভিন্ন ঘনত্বের দ্রবণ একত্র মিশ্রিত হয়, তখন অভিস্রবণের প্রক্রিয়া ঘটে। কিশমিশ উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করা যায়। যখন কিশমিশ পানি শোষণ করে, তখন সেটি ফুলে যায়। কিশমিশের ভিতরের চিনির ঘনত্ব বেশি এবং পানির ঘনত্ব কম থাকে।

অভিস্রবণের প্রকারভেদ

অভিস্রবণ দুটি প্রকার: অন্তঅভিস্রবণ এবং বহিঅভিস্রবণ। অন্তঅভিস্রবণ ঘটে যখন দ্রাবক কোষের ভেতরে প্রবেশ করে, আর বহিঅভিস্রবণ ঘটে যখন দ্রাবক কোষের বাইরে আসে।

অভিস্রবণের বৈশিষ্ট্য

অভিস্রবণ হল একটি প্রক্রিয়া যেখানে কম ঘনত্বের দ্রবণ থেকে অধিক ঘনত্বের দিকে দ্রাবক অণুগুলি প্রবাহিত হয়। এটি শুধুমাত্র তরল অবস্থায় ঘটে এবং কোনও শক্তি ছাড়াই হয়।

অভিস্রবণের গুরুত্ব

অভিস্রবণ সব জীবিত প্রাণীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে পুষ্টি ও খনিজ কোষে প্রবেশ করে, যা বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয়। কোষগুলির বর্জ্য অপসারণেও অভিস্রবণ সহায়ক।

অভিস্রবণ পরীক্ষা

অভিস্রবণের প্রক্রিয়া বোঝার জন্য ভিন্ন ঘনত্বের দ্রবণের মধ্যে পর্দার বৈশিষ্ট্য জানাটা জরুরি। পর্দা তিন প্রকার: অভেদ্য, ভেদ্য এবং অর্ধভেদ্য। অভেদ্য পর্দা দিয়ে কিছুই প্রবাহিত হয় না, ভেদ্য পর্দা দিয়ে সব কিছু প্রবাহিত হয়, এবং অর্ধভেদ্য পর্দা দিয়ে কেবল দ্রাবক প্রবাহিত হয়।

কিশমিশের মাধ্যমে অভিস্রবণ পরীক্ষা

যদি কিশমিশকে পানিতে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখা হয়, তখন সেটি ফুলে যায়। এটি অভিস্রবণের ফল। পানি কিশমিশের অভ্যন্তরে প্রবাহিত হয়, কিন্তু চিনির অণুগুলি বাইরে আসতে পারে না।

অভিস্রবণ পরীক্ষার উপকরণ

১. একটি বড় আলু, ২. একটি বীকার, ৩. একটি ব্লেড, ৪. পানি, ৫. চিনির দ্রবন, ৬. একটি আলপিন।

কার্যপদ্ধতি

১. আলুটির খোসা ছাড়িয়ে দুই মাথা কাটা। ২. এক মাথায় চিনির দ্রবন ভর্তি করা। ৩. আলুটিকে পানিতে রাখার সময় মাথা উপরের দিকে রাখুন।

পর্যবেক্ষণ

কিছুক্ষণ পর দেখা যাবে আলুর গর্তে পানি প্রবাহিত হয়েছে এবং তা ফুলে উঠেছে। এটি অভিস্রবণের মাধ্যমে হয়েছে।

আশা করি, অভিস্রবণ সম্পর্কে আজকের পোস্টটি আপনাদের ভালো লেগেছে। এরকম আরও চমৎকার পোস্ট পড়তে আমাদের ওয়েবসাইটের অন্যান্য লেখা ঘুরে দেখুন। আপনার শেখার যাত্রায় আমরা সবসময় পাশে আছি।

Getting Info...

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Oops!
It seems there is something wrong with your internet connection. Please connect to the internet and start browsing again.