ভূমিকা (Introduction): এই ব্লগপোস্টে দেওয়া হয়েছে একটি সুন্দর ও শিক্ষণীয় ভাবসম্প্রসারণ — “নিন্দুকেরে বাসি আমি সবার চেয়ে ভালো, যুগ জনমের বন্ধু আমার আঁধার ঘরের আঁলো”। সহজ ভাষায় ছোট করে লেখা হয়েছে যেন Class 6 থেকে HSC পর্যন্ত সব শিক্ষার্থী সহজে বুঝতে পারে। পুরো ভাবসম্প্রসারণটি পড়লে আপনি এর গভীরতা ও মাধুর্য ভালোভাবে অনুভব করতে পারবেন।
নিন্দুকেরে বাসি আমি সবার চেয়ে ভালো,যুগ জনমের বন্ধু আমার আঁধার ঘরের আঁলো
মূলভাব : নিন্দুকের কাজ হলো অপরের নিন্দা করা। তাই বলে নিন্দুককে ঘৃণা করা উচিত নয়। সে মানুষের পরম বন্ধু। নিন্দার ভয়ে মানুষ দূষণীয় কাজ থেকে বিরত থাকতে চেষ্টা করে এবং পরিপূর্ণতা অর্জন করে।
সম্প্রসারিত ভাব : মানুষ সমাজবদ্ধ জীব, তাই সে সমাজে বাস করে এবং সমাজের নিয়মনীতি মেনে চলতে বাধ্য। সমাজে বা রাষ্ট্রে এমন কিছু লোক সবসময়ই থাকে, যারা অন্যের সমালোচনা করে কিংবা পরনিন্দায় লিপ্ত থাকে। তবে সকল সমালোচনাই যে ক্ষতিকর, তা নয়। অনেক সময় গঠনমূলক সমালোচনাই সমাজ কিংবা রাষ্ট্রকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে সাহায্য করে। যেমন—একটি রাষ্ট্রের বিরোধী দল সরকারের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে; এতে সরকার নিজের ভুলত্রুটি চিহ্নিত করে তা শুধরানোর সুযোগ পায়। এর ফলে জনগণের প্রকৃত কল্যাণ সম্ভব হয়।
যদি সমালোচক না থাকতো, তবে ভালো কাজের মূল্যায়নও হতো না। কারণ, সমালোচনার মধ্য দিয়েই একটি ভালো কাজের মাহাত্ম্য ফুটে ওঠে। তাই কোনো মহৎ কাজে নামলে বাধা আসবেই, মানুষ সমালোচনার মুখোমুখি হবেই। কিন্তু সেসব প্রতিকূলতা পেরিয়ে তবেই মানুষ সত্যিকারের মহৎ হয়ে ওঠে। যেমন আগুনে পোড়ালে সোনা খাঁটি হয়, তেমনি নিন্দাবাদের তাপে দগ্ধ হয়েই মানুষ তার প্রকৃত রূপ পায়। যারা নিন্দায় ভেঙে পড়ে, তারা নয় মহান; বরং যারা তা অতিক্রম করে এগিয়ে যায়, তারাই প্রকৃত মহৎ।
নিন্দুকের কাজ শুধু দোষ ধরা নয়, সে অনিচ্ছাকৃতভাবেই মহৎ ব্যক্তিকে আরও দৃঢ় ও খাঁটি করে তোলে। তাই নিন্দুককে শত্রু নয়, বরং বন্ধু ভাবাই বুদ্ধিমানের কাজ। তাকে ঘৃণা নয়, ভালোবাসা দিয়েই জয় করতে হয়। বন্ধুবান্ধব কিংবা আত্মীয়স্বজন সময়ে সময়ে দূরে সরে যেতে পারে, কিন্তু নিন্দুক ছায়ার মতো লেগে থাকে, আর অজান্তেই আমাদের সঠিক পথের দিকেই ঠেলে দেয়।
নিন্দুকের নিন্দার মাধ্যমে মানুষ নিজেদের ভুলত্রুটি সম্পর্কে অবগত হতে পারে। নিন্দুকের ভূমিকার কারণেই মানুষ ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনে কল্যাণ সাধন করতে পারে। তাই নিন্দুক তার নিন্দার মাধ্যমে পরোক্ষভাবে সমাজের কল্যাণ করে।
উপসংহার (Conclusion): আশা করি এই ভাবসম্প্রসারণটি পড়ে আপনার ভালো লেগেছে। আরও অনেক সহজ ও শিক্ষণীয় ভাবসম্প্রসারণ পড়তে এখনই ঘুরে আসুন আমার ওয়েবসাইটে — StudyTika.com। এখানেই পাবেন আরও ভাবসম্প্রসারণ সহজ ভাষায়, ছাত্রছাত্রীদের জন্য একদম উপযোগী।