ভাবসম্প্রসারণঃ অনেক কিছু ভাবার চেয়ে অল্প কিছু করাই শ্রেয় [Class 6 7 8 9 10 ‍SSC HSC]

এই ব্লগপোস্টে আমি একটি সুন্দর ভাবসম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা করেছি যার শিরোনাম “অনেক কিছু ভাবার চেয়ে অল্প কিছু করাই শ্রেয়”। এখানে আপনি খুব সহজ ও পরিষ্কার ভাষায় ভাবসম্প্রসারণটি পাবেন, যা ক্লাস ৬ থেকে হাইস্কুল পর্যন্ত সবাই সহজে বুঝতে পারবে। আশা করি, এই ভাবসম্প্রসারণ পড়ে আপনার লেখা আরও ভালো হবে।

ভাবসম্প্রসারণঃ অনেক কিছু ভাবার চেয়ে অল্প কিছু করাই শ্রেয় [Class 6 7 8 9 10 ‍SSC HSC]

অনেক কিছু ভাবার চেয়ে অল্প কিছু করাই শ্রেয়

মূলভাব : মানুষের প্রকৃত পরিচয় তার কর্মে প্রকাশ পায়। অর্থহীন ও অলস ভাবনার চেয়ে অল্প পরিমাণ হলেও কার্যকরী কাজ করা অনেক বেশি কল্যাণকর।

সম্প্রসারিত ভাব : পৃথিবীতে একশ্রেণির মানুষ রয়েছে যারা কাজের চেয়ে ভাবনাকেই বেশি গুরুত্ব দেয়। তারা অন্যের চেয়ে নিজেকে বেশি যোগ্য বলে মনে করে এবং অন্যের কাজের নেতিবাচক সমালোচনা করতে পছন্দ করে। এ শ্রেণির মানুষ সমাজের জন্যে কোনো কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না। মিথ্যা আত্মপ্রচার আর অসম্ভব সব পরিকল্পনা নিয়ে তারা আত্মপ্রসাদ পেয়ে থাকে। বলাই বাহুল্য, এদের সমস্ত ভাবনা ও পরিকল্পনাই ভবিষ্যতের জন্য গচ্ছিত থাকে; কোনো সময়ই তা বাস্তবে রূপ নেয় না। একসময় তাদের অন্তঃসারশূল্য জীবনের অবসান হয়।

পক্ষান্তরে, যিনি কর্মমুখী, তিনি তাঁর কাজকেই ধ্যান ও জ্ঞান মনে করেন। এই শ্রেণীর মানুষ আত্মসচেতন ও আত্মমর্যাদাশীল থাকেন। তারা কখনো অর্থহীন বাগাড়ম্বর বা কপটতা দেখিয়ে নিজেকে ছোট করেন না। বরং তাদের অল্প কাজও নিষ্পন্ন করার মধ্যেই আত্মতৃপ্তি খুঁজে পায়। সত্যি যে, মানুষের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কাজের সমষ্টিই একসময় সমাজের বৃহৎ কল্যাণে পরিণত হয়। তাই এ ধরনের মানুষ সমাজ ও সভ্যতার মূল্যবান সম্পদ, এবং এজন্যই তারা সমাজের দ্বারা সমাদৃত ও সম্মানিত হন।

মন্তব্য : অর্থহীন ভাবনা মানুষের কোনো কল্যাণ বয়ে আনে না, তা সময়ের অপচয় করে মাত্র; অন্যদিকে পরিমাণে অল্প যেকোনো কাজ মানবজীবনের প্রবাহকে সমৃদ্ধ ও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে। সুতরাং আমাদেরকে ভাবুক হবার পথ পরিহার করে কর্মী হবার সাধনা করতে হবে।

এই ভাবসম্প্রসারণটি অন্য বই থেকেও সংগ্রহ করে দেয়া হলো

মূলভাব : কাজের পরিকল্পনার চেয়ে কাজে হাত দেওয়া অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই শুধুমাত্র ভাবনায় সময় নষ্ট করার প্রয়োজন নেই; বরং প্রয়োজন কর্মে আত্মনিবেশের। যা ভাবা হচ্ছে, সেটি কাজের মাধ্যমে বাস্তবে রূপায়ণ করতে হবে। প্রাচীন শাস্ত্রেও বলা হয়েছে, ‘কর্মই সত্যিকারের জীবনের পরিচয়’।

সম্প্রসারিত-ভাব : কর্মের মধ্যেই জীবনের সাফল্যের বীজ নিহিত রয়েছে। সেজন্য কাজ করতে হবে। কাজের মাধ্যমেই মানবজীবন ধন্য করতে হবে। শুধু শুধু ভাবনার কোন গুরুত্ব নেই। সে ভাবনা এক ধরনের বিলাসিতা। তার ফুলও নেই, ফলও নেই। সুতরাং, তা ভাবা শুধু শুধু বেকার। কারণ, আমরা শুধু জ্বালানি কাঠকে আগুন বলি না, আর তাতে আগুন না দিলে তা জ্বলে না। ফলে তা কাঙ্ক্ষিত ফলও দেয় না। সুতরাং, অনেক ভাবনার সার্থকতা নেই। তা থেকে অন্তত কিছু কাজে রূপদান করার মাধ্যেই রয়েছে সার্থকতা। অনেকে বড় বড় কাজের পরিকল্পনা আঁটে, এটা করব সেটা করব বলে বাগাড়ম্বর করে, কিন্তু কাজের বেলায় তারা ঠনঠন। বড় পরিকল্পনা আঁটা ভালো কিন্তু তা কাজে রূপান্তরিত করা যাবে কি না সেটিই প্রকৃত জিজ্ঞাসা। এ ক্ষেত্রে দেখা যায় বাগাড়ম্বর কোন কাজের সিদ্ধি নিয়ে আসে না। তার চেয়ে ছোট পরিকল্পনা করাই ভালো। সামর্থ্যের বাইরে কোন কিছু করতে যাওয়া অনুচিত। ভাবনার চেয়ে কর্মের ‍গুরুত্ব অনেক বেশি, সে ভাবনা যত ক্ষুদ্রই হোক না কেন।

তাই আমাদের সকলের উচিত। বড় কিছু চিন্তাভাবনা না করে ছোট খাট কিছু করা অনেক ভালো।

আশা করি আপনাদের ভালো লেগেছে এই ভাবসম্প্রসারণ। আরো অনেক সুন্দর ও সহজ ভাবসম্প্রসারণ পড়তে চাইলে আমার ওয়েবসাইট StudyTika.com এ আসবেন। সেখানে আপনাদের জন্য আরও অনেক ভালো লেখা অপেক্ষা করছে।

Getting Info...

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Oops!
It seems there is something wrong with your internet connection. Please connect to the internet and start browsing again.