জার্মানির হেল্মহলৎস গবেষণা কেন্দ্রের নিউরোসায়েন্টিস্ট সুজানে ভাইস বলেন, নতুন গবেষণায় দেখা গেছে পুরুষ ও নারীর মস্তিষ্কে খুব বেশি পার্থক্য নেই। বরং অনেক ক্ষেত্রে তাদের মস্তিষ্কে মিলও রয়েছে।
পুরুষ ও নারী মস্তিষ্কের পার্থক্য সম্পর্কে ধারণা
অনেকে মনে করেন নারী ও পুরুষের মস্তিষ্ক একে অপরের থেকে অনেক আলাদা। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, বিপরীত লিঙ্গের মস্তিষ্কে অনেক মিল থাকলেও, কখনও কখনও একই লিঙ্গের মানুষের মধ্যেও পার্থক্য দেখা যায়। নারীরা সাধারণত ভাষা শেখায় ও আবেগ প্রকাশে বেশি দক্ষ, অন্যদিকে পুরুষরা বিশ্লেষণ, যুক্তি ও বিজ্ঞানের দিকে বেশি মনোযোগী।
পুরুষ ও নারী মস্তিষ্কের প্রধান পার্থক্যসমূহ
১। অ্যামিগডালা অংশের পার্থক্য: কানের ওপরে মস্তিষ্কের মধ্যে আখরোটের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ আছে, যাকে অ্যামিগডালা বলে। এই অংশটি পুরুষদের ক্ষেত্রে নারীদের তুলনায় বড়। এটি ভয়, রাগ, ও প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।
২। মস্তিষ্কের আকার: পুরুষদের মস্তিষ্ক সাধারণত নারীদের তুলনায় বড় হয়। তবে আকারে বড় মানেই বেশি বুদ্ধিমান নয়। কারণ দক্ষতা নির্ভর করে মস্তিষ্কের কাজের পদ্ধতি ও স্নায়ুর সংযোগের উপর।
৩। স্নায়ুকোষের সংখ্যা: গবেষণায় দেখা গেছে পুরুষদের মস্তিষ্কে স্নায়ুকোষের সংখ্যা নারীদের তুলনায় প্রায় সাত গুণ বেশি। তবে নারীদের মস্তিষ্কে এই স্নায়ুগুলির সংযোগ বা যোগাযোগ অনেক শক্তিশালী, যা তাদের চিন্তা ও যোগাযোগে দক্ষ করে তোলে।
৪। সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও যোগাযোগ ক্ষমতা: পুরুষরা সাধারণত দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, কারণ তাদের মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষ সংখ্যা বেশি। অন্যদিকে, নারীদের মস্তিষ্কে স্নায়ু সংযোগ (নিউরাল কানেকশন) পুরুষদের তুলনায় দশ গুণ বেশি, যার ফলে তারা সহজে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন এবং যুক্তি-তর্কে দক্ষ হন।
৫। স্মৃতিশক্তি: নারীদের মস্তিষ্কে “সিংগুলেট জাইরাস” অংশটি বেশি উন্নত। এজন্য তারা খুব দ্রুত ও সঠিকভাবে অতীতের ঘটনা স্মরণ করতে পারেন। অন্যদিকে পুরুষদের ক্ষেত্রে স্মৃতি পুনরুদ্ধারের ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে কম।
৬। মস্তিষ্কের ব্যবহার: পুরুষরা কাজ করার সময় সাধারণত মস্তিষ্কের একটি দিক (ডান বা বাম) বেশি ব্যবহার করেন। কিন্তু নারীরা উভয় দিকই একসাথে ব্যবহার করেন। ফলে তারা একাধিক কাজ একসাথে করতে বা কাজ গুছিয়ে করতে বেশি সক্ষম।
৭। আবেগ ও মানসিক অবস্থা: নারীদের শরীরে ইস্ট্রোজেন নামক হরমোনের প্রভাবে তারা পুরুষদের তুলনায় বেশি আবেগপ্রবণ হন। এজন্য তাদের মধ্যে হতাশা বা অবসাদে ভোগার প্রবণতা বেশি। অপরদিকে, পুরুষদের মধ্যে অটিজম বা সিজোফ্রেনিয়ার মতো মানসিক সমস্যা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।
৮। ব্যথা অনুভব: নারীরা সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী বা ক্রনিক ব্যথা বেশি অনুভব করেন। কারণ তাদের মস্তিষ্ক ব্যথা ও আবেগের প্রতিক্রিয়ায় বেশি সংবেদনশীল।
উপসংহার
সবশেষে বলা যায়, পুরুষ ও নারীর মস্তিষ্কের গঠনে কিছু পার্থক্য থাকলেও, কর্মক্ষমতার দিক থেকে তারা সমান। আল্লাহ তায়ালা উভয়কেই তাদের নিজ নিজ ভূমিকার জন্য অনন্যভাবে সৃষ্টি করেছেন। তাই কারো মস্তিষ্ক বড় বা ছোট হওয়ার মানে এই নয় যে কেউ বেশি বা কম যোগ্য। নারী ও পুরুষ—উভয়ের চিন্তা, অনুভূতি ও দক্ষতা ভিন্ন পথে প্রকাশ পেলেও তা সমানভাবে মূল্যবান।
আরও শিক্ষামূলক ও তথ্যবহুল লেখা পড়তে ভিজিট করুন – StudyTika.com