পৃথিবীর স্থানাঙ্ক নির্ধারণে দুটি গুরুত্বপূর্ণ রেখা হলো অক্ষরেখা এবং দ্রাঘিমারেখা। যদিও উভয়ই মানচিত্রে স্থান নির্ধারণে ব্যবহৃত হয়, তাদের মধ্যে মূল পার্থক্য রয়েছে। নিচে সহজভাবে তুলনা করা হলো।
অক্ষরেখা (Latitudes)
অক্ষরেখা হলো একই অক্ষাংশের স্থানের সাথে যুক্ত কাল্পনিক বৃত্তাকার রেখা। এটি পৃথিবীকে পূর্ব-পশ্চিমে বেষ্টন করে। উদাহরণস্বরূপ, নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখা, কর্কটক্রান্তি ও মকরক্রান্তি।
- পৃথিবীর ভ্রূণভিত্তিক স্থানাঙ্ক: অক্ষাংশ।
- দিক: পূর্ব থেকে পশ্চিমে।
- রূপ: পূর্ণবৃত্ত এবং পরস্পর সমান্তরাল।
- পরিধি সমান নয়, উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর দিকে ছোট হয়।
- মান: ০° (নিরক্ষরেখা) থেকে ৯০° উত্তর বা দক্ষিণ।
- জলবায়ুতে পার্থক্য: একই অক্ষরেখায় কম।
দ্রাঘিমারেখা (Longitudes)
দ্রাঘিমারেখা হলো একই দ্রাঘিমাংশের স্থানের সাথে যুক্ত কাল্পনিক অর্ধবৃত্তাকার রেখা, যা উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত বিস্তৃত। উদাহরণস্বরূপ, প্রাইম মেরিডিয়ান।
- পৃথিবীর ভ্রূণভিত্তিক স্থানাঙ্ক: দ্রাঘিমাংশ।
- দিক: উত্তর থেকে দক্ষিণে।
- রূপ: অর্ধবৃত্ত এবং পরস্পর সমান্তরাল নয়।
- পরিধি সমান।
- মান: ০° (মূল মধ্যরেখা) থেকে ১৮০° পূর্ব বা পশ্চিম।
- জলবায়ুতে পার্থক্য: একই দ্রাঘিমারেখায় বিরাট।
অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখার মধ্যে পার্থক্য
| অক্ষরেখা | দ্রাঘিমারেখা |
|---|---|
| একই অক্ষাংশের স্থানগুলোকে যুক্ত করে গঠিত। | একই দ্রাঘিমাংশের স্থানগুলোকে যুক্ত করে গঠিত। |
| পৃথিবীকে পূর্ব-পশ্চিমে বেষ্টন করে। | পৃথিবীকে উত্তর-দক্ষিণে বেষ্টন করে। |
| রূপ: পূর্ণবৃত্ত এবং সমান্তরাল। | রূপ: অর্ধবৃত্ত এবং সমান্তরাল নয়। |
| পরিধি সমান নয়। | পরিধি সমান। |
| মান গণনা: ০° থেকে ৯০° উত্তর/দক্ষিণ। | মান গণনা: ০° থেকে ১৮০° পূর্ব/পশ্চিম। |
| একই রেখার উপর স্থানের জলবায়ুর পার্থক্য কম। | একই রেখার উপর স্থানের জলবায়ুর পার্থক্য বেশি। |
এভাবে বোঝা যায়, অক্ষরেখা অনুভূমিকভাবে এবং দ্রাঘিমারেখা উল্লম্বভাবে পৃথিবীকে ভাগ করে। আরও শিক্ষামূলক ও সহজভাবে লেখা পোস্টের জন্য ভিজিট করুন studytika.com।