আপনি কি জানেন, কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার কাজগুলো ঠিকভাবে কিভাবে চলে? কাজগুলো ঠিকমতো না সাজালে বা সমন্বয় না থাকলে কাজ করতে গিয়ে সমস্যায় পড়া স্বাভাবিক। কিন্তু ঠিক কিভাবে কাজগুলো সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করা যায়, তা জানলে সব কাজ সহজ হয়ে যায়। এই পোস্টে আমরা এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে যাচ্ছি, যা প্রতিটি প্রতিষ্ঠান এবং আমাদের দৈনন্দিন জীবনের জন্য খুবই দরকারি। চলুন, বিস্তারিতভাবে জানি!
সংগঠন কাকে বলে?
সংগঠন বলতে বোঝায় কোনো প্রতিষ্ঠানের কাজসমূহকে সুশৃঙ্খলভাবে সাজানো। এটি হলো একটি প্রক্রিয়া যেখানে কাজগুলো চিহ্নিত করা হয়, বিভাগে ভাগ করা হয়, কর্মীদের দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয় এবং তাদের কার্যাবলি সমন্বিত করা হয় যাতে নির্দিষ্ট লক্ষ্য সহজে অর্জন করা যায়।
H. Weihrich ও H. Koontz-এর মতে, "সংগঠন হলো লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য কাজগুলো বিভাগে ভাগ করা, প্রত্যেক বিভাগকে একজন ব্যবস্থাপকের অধীনে ন্যস্ত করা এবং তাদের কার্যাবলির সুষ্ঠু সমন্বয় করা।"
লুইস এ. এ্যালেন বলেন, "কর্ম সনাক্ত করা ও শ্রেণীবদ্ধ করা, দায়িত্ব নির্ধারণ ও কর্মীদের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করাই সংগঠন।"
সংগঠন শব্দের অর্থ
সংগঠন শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Organization। Organising শব্দটি "Organism" থেকে এসেছে। এর অর্থ হলো বিভিন্ন পৃথক অংশকে এমনভাবে মিলিত করা যাতে সব অংশ মিলিয়ে একটি সম্পূর্ণ কাজ তৈরি হয়।
সংগঠনের প্রকারভেদ
সংগঠন প্রধানত দুই প্রকারের হয়:
- আনুষ্ঠানিক সংগঠন (Formal Organization)
- অনানুষ্ঠানিক সংগঠন (Informal Organization)
অনানুষ্ঠানিক সংগঠন
প্রতিষ্ঠানে কর্মীদের মধ্যে গঠিত বন্ধুত্ব বা কাজের সম্পর্কের ভিত্তিতে এরূপ সংগঠন তৈরি হয়। যেমন:
১. বন্ধুত্বসুলভ অনিয়মতান্ত্রিক সংগঠন
কর্মীরা একে অপরের সাথে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা করে এবং একে অপরের কাজের ধারায় প্রভাব ফেলে।
২. কর্ম-গোত্রভুক্ত অনিয়মতান্ত্রিক সংগঠন
যেসব কর্মী ঘনিষ্ঠভাবে একত্রে কাজ করেন, তাদের মধ্যে এই ধরনের সংগঠন গড়ে ওঠে।
আনুষ্ঠানিক সংগঠন
প্রতিষ্ঠানের বৈশিষ্ট্য ও কাজের ধরন অনুযায়ী এটি কয়েক ভাগে বিভক্ত:
- ১. সরলরৈখিক সংগঠন (Line Organization)
- ২. সরলরৈখিক ও উপদেষ্টা সংগঠন (Line and Staff Organization)
- ৩. কার্যভিত্তিক সংগঠন (Functional Organization)
- ৪. কমিটি (Committee)
১. সরলরৈখিক সংগঠন
এ ধরনের সংগঠনে ক্ষমতা উপরের স্তর থেকে সরাসরি নিচের স্তরে প্রবাহিত হয়। প্রত্যেক কর্মী জানে কার থেকে নির্দেশ নিতে হবে।
২. সরলরৈখিক ও উপদেষ্টা সংগঠন
এখানে সরলরৈখিক কর্মকর্তার পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ বা উপদেষ্টা কর্মী নিয়োগ করা হয়। উপদেষ্টারা পরামর্শ দেন, কিন্তু আদেশ দিতে পারে না।
৩. কার্যভিত্তিক সংগঠন
কাজের ধরন অনুযায়ী বিভাগে ভাগ করা হয় এবং প্রতিটি বিভাগের জন্য বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তা নিযুক্ত হয়।
৪. কমিটি
কোনো নির্দিষ্ট কাজের জন্য কয়েকজন ব্যক্তির দল গঠন করা হয়। তারা আলোচনা করে সিদ্ধান্ত বা সুপারিশ কর্তৃপক্ষের কাছে প্রদান করে।
সংগঠনের প্রক্রিয়া বা পদক্ষেপ সমূহ
সংগঠন প্রক্রিয়ার জন্য পাঁচটি প্রধান পদক্ষেপ রয়েছে:
১. কাজের শ্রেণিবিন্যাস
প্রতিষ্ঠানের কাজগুলো চিহ্নিত করা এবং বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ভাগ করা হয়।
২. কার্যাবলির বিভাগীয়করণ
কাজগুলোকে বিভিন্ন বিভাগের অধীনে ন্যস্ত করা হয়।
৩. প্রাতিষ্ঠানিক স্তর নির্দিষ্টকরণ
কর্মীদের কোন স্তরে কাজ করবে এবং কার কাছে রিপোর্ট করবে তা নির্ধারণ করা হয়।
৪. কর্তৃত্ব অর্পণ
বিভাগীয় কর্মকর্তা এবং লাইন ম্যানেজারদের দায়িত্ব ও কর্তৃত্ব নির্ধারণ করা হয়।
৫. সমন্বয় সাধন
বিভাগীয় কাজগুলোর মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন ও মনিটরিং প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়।
উপসংহার
সংগঠন হলো যে কোনো প্রতিষ্ঠান বা দলের কাজগুলো সুন্দরভাবে সমন্বয় করার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। এটি ছাড়া কাজের ধারাবাহিকতা এবং লক্ষ্য পূরণ করা কঠিন। আশা করি, এই পোস্টটি পড়ে আপনি সংগঠন সম্পর্কে ভালো ধারণা পেয়েছেন। StudyTika.com-এ আরও অনেক জ্ঞান-বর্ধক এবং সহজভাবে লেখা পোস্ট রয়েছে, সেগুলো পড়তে ভুলবেন না।