আমরা প্রতিদিন যা করি, যেভাবে কথা বলি বা অন্যের সাথে মিশি—সবকিছুরই একটা বিশেষ নাম আছে। আপনি কি জানেন, আমাদের ছোট ছোট কাজগুলো আসলে আমাদের মনের কোন অবস্থার কথা বলে? কেন আমরা একেক পরিস্থিতিতে একেক রকম সাড়া দেই? আজকের এই ছোট্ট লেখায় আমরা জানবো এই রহস্যময় বিষয়টি সম্পর্কে, যা আমাদের প্রত্যেকের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। পুরোটা পড়লে আপনি নিজেকে এবং অন্যদের বোঝার এক নতুন উপায় খুঁজে পাবেন!
আচরণ কাকে বলে?
আচরণ হলো এমন একটি বিষয় যা আমরা প্রতিদিন প্রতিনিয়ত করি। কোনো বিশেষ পরিবেশ, পরিস্থিতি বা কোনো উত্তেজনার বিপরীতে একজন মানুষ, প্রাণী বা কোনো সিস্টেম যে প্রতিক্রিয়া দেখায়, তাকেই আচরণ বলে।
সহজ কথায় বলতে গেলে, কোনো পরিস্থিতিতে আপনি যা করেন, যেভাবে কথা বলেন বা যেভাবে সাড়া দেন, সেটাই আপনার আচরণ। এটি আপনার ব্যক্তিত্ব এবং স্বভাবের একটি বহিঃপ্রকাশ।
আচরণের মূল বৈশিষ্ট্য
- আচরণ বাইরে থেকে দেখা যেতে পারে (যেমন: হাঁটা বা কথা বলা)।
- আচরণ ভেতর থেকেও হতে পারে (যেমন: আপনার চিন্তা বা অনুভূতি)।
- এটি পর্যবেক্ষণ করা যায় এবং পরিমাপও করা যায়।
আচরণের প্রকারভেদ
আচরণকে মূলত প্রধান দুটি ভাগে ভাগ করা যায়:
১. বাহ্যিক আচরণ (External Behavior)
যেসব কাজ অন্যেরা বাইরে থেকে সরাসরি দেখতে পায়, তাকে বাহ্যিক আচরণ বলে।
উদাহরণ: কথা বলা, দৌড়ানো, হাসা কিংবা কান্না করা।
২. অভ্যন্তরীণ আচরণ (Internal Behavior)
যেসব কাজ বাইরে থেকে সরাসরি দেখা যায় না বরং মানুষের ভেতরে ঘটে, তাকে অভ্যন্তরীণ আচরণ বলে।
উদাহরণ: কারো কথা শুনে মনে মনে কিছু চিন্তা করা কিংবা মনে কষ্ট পাওয়া।
আচরণের উদ্দেশ্য ও নিয়ন্ত্রণ
মানুষ বা প্রাণী কেন আচরণ করে? এর পেছনে কিছু নির্দিষ্ট কারণ থাকে:
- মানিয়ে নেওয়া: পরিবেশ বা পরিস্থিতির সাথে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে আচরণ সাহায্য করে।
- পরিবর্তন আনা: কোনো কিছু পরিবর্তন করতে বা নতুন কিছু ঘটাতে আমরা নির্দিষ্ট আচরণ করি।
- নিয়ন্ত্রণ: আমাদের আচরণ সাধারণত আমাদের বংশগত (জেনেটিক) বৈশিষ্ট্য এবং চারপাশের পরিবেশ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
মনোবিজ্ঞানের ভাষায় আচরণ
মনোবিজ্ঞানে আচরণকে বোঝার জন্য 'আচরণবাদ' (Behaviorism) নামে একটি তত্ত্ব আছে। এই তত্ত্ব অনুযায়ী, কোনো মানুষের মনস্তত্ত্ব বা মনের অবস্থা বুঝতে হলে তার প্রকাশ্য কাজ বা আচরণের দিকে নজর দিতে হয়। অর্থাৎ, মানুষের কাজ দেখেই তার মনের অবস্থা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব।
কিছু সহজ উদাহরণ
আমাদের চারপাশের কিছু সাধারণ আচরণের উদাহরণ নিচে দেওয়া হলো:
- ক্ষুধা লাগলে: খাবার খোঁজা বা খাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করা।
- বিপদে পড়লে: নিজেকে রক্ষা করার চেষ্টা করা বা নিরাপদ স্থানে যাওয়া।
- সামাজিক ক্ষেত্রে: মানুষের সাথে ভদ্রভাবে কথা বলা এবং হাসি মুখে কথা বলা।
সারকথা: যে কোনো পরিস্থিতিতে একজন মানুষ বা জীব যে প্রতিক্রিয়া বা সাড়া দেয়, সেটিই হলো তার আসল আচরণ।
সহজ কথায়, আমাদের প্রতিটি কাজই আমাদের আসল পরিচয় বা আচরণ। আশা করি, আজকের এই লেখাটি থেকে আপনি নতুন কিছু শিখতে পেরেছেন। এরকম আরও অনেক মজার এবং শিক্ষণীয় বিষয় খুব সহজে জানতে আমাদের ওয়েবসাইট Studytika.com-এর অন্যান্য পোস্টগুলো পড়তে ভুলবেন না। আমাদের সাথেই থাকুন!