আমাদের চারপাশে কত শত জিনিস আছে, তাই না? কিন্তু আপনি কি কখনো ভেবে দেখেছেন, কেন ঘরের বৈদ্যুতিক তারগুলো তামা বা অ্যালুমিনিয়াম দিয়ে তৈরি করা হয়, কিন্তু প্লাস্টিক বা কাঠ দিয়ে তৈরি করা হয় না? কেন প্লাস্টিকের তারে হাত দিলে আমাদের শট (Shock) লাগে না, অথচ ভেজা হাতে সুইচে হাত দিতে বারণ করা হয়?
এই সবকিছুর পেছনে লুকিয়ে আছে বিজ্ঞানের দারুণ এক রহস্য! আর তা হলো বৈদ্যুতিক পরিবাহিতা। এটি এমন এক জাদুকরী বিষয়, যা না জানলে বিদ্যুতের আসল ব্যবস্থাপনাই বোঝা সম্ভব নয়। আপনি যদি স্কুল, কলেজ বা যেকোনো ক্লাসের শিক্ষার্থী হয়ে থাকেন এবং খুব সহজে, গল্পের মতো করে এই বিষয়টি বুঝতে চান, তবে আজকের পোস্টটি আপনার জন্যই! চলুন, একদম পানির মতো সহজ ভাষায় পুরো বিষয়টি জেনে নেওয়া যাক। শেষ পর্যন্ত পড়লে আপনার মনের সব প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন নিশ্চিত!
বৈদ্যুতিক পরিবাহিতা (Electrical Conductivity) কী?
সহজ কথায়, কোনো পদার্থের ভেতর দিয়ে কত সহজে বিদ্যুৎ বা কারেন্ট চলাচল করতে পারে, তার পরিমাপকেই বৈদ্যুতিক পরিবাহিতা বলে।
বিজ্ঞানের ভাষায়, যখন কোনো পদার্থের দুই মাথায় বিভব পার্থক্য (Voltage Difference) তৈরি করা হয়, তখন তার ভেতর দিয়ে যে পরিমাণ বৈদ্যুতিক প্রবাহ বা কারেন্ট চলতে পারে, তা দিয়েই ওই পদার্থের পরিবাহিতা বা বিদ্যুৎ পরিবহনের ক্ষমতা মাপা হয়। যে পদার্থের পরিবাহিতা যত বেশি, তার ভেতর দিয়ে তত সহজে এবং বেশি পরিমাণে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হতে পারে।
---সহজ উদাহরণ দিয়ে বুঝুন
বিষয়টি আমরা একটি পানির পাইপের সাথে তুলনা করতে পারি। একটি পরিষ্কার এবং বড় পাইপের ভেতর দিয়ে যেমন পানি খুব সহজে ও দ্রুত বয়ে যেতে পারে, তেমনি ভালো পরিবাহী পদার্থের ভেতর দিয়ে বিদ্যুৎ খুব সহজে চলাচল করতে পারে। আবার পাইপের ভেতরে যদি ময়লা বা বাধা থাকে, তবে পানি যেমন আটকে যায়, ঠিক তেমনি কিছু পদার্থের ভেতর দিয়ে বিদ্যুৎ সহজে যেতে পারে না।
এটি কেন গুরুত্বপূর্ণ?
- ভালো পরিবাহী: তামা (Copper) বা অ্যালুমিনিয়ামের মতো ধাতুর বিদ্যুৎ পরিবহনের ক্ষমতা অনেক বেশি। তাই আমাদের ঘরের বৈদ্যুতিক তার তৈরিতে এগুলো ব্যবহার করা হয়।
- অপরিবাহী: প্লাস্টিক, রাবার বা কাঠের পরিবাহিতা নেই বললেই চলে। তাই দুর্ঘটনা থেকে বাঁচতে বৈদ্যুতিক তারের ওপর প্লাস্টিকের কভার বা আবরণ দেওয়া হয়।
সংক্ষেপে বলতে গেলে, যেকোনো ক্লাসের শিক্ষার্থীদের জন্য মনে রাখার সহজ উপায় হলো—যে পদার্থ যত ভালো করে বিদ্যুৎ নিজের ভেতর দিয়ে যেতে দেয়, তার বৈদ্যুতিক পরিবাহিতা তত বেশি।
আশা করি, আজকের এই ছোট্ট এবং সহজ আলোচনা থেকে বৈদ্যুতিক পরিবাহিতা বিষয়টি আপনার কাছে একদম পরিষ্কার হয়ে গেছে। বিজ্ঞান কিন্তু মোটেও কঠিন কোনো বিষয় নয়, যদি তা চারপাশের নানা উদাহরণের সাথে মিলিয়ে সহজ করে শেখা যায়। পড়ালেখা বা বিজ্ঞানের জটিল বিষয়গুলোকে এরকম সহজ ও মজাদার উপায়ে বুঝতে আমাদের এই ওয়েবসাইটটি নিয়মিত ভিজিট করতে পারেন।
আমাদের StudyTika.com ওয়েবসাইটে আপনাদের মতো শিক্ষার্থীদের জন্যই চমৎকার সব শিক্ষণীয় এবং তথ্যবহুল পোস্ট শেয়ার করা হয়। তাই নিজের জ্ঞানকে আরও একধাপ বাড়িয়ে নিতে এখনই আমাদের ওয়েবসাইটের অন্যান্য দরকারি ও মজার মজার পোস্টগুলো পড়ে ফেলুন। কোনো প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করে জানাতে কিন্তু একদম ভুলবেন না!