জারণ সংখ্যা কাকে বলে? (সহজ সংজ্ঞা) | জারণ সংখ্যা এবং যোজনীর মধ্যে পার্থক্য

 রসায়ন পড়তে গিয়ে ‘জারণ সংখ্যা’ আর ‘যোজনী’ শব্দ দুটো শোনেনি—এমন শিক্ষার্থী হয়তো খুঁজে পাওয়া কঠিন! কিন্তু সত্যি করে বলো তো, পরীক্ষার খাতায় লিখতে গেলে কিংবা সাধারণ কোনো প্রশ্নে এই দুটো বিষয় কি তোমার মাথার ভেতরেও একটু জট পাকিয়ে দেয়? তোমাদের মধ্যে অনেকেই ভাবো যে জারণ সংখ্যা আর যোজনী হয়তো একই জিনিস! কিন্তু আসল সত্যিটা হলো, এদের মাঝে এমন কিছু দারুণ আর মজার পার্থক্য রয়েছে, যা একবার বুঝে নিলে কেমিস্ট্রি হয়ে উঠবে পানির মতো সহজ। আজকের এই লেখায় আমরা একদম পানির মতো সহজ ভাষায় জানবো জারণ সংখ্যা ও যোজনীর পেছনের আসল রহস্য। জারণ সংখ্যা কীভাবে ধনাত্মক বা ঋণাত্মক হতে পারে? কিংবা এটা কেন ভগ্নাংশও হতে পারে? এসব সব প্রশ্নের সহজ উত্তর লুকিয়ে আছে আজকের এই পোস্টে। তাহলে আর দেরি কেন? রসায়নের এই দারুণ বিষয়টি খুব সহজে বুঝে নিতে পুরো লেখাটি মনোযোগ দিয়ে শেষ পর্যন্ত পড়তে থাকো!

জারণ সংখ্যা কাকে বলে?(সহজ সংজ্ঞা)

জারণ সংখ্যা (Oxidation Number) কাকে বলে?

সহজ কথায় বলতে গেলে, কোনো অণু বা যৌগের মধ্যে থাকা কোনো পরমাণু ইলেকট্রন ছাড়লে বা গ্রহণ করলে তার ওপর যে ধনাত্মক (+) বা ঋণাত্মক (-) চার্জ বা আধান তৈরি হয়, সেই আধানের সংখ্যাকেই জারণ সংখ্যা বলা হয়।

জারণ সংখ্যা কাকে বলে? (সহজ সংজ্ঞা) | জারণ সংখ্যা এবং যোজনীর মধ্যে পার্থক্য

জারণ সংখ্যা বিস্তারিতভাবে বুঝেনিই

আমরা জানি, একদম সাধারণ বা মুক্ত অবস্থায় প্রতিটি পরমাণুর জারণ সংখ্যা থাকে ০ (শূন্য)। কারণ তখন পরমাণুটি কোনো ইলেকট্রন গ্রহণও করে না, আবার বর্জনও করে না।

কিন্তু যখন পরমাণুগুলো অন্য পরমাণুর সাথে যুক্ত হয়ে যৌগ তৈরি করতে যায়, তখন ঘটনাটি ঘটে:

  • ধনাত্মক আধান (+): কোনো পরমাণু যদি ইলেকট্রন বর্জন বা ত্যাগ করে, তবে তার মধ্যে ধনাত্মক আধান তৈরি হয়।
  • ঋণাত্মক আধান (-): আবার কোনো পরমাণু যদি ইলেকট্রন গ্রহণ বা লাভ করে, তবে তার মধ্যে ঋণাত্মক আধান তৈরি হয়।

যৌগে থাকা বিভিন্ন ধাতু, অধাতু বা মূলকের জারণ সংখ্যা তাদের ওপর তৈরি হওয়া এই আধানের ওপর নির্ভর করে নির্ধারিত হয়। একটি মজার বিষয় হলো, যৌগের প্রকারভেদের ওপর নির্ভর করে একই মৌলের জারণ সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন যৌগে ভিন্ন রকম হতে পারে।

যোজনী (Valency) কাকে বলে?

যোজনী হলো একটি মৌলের পরমাণুর সাথে অন্য একটি মৌলের পরমাণু যুক্ত হওয়ার সামর্থ্য বা ক্ষমতা। সহজ কথায়, একটি পরমাণু অন্য পরমাণুর সাথে যুক্ত হওয়ার জন্য যতগুলো ইলেকট্রন শেয়ার বা আদান-প্রদান করতে পারে, সেই সংখ্যাটিই হলো তার যোজনী

জারণ সংখ্যা এবং যোজনীর মধ্যে পার্থক্য

প্রথম নজরে জারণ সংখ্যা এবং যোজনীকে একই রকম মনে হলেও, এদের মধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। নিচে তা খুব সহজে তুলে ধরা হলো:

বিষয় জারণ সংখ্যা যোজনী
মূল সংজ্ঞা ইলেকট্রন ত্যাগ বা গ্রহণের ফলে পরমাণুতে সৃষ্ট মোট ধনাত্মক বা ঋণাত্মক চার্জের সংখ্যা। একটি মৌলের অন্য মৌলের সাথে যুক্ত হওয়ার মোট ক্ষমতা বা সামর্থ্য।
চিহ্ন (+ / -) জারণ সংখ্যা ধনাত্মক (+) বা ঋণাত্মক (-) উভয়ই হতে পারে। যোজনী সর্বদাই একটি ধনাত্মক সংখ্যা। এর কোনো ঋণাত্মক মান হয় না।
সংখ্যার ধরন জারণ সংখ্যা পূর্ণসংখ্যা (যেমন: +১, -২) কিংবা ভগ্নাংশ (যেমন: +১/২) হতে পারে। যোজনী সবসময় কেবল একটি পূর্ণসংখ্যা হয়, কখনো ভগ্নাংশ হতে পারে না।
মূল প্রকাশ এর মাধ্যমে বন্ধনে যুক্ত হওয়া পরমাণুর প্রকৃতি (ইলেকট্রন দেওয়া বা নেওয়া) প্রকাশ পায়। এর মাধ্যমে শুধুমাত্র মৌলগুলোর যুক্ত হওয়ার ক্ষমতা বোঝানো হয়।

শেষ কথা

আজকের এই সহজ আলোচনার মাধ্যমে আশা করি জারণ সংখ্যা ও যোজনী নিয়ে তোমাদের সব ভয় আর দ্বিধা একদম কেটে গেছে। বিজ্ঞান আর রসায়নের মতো বিষয়গুলোকে মুখস্থ না করে এভাবে বুঝে বুঝে পড়লে পড়ালেখা কিন্তু মোটেও কঠিন মনে হয় না! রসায়ন ছাড়াও অন্যান্য বিষয়ের কঠিন কঠিন সব টপিক খুব সহজে ও আনন্দের সাথে শিখতে আমাদের StudyTika.com ওয়েবসাইটের অন্যান্য পোস্টগুলো নিয়মিত পড়তে পারো। তোমার পড়াশোনাকে আরও সহজ করতে আমরা সবসময় নতুন নতুন তথ্য নিয়ে আসি। লেখাটি ভালো লাগলে তোমার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলো না কিন্তু! রসায়নের যেকোনো প্রশ্ন থাকলে নিচে কমেন্ট করে আমাদের জানিয়ে দাও। সবার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা!

Getting Info...

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Oops!
It seems there is something wrong with your internet connection. Please connect to the internet and start browsing again.