ক্যাপাসিটর কাকে বলে? (সহজ সংজ্ঞা) | ক্যাপাসিটরের প্রকারভেদ | ক্যাপাসিট্যান্স (Capacitance) এবং এর সূত্র | ক্যাপাসিটরের প্রতীক, একক ও চার্জ

 হ্যালো বন্ধুরা! আপনারা কি কখনো ভেবে দেখেছেন, আমাদের বাসার ফ্যান, টিভি, রেডিও বা হাতের স্মার্টফোনটি অন করলেই কিভাবে এত নিখুঁতভাবে কাজ করে? অথবা একটা ছোট ইলেকট্রনিক সার্কিটের ভেতরে এমন কী যাদু থাকে যা বিদ্যুৎকে সামলে রাখে? ইলেকট্রনিক্সের দুনিয়ায় এমন একটি ছোট কিন্তু ভীষণ শক্তিশালী পাওয়ারহাউজ উপাদান আছে, যা ছাড়া প্রায় কোনো সার্কিটই ঠিকঠাক চলতে পারে না! বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ক্যাপাসিটর (Capacitor)। কিন্তু এই ক্যাপাসিটর আসলে জিনিসটা কী? এটা দেখতে কেমন হয়? এটা কিভাবে কাজ করে এবং এর কতগুলো মজার প্রকারভেদ আছে? আর চাকরির পরীক্ষা বা ক্লাসের পরীক্ষায় ক্যাপাসিটর নিয়ে ঠিক কী কী প্রশ্ন আসতে পারে— এসব কি আপনি সহজ ভাষায় একদম পানির মতো পরিষ্কার করে বুঝতে চান? চিন্তার কোনো কারণ নেই! আজকের এই ব্লগে আমরা ক্যাপাসিটরের একদম শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সবকিছু এত সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করেছি যে, যেকোনো ক্লাসের ছাত্র-ছাত্রীরা এক পলকেই সব বুঝে ফেলতে পারবে। তাহলে আর দেরি কেন? চলুন, ক্যাপাসিটরের রহস্য উন্মোচন করতে পুরো লেখাটি মনোযোগ দিয়ে পড়ে নেওয়া যাক!

ক্যাপাসিটর কাকে বলে?(সহজ সংজ্ঞা)

ক্যাপাসিটর (Capacitor) বা ধারক কি? সহজ ভাষায় বিস্তারিত আলোচনা

ক্যাপাসিটর (Capacitor) একটি ইংরেজি শব্দ, যার বাংলা অর্থ হলো ধারক। সহজ কথায় বলতে গেলে, এটি এমন একটি ছোট ইলেকট্রনিক উপাদান যা সাময়িকভাবে বা ক্ষণিকের জন্য বিদ্যুৎ বা চার্জ জমা করে রাখতে পারে। একে আপনি খুব ছোট আকারের একটি রিচার্জেবল ব্যাটারির সাথে তুলনা করতে পারেন। তবে পার্থক্য হলো— ব্যাটারি দীর্ঘ সময় চার্জ ধরে রাখে, আর ক্যাপাসিটর খুব দ্রুত চার্জ জমা করে এবং দরকার হওয়া মাত্রই দ্রুত তা ছেড়ে দেয় (ডিসচার্জ হয়)।

সংজ্ঞা (Definition):

পাঠ্যবইয়ের সহজ ভাষায়: দুটি পরিবাহী ধাতব পাতের (Conducting Plates) মাঝখানে একটি বিদ্যুৎ-অপরিবাহী বা ডাই-ইলেকট্রিক (Dielectric) পদার্থ রেখে তৈরি করা যে বিশেষ যন্ত্রাংশ বৈদ্যুতিক শক্তি জমা রাখতে পারে, তাকে ক্যাপাসিটর বা ধারক বলে।

আজকের এই সহজ আর্টিকেলে আমরা ক্যাপাসিটর সম্পর্কিত প্রতিটি বিষয় খুব সহজ ভাষায় আলোচনা করব। নিচে আমরা যে বিষয়গুলো জানতে পারব:

  • ক্যাপাসিটরের প্রতীক ও একক
  • ক্যাপাসিট্যান্স এবং এর সূত্র
  • ক্যাপাসিটরের বিভিন্ন প্রকারভেদ
  • ইলেকট্রোলাইটিক ক্যাপাসিটর (গঠন ও কাজ)
  • নন-ইলেকট্রোলাইটিক ক্যাপাসিটর (প্রকারভেদসহ)
  • ভ্যারিয়েবল বা পরিবর্তনশীল ক্যাপাসিটর
  • ক্যাপাসিটর সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর
ক্যাপাসিটর কাকে বলে? (সহজ সংজ্ঞা) | ক্যাপাসিটরের প্রকারভেদ | ক্যাপাসিট্যান্স (Capacitance) এবং এর সূত্র | ক্যাপাসিটরের প্রতীক, একক ও চার্জ

ক্যাপাসিটরের প্রতীক, একক ও চার্জ

ক্যাপাসিটর কিভাবে প্রকাশ করা হয় এবং এর পরিমাপের একক কি, তা নিচে সহজে দেওয়া হলো:

  • প্রতীক (Symbol): সার্কিট ডায়াগ্রামে ক্যাপাসিটর বোঝাতে দুটি পাশাপাশি দাগ ব্যবহার করা হয়।
  • এস আই একক (Unit): ক্যাপাসিটরের একক হলো ফ্যারাড (Farad - F)

ফ্যারাড অনেক বড় একটি একক। তাই ব্যবহারের সুবিধার জন্য এর ছোট ছোট একক ব্যবহার করা হয়। যেমন:

  • মাইক্রোফ্যারাড (µF): ১ ফ্যারাডের ১০ লক্ষ ভাগের ১ ভাগ।
  • ন্যানোফ্যারাড (nF): মাইক্রোফ্যারাডের চেয়েও ছোট একক।
  • পিকোফ্যারাড (pF): খুব ছোট মানের জন্য ব্যবহৃত হয়।

ক্যাপাসিট্যান্স (Capacitance) এবং এর সূত্র

ক্যাপাসিটরের বিদ্যুৎ বা চার্জ সঞ্চয় করে রাখার ক্ষমতাকে ক্যাপাসিট্যান্স বলে।

ক্যাপাসিটরের দুই পাতের মধ্যে যখন ভোল্টেজ বা পটেনশিয়াল পার্থক্য থাকে, তখন সেটি চার্জড (Charged) অবস্থায় থাকে। আর যখন পটেনশিয়াল পার্থক্য থাকে না, তখন সেটি ডিসচার্জড (Discharged) অবস্থায় থাকে।

ক্যাপাসিট্যান্স বের করার সূত্র:

ক্যাপাসিট্যান্স = চার্জ / পটেনশিয়াল ডিফারেন্স (ভোল্টেজ)

গাণিতিক রূপ: C = Q / V

এখানে,

  • C = ক্যাপাসিট্যান্স (Capacitance)
  • Q = সঞ্চিত চার্জ (Charge)
  • V = পটেনশিয়াল ডিফারেন্স বা ভোল্টেজ (Voltage)

ক্যাপাসিটরের প্রকারভেদ

ক্যাপাসিটর মূলত দুই ভাগে বিভক্ত:

  1. ইলেকট্রোলাইটিক ক্যাপাসিটর (Polarized)
  2. নন-ইলেকট্রোলাইটিক ক্যাপাসিটর (Non-Polarized)

১. ইলেকট্রোলাইটিক ক্যাপাসিটর (Electrolytic Capacitor)

যে ক্যাপাসিটরে পজেটিভ (+) এবং নেগেটিভ (-) টার্মিনাল বা পোলারিটি নির্দিষ্ট করা থাকে, তাকে ইলেকট্রোলাইটিক ক্যাপাসিটর বলে। এটি তৈরিতে তরল বা কেমিক্যাল ইলেকট্রোলাইট ব্যবহার করা হয়। এটি অল্প জায়গায় বেশি বিদ্যুৎ জমা করতে পারে।

ইলেকট্রোলাইটিক ক্যাপাসিটরের বৈশিষ্ট্য:

  • এটি একটি পোলারাইজড ক্যাপাসিটর (পজেটিভ ও নেগেটিভ পিন থাকে)।
  • প্রধানত ডিরেক্ট কারেন্ট (DC) বা পালসেটিং ডিসি সার্কিটে ব্যবহৃত হয়। AC সার্কিটে এটি ব্যবহার করা যায় না।
  • এর ক্যাপাসিট্যান্সের মান সাধারণত ১ মাইক্রোফ্যারাড (1µF) বা তার বেশি হয়।
  • আকারে বেশ ছোট এবং কার্যক্ষমতা বেশি।
  • রেডিও ফিল্টার ও বাইপাস সার্কিটে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

গঠন ও কার্যনীতি:

দুটি অ্যালুমিনিয়াম (Al) পাতের মাঝখানে একটি বিশেষ তরল বা কেমিক্যাল ইলেকট্রোলাইট (যেমন: অ্যামোনিয়া, বরিক এসিড ও পানির সংমিশ্রণ) রাখা হয়। এরপর এতে ডিরেক্ট কারেন্ট (DC) পাঠালে পজেটিভ পাতের ওপর অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইডের একটি খুব পাতলা স্তর পড়ে। এই স্তরটিই বিদ্যুৎ অপরিবাহী (Insulator) বা ডাই-ইলেকট্রিক হিসেবে কাজ করে।

পুরো ব্যবস্থাটিকে একটি অ্যালুমিনিয়াম ক্যাপসুলের মধ্যে আটকে দেওয়া হয়। সার্কিটে যুক্ত করার সময় পজেটিভ টার্মিনালকে সার্কিটের পজেটিভ লাইনে লাগাতে হয়। ভুলভাবে উল্টো কানেকশন দিলে ভেতরের অক্সাইড স্তর নষ্ট হয়ে ক্যাপাসিটরটি বিস্ফোরিত বা নষ্ট হতে পারে।

ইলেকট্রোলাইটিক ক্যাপাসিটরের প্রকারভেদ:

ইলেকট্রোলাইটিক ক্যাপাসিটর দুই ধরনের হয়ে থাকে:

  • ওয়েট টাইপ (Wet Type): এর একটি প্লেট অ্যালুমিনিয়ামের এবং অন্যটি তরল ইলেকট্রোলাইটিক দ্রবণ দিয়ে তৈরি।
  • ড্রাই টাইপ (Dry Type): এর দুটি প্লেট অ্যালুমিনিয়ামের লম্বা পাত দিয়ে তৈরি এবং মাঝখানে ইলেকট্রোলাইটে ভেজানো বিশেষ কাগজ দিয়ে আলাদা করা থাকে। এরপর এগুলোকে একসাথে পেঁচিয়ে রাখা হয়।

২. নন-ইলেকট্রোলাইটিক ক্যাপাসিটর (Non-Electrolytic Capacitor)

যেসব ক্যাপাসিটরে কোনো পজেটিভ (+) বা নেগেটিভ (-) পোলারিটি চিহ্নিত থাকে না, সেগুলোকে নন-ইলেকট্রোলাইটিক ক্যাপাসিটর বলে। অর্থাৎ এগুলো সার্কিটে যেকোনোভাবে যুক্ত করা যায়।

দুটি ধাতব পাতের মাঝখানে কাগজ, মাইকা, সিরামিক বা পলিয়েস্টারের মতো অপরিবাহী মাধ্যম রেখে প্লাস্টিক বা ধাতব ক্যাপসুলে এটি তৈরি করা হয়। ভেতরে যে অপরিবাহী উপাদান ব্যবহার করা হয়, তার নাম অনুসারেই এদের নামকরণ করা হয়। এদের মান সাধারণত কয়েকশত পিকোফ্যারাড (pF) পর্যন্ত হয়ে থাকে।

নন-ইলেকট্রোলাইটিক ক্যাপাসিটরের বিভিন্ন প্রকারভেদ:

ক. পেপার ক্যাপাসিটর (Paper Capacitor)

এতে অপরিবাহী বা ডাই-ইলেকট্রিক হিসেবে বিশেষ কাগজ ব্যবহার করা হয়। এটি হাই এবং লো—দুই ধরনের ভোল্টেজ সার্কিটেই কাজ করতে পারে। সাধারণত পাওয়ার সাপ্লাই এবং অ্যাম্প্লিফায়ারে কাপলিং ও বাইপাস ক্যাপাসিটর হিসেবে এটি ব্যবহার করা হয়।

খ. সিরামিক ক্যাপাসিটর (Ceramic Capacitor)

এতে ডাই-ইলেকট্রিক হিসেবে সিরামিক ব্যবহৃত হয়। সিরামিকের স্থায়িত্ব বেশি হওয়ায় তাপমাত্রা বা ভোল্টেজ পরিবর্তন হলেও এর কাজের কোনো পরিবর্তন হয় না। এর মান ১ পিকোফ্যারাড থেকে ১০৫ পিকোফ্যারাড এবং ওয়ার্কিং ভোল্টেজ সাধারণত ৫০০ ভোল্ট পর্যন্ত হয়। এটি শর্ট ওয়েভ সার্কিট, টিউনিং, কাপলিং এবং বাইপাস সার্কিটে ব্যবহৃত হয়। তবে এর ধারকত্ব বা ক্যাপাসিট্যান্স বেশ কম।

গ. মাইকা ক্যাপাসিটর (Mica Capacitor)

এতে অপরিবাহী হিসেবে মাইকা (এক ধরণের খনিজ পদার্থ) ব্যবহার করা হয়। সাধারণত এর গায়ে মান ও ভোল্টেজ লেখা থাকে, তবে কিছু ক্ষেত্রে রেজিস্টরের মতো কালার কোড দেওয়া থাকে। এটি হাই ফ্রিকোয়েন্সি আর-এফ (RF) সার্কিটে বেশি ব্যবহৃত হয়।

ঘ. পলিয়েস্টার ক্যাপাসিটর (Polyester Capacitor)

এতে পলিয়েস্টার ফয়েল ব্যবহার করা হয় এবং বাইরে পানি নিরোধক আবরণে ঢাকা থাকে। এর মান 1nF থেকে 15µF পর্যন্ত হতে পারে এবং ওয়ার্কিং ভোল্টেজ ৫০০ ভোল্ট। এটি সস্তা, আকারে ছোট এবং আর্দ্রতা প্রতিরোধী বলে সার্কিটের বিভিন্ন স্থানে (বিশেষ করে কাপলিং ও বাইপাস সার্কিটে) প্রচুর ব্যবহৃত হয়।

ঙ. স্টিলোফ্লেক্স ক্যাপাসিটর (Styroflex Capacitor)

এটি একটি ছোট ও স্বচ্ছ আকারের ক্যাপাসিটর। এর লস অনেক কম এবং ফ্রিকোয়েন্সি ক্যারেক্টারিস্টিক অনেক ভালো। এর ওয়ার্কিং ভোল্টেজ ১২৫ ভোল্ট থেকে ২৫০ ভোল্ট হয়ে থাকে। এটি টিউনিং অসিলেটর সার্কিটে ব্যবহৃত হয়।

চ. মাইকা টিউন্ড ক্যাপাসিটর বা ট্রিমার (Mica Tuned / Trimmer Capacitor)

একে ট্রিমার ক্যাপাসিটরও বলা হয়। এর মান খুব কম (৪ pF থেকে ৭০ pF) হয়। স্ক্রু ঘুরিয়ে এর মান সামান্য পরিবর্তন করা যায়। রেডিওর টিউনিং সার্কিটে সূক্ষ্ম পরিবর্তনের জন্য এটি ব্যবহৃত হয়।

ছ. এয়ার স্পেসড ক্যাপাসিটর (Air Spaced Capacitor)

এই ক্যাপাসিটরে দুটি পাতের মাঝখানে কোনো কঠিন বা তরল পদার্থের বদলে শুধু বাতাস-কে ডাই-ইলেকট্রিক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এর ক্যাপাসিট্যান্স মান খুব কম (০.০১ µF এর নিচে) হয়ে থাকে। রেডিওতে সঠিক স্টেশন ধরার কাজে এটি ব্যবহার করা হয়।

গঠন: এতে দুটি সারিতে অনেকগুলো ধাতব পাত ফাঁকা ফাঁকা করে রাখা থাকে। স্থির পাতগুলোকে বলা হয় স্ট্যাটর (Stator) এবং ভেতরের দিকে ঘোরাঘুরি করতে পারা পাতগুলোকে বলা হয় রোটর (Rotor)। রোটর পাত ঘুরলে স্পর্শ ছাড়াই বাতাসের মাধ্যমে চার্জ কম-বেশি হয়।

৩. ভ্যারিয়েবল ক্যাপাসিটর (Variable Capacitor)

যেসব ক্যাপাসিটরের মান প্রয়োজন অনুযায়ী ইচ্ছামতো বাড়ানো বা কমানো যায়, সেগুলোকে ভ্যারিয়েবল বা পরিবর্তনশীল ক্যাপাসিটর বলে। এতে একাধিক মুভিং বা ঘূর্ণায়মান প্লেট থাকে। প্লেটের অবস্থান পরিবর্তন করে ক্যাপাসিট্যান্স পরিবর্তন করা যায়। রেডিওর চ্যানেল বা টিউন পরিবর্তনের কাজে এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

ক্যাপাসিটর নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন ১: ক্যাপাসিটর কাকে বলে?

উত্তর: ক্যাপাসিটর (বাংলা অর্থ: ধারক) হলো একটি বৈদ্যুতিক উপাদান যা দুটি পরিবাহী পাতের মাঝে অপরিবাহী পদার্থ রেখে তৈরি করা হয় এবং এটি ক্ষণিকের জন্য বৈদ্যুতিক চার্জ সঞ্চয় করে রাখতে পারে।

প্রশ্ন ২: সার্কিটে ক্যাপাসিটরের কাজ বা ভূমিকা কি?

উত্তর: সার্কিটে ক্যাপাসিটরের প্রধান কাজ হলো সাময়িকভাবে চার্জ জমা রাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তা ছেড়ে দেওয়া। এছাড়া সার্কিটে ভোল্টেজের ওঠানামা মসৃণ করা (Filtering) এবং অপ্রয়োজনীয় নয়েজ দূর করার কাজও ক্যাপাসিটর করে থাকে।

প্রশ্ন ৩: পাওয়ার সাপ্লাইতে কি ধরনের ক্যাপাসিটর ব্যবহার করা উচিত?

উত্তর: পাওয়ার সাপ্লাই সার্কিটে সবসময় উন্নত মানের ও সঠিক ভোল্টেজ রেটিংয়ের ক্যাপাসিটর ব্যবহার করা উচিত। সার্কিটের সাপ্লাই ভোল্টেজ যত, ক্যাপাসিটরের ভোল্টেজ রেটিং অবশ্যই তার চেয়ে বেশি হতে হবে। তা না হলে ক্যাপাসিটর নষ্ট বা লিক হয়ে যেতে পারে।

প্রশ্ন ৪: ক্যাপাসিটরের পিএফ (pF) মান কীভাবে নির্ণয় করা হয়?

উত্তর: পিএফ (pF) ক্যাপাসিটরের গায়ে ৩ ডিজিটের কোড লেখা থাকে। শেষ ডিজিটটি নির্দেশ করে প্রথম দুটি ডিজিটের পাশে কয়টি শূন্য বসবে।

উদাহরণ:

  • ১০১ = ১০ এর পর ১টি শূন্য = ১০০ pF
  • ১০২ = ১০ এর পর ২টি শূন্য = ১০০০ pF বা ১ nF (ন্যানোফ্যারাড)
  • ১০৫ = ১০ এর পর ৫টি শূন্য = ১,০০০,০০০ pF বা ১ µF (মাইক্রোফ্যারাড)
ক্যাপাসিটরের পিএফ কোড ও মান নির্ণয়ের চার্ট

পরিশেষে

ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্সের জগতে ক্যাপাসিটর সত্যিই এক চমৎকার উপাদান! আশা করি আজকের এই সহজ আলোচনার পর ক্যাপাসিটর সম্পর্কিত আপনাদের সব ভয় বা দ্বিধা দূর হয়ে গেছে এবং বিষয়গুলো আপনারা খুব সুন্দরভাবে বুঝতে পেরেছেন। পড়াশোনা, বিজ্ঞান এবং বিভিন্ন কঠিন বিষয়কে একদম সহজ ভাষায় শিখতে নিয়মিত আমাদের ওয়েবসাইট StudyTika.com-এ চোখ রাখুন। এখানে আপনাদের জন্যই প্রতিদিন শিক্ষামূলক এবং তথ্যবহুল অসংখ্য আর্টিকেল শেয়ার করা হয়। আপনার পড়ালেখাকে আরও একধাপ এগিয়ে নিতে এখনই আমাদের ওয়েবসাইটের অন্যান্য বিষয়ভিত্তিক পোস্টগুলো পড়ে ফেলুন এবং জ্ঞান বাড়িয়ে নিন! আজকের পোস্টটি আপনার ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে কিন্তু একদম ভুলবেন না। আপনার পড়াশোনা সহজ ও সুন্দর হোক—ধন্যবাদ!

Getting Info...

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Oops!
It seems there is something wrong with your internet connection. Please connect to the internet and start browsing again.