রসায়নের এসিড অধ্যায় অনেক শিক্ষার্থীর কাছেই একটু কঠিন মনে হয়। বিশেষ করে জৈব এসিড আর অজৈব এসিড নিয়ে প্রশ্ন পরীক্ষায় প্রায়ই আসে। কিন্তু বিষয়টি আসলে এত কঠিন নয়। যদি সহজ ভাষায় বুঝে নেওয়া যায়, তাহলে খুব সহজেই মনে রাখা সম্ভব। এই লেখায় আমরা ধাপে ধাপে খুব সহজ ভাষায় বিষয়গুলো জানব। তাই পুরো লেখাটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন, আশা করি শেষে আর কোনো বিভ্রান্তি থাকবে না।
জৈব এসিড এবং অজৈব এসিড: সহজ পাঠ
রসায়ন বিজ্ঞানে এসিড একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমাদের চারপাশের অনেক খাবারে এবং বিভিন্ন রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় এসিড ব্যবহার করা হয়। উৎস এবং গঠনের ওপর ভিত্তি করে এসিডকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়: জৈব এসিড এবং অজৈব এসিড। নিচে এদের সম্পর্কে বিস্তারিত এবং সহজভাবে আলোচনা করা হলো।
১. জৈব এসিড (Organic Acid) কাকে বলে?
সংজ্ঞা: যে সকল এসিড সাধারণত উদ্ভিদ বা জীবদেহ থেকে পাওয়া যায় এবং যেগুলোর গঠনে কার্বন (Carbon) বিদ্যমান থাকে, সেগুলোকে জৈব এসিড বলে।
সহজ কথায়, জৈব এসিড হলো এক ধরণের জৈব যৌগ (Organic Compound) যার মধ্যে অম্লীয় বা টক বৈশিষ্ট্য থাকে। এই এসিডগুলোর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, এদের অণুতে এক বা একাধিক কার্বক্সিল মূলক (-COOH) থাকে।
জৈব এসিডের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য:
- মৃদু এসিড: জৈব এসিডসমূহ সাধারণত দুর্বল বা মৃদু (Weak) এসিড হয়। এগুলো পানিতে পুরোপুরি ভেঙে যায় না।
- উৎস: এগুলো জীবদেহে (উদ্ভিদ ও প্রাণী) প্রাকৃতিক উপায়ে তৈরি হয়।
- খাদ্যোপাদান: আমরা যেসব টক ফল খাই, সেগুলোতে জৈব এসিড থাকে।
জৈব এসিডের উদাহরণ:
- ফরমিক এসিড (HCOOH): এটি লাল পিঁপড়া বা মৌমাছির হুল ফুটানোর সময় আমাদের শরীরে প্রবেশ করে।
- অ্যাসিটিক এসিড (CH₃COOH): এটি ভিনেগার বা সিরকায় থাকে।
- প্রাকৃতিক উৎস: তেঁতুল (টারটারিক এসিড), লেবু (সাইট্রিক এসিড), পেয়ারা (অ্যাসকরবিক এসিড) ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে জৈব এসিড পাওয়া যায়।
২. অজৈব এসিড (Inorganic Acid) কত প্রকার ও কি কি?
যে সকল এসিড সাধারণত খনিজ পদার্থ থেকে তৈরি হয় এবং জীবদেহে পাওয়া যায় না, সেগুলোকে অজৈব এসিড বা খনিজ এসিড (Mineral Acid) বলে।
গঠন উপাদান অনুযায়ী অজৈব এসিড প্রধানত দুই প্রকার। নিচে এদের পরিচয় দেওয়া হলো:
ক) হাইড্রাসিড (Hydracid):
যে সকল অজৈব এসিডের অণুতে হাইড্রোজেন (H) এবং অন্য একটি অধাতব মৌল থাকে, কিন্তু কোনো অক্সিজেন থাকে না, সেগুলোকে হাইড্রাসিড বলে।
- অন্য নাম: হাইড্রাসিডের অপর নাম হলো হ্যালোজেন এসিড (কারণ এগুলো সাধারণত হ্যালোজেন গ্রুপের মৌল দিয়ে তৈরি হয়)।
- উদাহরণ: হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCl), হাইড্রোব্রোমিক এসিড (HBr)। এখানে হাইড্রোজেন ও অধাতু আছে, কিন্তু কোনো অক্সিজেন নেই।
খ) অক্সি এসিড (Oxy-acid):
যে সকল অজৈব এসিডের অণুতে হাইড্রোজেনের পাশাপাশি অক্সিজেন (O) এবং অন্য একটি অধাতব মৌল অবশ্যই উপস্থিত থাকে, সেগুলোকে অক্সি এসিড বলে।
- সহজ চেনার উপায়: এই এসিডগুলোর সংকেতে সবসময় অক্সিজেন দেখতে পাওয়া যাবে।
- উদাহরণ: সালফিউরিক এসিড (H₂SO₄), নাইট্রিক এসিড (HNO₃)। খেয়াল করলে দেখবেন, এগুলোতে অক্সিজেন রয়েছে।
৩. অজৈব এসিডের নামকরণ (Naming of Inorganic Acids)
অজৈব এসিডের নাম কীভাবে রাখা হয়? এটি মূলত নির্ভর করে ওই এসিডের অণুতে উপস্থিত অ্যানায়ন (Anion বা ঋণাত্মক অংশ) এর ওপর।
নিচে নামকরণের একটি সহজ নিয়ম দেওয়া হলো:
আইড (-ide) থেকে ইক (-ic) নিয়ম:
যদি কোনো এসিডের ঋণাত্মক অংশ বা অ্যানায়নের নামের শেষে ‘আইড’ (-ide) থাকে, তবে এসিডের নামকরণ করার সময় সেই ‘আইড’ বাদ দিয়ে সেখানে ‘ইক’ (-ic) বসাতে হয়। একই সাথে নামের শুরুতে একটি ‘হাইড্রো’ (Hydro) শব্দ যোগ করতে হয় (হাইড্রোজেনের উপস্থিতি বোঝানোর জন্য)।
সহজ উদাহরণ:
- HCl এসিডের ঋণাত্মক অংশটি হলো ক্লোরাইড (Chloride)।
- নিয়ম অনুযায়ী: হাইড্রো + ক্লোর + ইক = হাইড্রোক্লোরিক এসিড (Hydrochloric Acid)।