প্রতিটি বড় কোম্পানি বা ফ্যাক্টরি কীভাবে প্রতিদিন এত সুন্দরভাবে কাজ সম্পন্ন করে, তা কি কখনো ভেবে দেখেছেন? শুধু মানুষের ইচ্ছেমতো কাজ করলেই কি এত বড় বড় প্রতিষ্ঠান লাভজনকভাবে চলতে পারে, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে কোনো বিশেষ ম্যাজিক সূত্র? পুরোনো দিনের আন্দাজনির্ভর কাজের ধারাপাত বদলে দিয়ে কীভাবে আধুনিক ব্যবসা জগতে এক বিরাট বিপ্লব এসেছিল? কীভাবে একজন সাধারণ শিক্ষানবিশ থেকে শুরু করে একজন গবেষক পুরো শিল্পজগতের কাজের চিত্রটাই বদলে দিয়েছিলেন—তার সেই রোমাঞ্চকর পথচলা ও মূল আইডিয়া সম্পর্কে জানতে আমাদের আজকের আয়োজন!
এইচএসসি বা যেকোনো ক্লাসের শিক্ষার্থী হিসেবে ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনাকে যদি পানির মতো সহজ ভাষায় মুখস্থ ছাড়া বুঝতে চান, তবে এই পোস্টটি আপনার জন্যই। চলুন, কথা না বাড়িয়ে পোস্টটি শেষ পর্যন্ত পড়ে নেওয়া যাক!
বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা কাকে বলে? (Definition of Scientific Management)
সহজ কথায়, বিজ্ঞানসম্মত নিয়ম, পদ্ধতি ও কৌশল ব্যবহার করে কোনো প্রতিষ্ঠানের কাজ পরিচালনা করাকে বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা (Scientific Management) বলে।
পুরোনো বা অনুমানভিত্তিক উপায়ে কাজ না করে, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সঠিক পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সবচেয়ে কম খরচে ও কম সময়ে নিখুঁতভাবে কাজ সম্পন্ন করার নামই বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা।
বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার বিস্তারিত ধারণা ও পটভূমি
বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার জনক হলেন এফ. ডব্লিউ. টেলর (Frederick Winslow Taylor)। তিনি একজন সাধারণ শিক্ষানবিশ (Apprentice) হিসেবে কাজ শুরু করে পরবর্তীতে প্রধান প্রকৌশলী (Chief Engineer) পদে দীর্ঘ দু'যুগ (প্রায় ২৪ বছর) দায়িত্ব পালন করেন।
কর্মজীবনে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সমস্যা খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয় তাঁর। এসব সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানের বিজ্ঞানসম্মত পথ খুঁজতে তিনি দীর্ঘ দুই দশক (২০ বছর) ধরে নানা গবেষণা চালান। তাঁর এই দীর্ঘ গবেষণার ফলাফল ও মূল ভাবনাগুলো পরবর্তীতে একটি বিশেষ দর্শনে রূপ নেয়, যা ব্যবসায় জগতে 'বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা' নামে পরিচিতি পায়।
বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার মূল উদ্দেশ্য
- পুরোনো পদ্ধতির পরিবর্তন: আন্দাজ বা অনুমানের ওপর ভিত্তি করে কাজ না করে বৈজ্ঞানিক উপায়ে সঠিক কাজের পদ্ধতি বের করা।
- দক্ষতা ও উৎপাদন বৃদ্ধি: শ্রমিকদের সঠিক প্রশিক্ষণ দিয়ে কম খরচে ও কম পরিশ্রমে সর্বোচ্চ উৎপাদন নিশ্চিত করা।
- মালিক ও শ্রমিকের সুসম্পর্ক: কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করে মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে সহযোগিতার ভাব গড়ে তোলা।
- অপচয় রোধ: সময়, কাঁচামাল ও শ্রমের অপচয় কমিয়ে প্রতিষ্ঠানের লাভ বাড়ানো।