আজকের এই ব্লগপোস্টে আছে একটি সুন্দর ভাবসম্প্রসারণ — “প্রথম যেদিন তুমি এসেছিল ভবে, তুমি মাত্র কেঁদেছিলে, হেসেছিল সবে...”। ছোট এই লেখাটিতে আছে জীবনের এক গভীর বার্তা। পুরো ভাবসম্প্রসারণটি পড়লে তোমার মন ছুঁয়ে যাবে। তাই একবার পড়েই দেখো!
প্রথম যেদিন তুমি এসেছিল ভবে,তুমি মাত্র কেঁদেছিলে, হেসেছিল সবে। এমন জীবন হবে করিতে গঠন,মরণে হাসিবে তুমি, কাঁদিবে ভুবন
মূলভাব : মানবশিশু যখন পৃথিবীতে ভূমিষ্ট হয় তখন অজানা-অচেনা পরিবেশে সে আর্তচিৎকার দ্বারা তার আগমনবার্তা সবাইকে জানিয়ে দেয়। অন্যদিকে তাকে পাওয়ার আনন্দে সবাই হয়ে ওঠে আত্মহারা। তাই মানুষের উচিত মহৎকর্ম দিয়ে এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করা যাতে তার মৃত্যুতে তাকে হারানোর বেদনায় জগদ্বাসী আর্তনাদ করে এবং তা দেখে সে হাসিমুখে মৃত্যুবরণ করতে পারে।
সম্প্রসারিত ভাব : মানবশিশুর শুভাগমনে পরিবার পরিজন তথা পরিপাশ্বের মানুষেরা আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে ওঠে। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এ আনন্দ স্থায়ী রূপ লাভ করতে পারে বা। কারণ অধিকাংশ মানবশিশু বড় হয়ে আত্মপ্রতিষ্ঠা ও মহৎকর্মের মধ্য দিয়ে জীবনে সার্থকতা লাভে ব্যর্থ হয়। দুঃখ-দৈন্য, অভাব-অভিযোগ, পরিবেশ-প্রতিবেশির নেতিবাচক প্রভাব, নিজের কুপ্রবৃত্তির তাড়না প্রভৃতি কারণে অধিকাংশ মানুষের জীবন ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। কিন্তু এসব নেতিবাচকের হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করে যারা সম্মুখে অগ্রসর হন তারাই পারেন নিজের জীবনকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে। এ শ্রেণির মানুষ একদিকে শিল্প-সংস্কৃতি ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চা করেন, অন্যদিকে দুঃখ দৈন্য, হতাশা-ব্যর্থতা এসবের সঙ্গে নিরন্তর সংগ্রাম করে স্ব স্ব ক্ষেত্রে সাফল্য লাভ করে থাকেন। আর এঁরা কেবল নিজের জীবনকেই সুন্দর ও শোভনীয় করে গড়ে তুলেন না; বরং সমাজকেও সুন্দরভাবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
মন্তব্য : মানুষের জীবন ক্ষণস্থায়ী। এ ক্ষণস্থায়ী জীবনকে যারা সুন্দর ও সফলভাবে গড়ে তুলতে পারেন তাদের মৃত্যু জীবনের পরিসমাপ্তি নয়, বরং অমরত্ব লাভের সোপানমাত্র। এই শ্রেণির মানুষ কেউ নতুন কিছু আবিষ্কার করে সমাজের উন্নতিতে সাহায্য করেন, কেউ সমাজ সংস্কারে নিজেকে উৎসর্গ করেন, আবার কেউ অশিক্ষা, দারিদ্র্য, কুসংস্কার বা সন্ত্রাস দূর করার জন্য কাজ করেন। কারণ তারা বুঝেন—যেমন একটি ফুল ঠিকভাবে ফুটতে হলে গাছ ও বাগানের যত্ন দরকার, তেমনি একজন মানুষের জীবনকে সুন্দরভাবে গড়তে হলে সমাজকেও সুন্দর করে গড়ে তুলতে হয়। তাই তারা মানবকল্যাণ ও দেশের সেবায় প্রয়োজনে হাসিমুখে মৃত্যুকেও গ্রহণ করতে পিছপা হন না। কিন্তু এমন মহৎ মানুষের মৃত্যুতে সমাজ গভীরভাবে শোকাহত হয়, আর সেই শোক অনেক বছর, এমনকি যুগের পর যুগ, মানুষের মনে থেকে যায়। আমাদেরও উচিত এসব মহান মানুষের পথ অনুসরণ করে মানুষের উপকারে নিজেকে নিয়োজিত করা, যেন আমরা পৃথিবীতে এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে উঠতে পারি।
ভাবসম্প্রসারণটি যদি ভালো লাগে, তাহলে StudyTika.com-এ আরও অনেক সহজ ও সুন্দর ভাবসম্প্রসারণ তোমার জন্য অপেক্ষা করছে। দেখে নিয়ো — তুমি উপকৃত হবে!