ভাবসম্প্রসারণঃ নানান দেশের নানান ভাষা,বিনা স্বদেশী ভাষা পুরে কি আশা? [Class 6 7 8 9 10 ‍SSC HSC]

এই ব্লগপোস্টে রয়েছে একটি চমৎকার ভাবসম্প্রসারণ— “নানান দেশের নানান ভাষা, বিনা স্বদেশী ভাষা পুরে কি আশা?”। সহজ ভাষায় লেখা এই ভাবসম্প্রসারণটি পড়লে বিষয়টি ভালোভাবে বুঝতে পারবে। তাহলে চল শুরু করা যাক!

ভাবসম্প্রসারণঃ নানান দেশের নানান ভাষা,বিনা স্বদেশী ভাষা পুরে কি আশা? [Class 6 7 8 9 10 ‍SSC HSC]

নানান দেশের নানান ভাষা বিনা স্বদেশী ভাষা মিটে কি আশা For Class 6

বিশ্বের নানা ভাষার মধ্যে মাতৃভাষা মানুষের জন্য সবচেয়ে প্রিয় এবং স্বাভাবিক। মাতৃভাষার মাধ্যমে মানুষ সহজেই তার গভীর ভাব, সূক্ষ্ম অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ করতে পারে। বিদেশি ভাষা শেখা সম্ভব হলেও, মাতৃভাষার মতো আন্তরিকতা ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে তা প্রকাশ করা যায় না।

শৈশব থেকেই মায়ের মুখে শেখা মাতৃভাষা মানুষের হৃদয়ের সাথে গভীরভাবে যুক্ত। মাতৃভাষায় মনের ভাব প্রকাশের যে গভীরতা ও আত্মার সংযোগ আছে, তা অন্য কোনো ভাষায় খুঁজে পাওয়া যায় না। এই কারণে মাতৃভাষাই শিশুর বুদ্ধি ও বিকাশের জন্য সবচেয়ে সহায়ক।

মা, মাটি ও মাতৃভাষা আমাদের অস্তিত্বের মূল ভিত্তি। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় আমরা রক্ত দিয়েছি, এবং সেই আত্মত্যাগের ফলে বাংলা ভাষা আজ আন্তর্জাতিকভাবে সম্মানিত। তাই মাতৃভাষা আমাদের জন্য সর্বোচ্চ এবং মনের ভাব প্রকাশের সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম।

নানান দেশের নানান ভাষা বিনা স্বদেশী ভাষা মিটে কি আশা For Class 7


মূলভাব: পৃথিবীর সব ভাষার মধ্যে মাতৃভাষা মানুষের জন্য সেরা। মাতৃভাষায় মনোভাব সহজে এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রকাশ করা যায়, যা অন্য ভাষায় সম্ভব নয়।

সম্প্রসারিত ভাব: মাতৃভাষা মানুষের সবচেয়ে প্রিয় এবং ভাব প্রকাশের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত। অন্য ভাষার তুলনায় মাতৃভাষায় মানুষ সহজেই তার মনের ভাব প্রকাশ করতে পারে। প্রতিটি জাতির ভাষায় এমন বৈশিষ্ট্য থাকে যা মানুষের আবেগ ও অনুভূতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। তাই আনন্দ, দুঃখ এবং অন্যান্য আবেগ প্রকাশের সেরা মাধ্যম হলো মাতৃভাষা। দক্ষ ব্যক্তি বহু ভাষায় পারদর্শী হতে পারেন, তবে মনের ভাব প্রকাশে মাতৃভাষাই প্রধান। শিশুকাল থেকেই মানুষ মাতৃভাষার সঙ্গে পরিচিত হয় এবং সহজে অনুভূতি প্রকাশ করতে শেখে। অন্য ভাষায় সাহিত্যিক গভীরতা অর্জন কঠিন; যেমন মাইকেল মধুসূদন দত্ত ইংরেজি সাহিত্যে মনোযোগ দিলেও শেষ পর্যন্ত বাংলাতেই ফিরে এসেছেন। তাই মাতৃভাষা মানুষের জন্য সবচেয়ে প্রিয় এবং ভাব প্রকাশের সেরা মাধ্যম।

মন্তব্য: মাতৃভাষা ছাড়া কোন ব্যক্তির প্রকৃত সাফল্য অর্জন সম্ভব নয়। এজন্য সকলের উচিত মাতৃভাষার প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করা।

নানান দেশের নানান ভাষা বিনা স্বদেশী ভাষা মিটে কি আশা For Class 8

মূলভাব: মাতৃভাষা মানুষের জন্মগত অধিকার, এবং এতে যে আনন্দ ও আত্মতৃপ্তি পাওয়া যায়, তা অন্য কোনো ভাষায় সম্ভব নয়। হাজারো ভাষা থাকলেও মায়ের ভাষাই মানুষের অনুভূতি ও ভাব প্রকাশের শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। মনের গভীর ভাব, আশা ও আকাঙ্ক্ষার সঠিক প্রকাশ কেবল মাতৃভাষাতেই সম্ভব। 

সম্প্রসারিত ভাব: ভাষা শুধু ভাব প্রকাশের মাধ্যম নয়, এটি পূর্ব প্রজন্মের জ্ঞান ও চিন্তাভাবনা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেয়। পৃথিবীর মানুষের মতো ভাষার বৈচিত্র্যও রয়েছে। প্রতিটি জাতির ভাষা সেই জাতির সংস্কৃতি ও পরিচয়ের প্রতীক।

আমরা মাতৃভাষা ছাড়াও অন্য ভাষা শিখি; তবে কোনো বিষয় গভীরভাবে উপলব্ধি করতে এবং প্রকাশ করতে মাতৃভাষাই সবচেয়ে সহজ। মাইকেল মধুসূদন দত্ত তাঁর মাতৃভাষাকে অবজ্ঞা করে ইংরেজিতে সাহিত্য রচনা করতে গিয়ে বহু দুঃখ পেয়েছিলেন, এবং শেষমেশ বাংলা ভাষাতেই ফিরে এসে লেখেন তাঁর অমর রচনা ‘বঙ্গভাষা’। তাঁর জীবনেই প্রমাণিত যে মাতৃভাষা ছাড়া আত্মতৃপ্তি অসম্ভব।

যারা বিদেশে থাকেন, তাঁরাও বিদেশি ভাষায় কাজ চালালেও মাতৃভাষায় কথা বলতেই সবচেয়ে বেশি তৃপ্তি পান। জাতীয় ও ব্যক্তিগত বিকাশে মাতৃভাষার গুরুত্ব অসীম। আমাদের ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসই বলে, মাতৃভাষা আমাদের কতটা মূল্যবান। যেমন মাতৃভূমি প্রিয়, তেমনই মাতৃভাষা প্রতিটি জাতির কাছে অমূল্য।

নানান দেশের নানান ভাষা বিনা স্বদেশী ভাষা মিটে কি আশা For SSC


মূল ভাব: মাতৃভাষা মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ, যা তাকে তার মনের ভাব সহজেই প্রকাশ করতে সহায়তা করে এবং পূর্ণ তৃপ্তি এনে দেয়।

সম্প্রসারিত ভাব: স্বদেশি ভাষা বলতে মূলত মানুষের মাতৃভাষাকে বোঝায়। মাতৃভাষা ছাড়া মনের ভাব পুরোপুরি প্রকাশ করা কঠিন। শিশু বয়স থেকেই আমরা মাতৃভাষায় কথা বলি ও ভাবনা প্রকাশ করি; এটি পরিচিত এবং আত্মিক। মাতৃভাষা এমন একটি মাধ্যম যা দিয়ে সহজে, সাবলীলভাবে এবং প্রাণবন্তভাবে মনের ভাব প্রকাশ করা যায়। বিদেশি ভাষা শেখা সম্ভব হলেও, মাতৃভাষার মতো চিন্তা ও অনুভূতির গভীরতা অন্য কোনো ভাষায় ফুটিয়ে তোলা যায় না।

মানুষের জন্মভূমির সাথে তার আবেগ, পরিবেশ, সংস্কৃতি ও ভাষা মিলে এক গভীর সংযোগ সৃষ্টি করে। এই মাতৃভাষা সেই সংযোগের প্রধান বাহন যা মানুষকে স্বাচ্ছন্দ্য ও তৃপ্তি এনে দেয়। বিভিন্ন জাতির মধ্যে মাতৃভাষার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা তাদের সংস্কৃতির প্রতিফলন ঘটায়। পৃথিবীর ইতিহাসে যেসব জাতি তাদের মাতৃভাষায় জ্ঞানচর্চা ও শিক্ষা-বিকাশে মনোযোগী হয়েছে, তারা অনেক ক্ষেত্রেই উন্নতির শিখরে পৌঁছেছে।

বিশ্বের অসংখ্য বিদ্বান ও জ্ঞানী ব্যক্তি বিভিন্ন ভাষার ওপর দক্ষতা অর্জন করলেও তাদের অর্জিত জ্ঞানকে মাতৃভাষায়ই সেরা ভাবে প্রকাশ করতে পেরেছেন, কারণ মাতৃভাষার মাধ্যমে অনুভূতি ও চিন্তা সঠিকভাবে ফুটে ওঠে। তাই মাতৃভাষায় নিজের ভাব প্রকাশ করা অন্য ভাষায় পরিপূর্ণভাবে সম্ভব নয় এবং এই কারণেই মাতৃভাষার মাধ্যমেই মানুষ তার পূর্ণ তৃপ্তি লাভ করে।

মন্তব্য: আমাদের চিন্তা-চেতনা ও আশা-আকাঙ্ক্ষার রূপায়ণ ঘটে মাতৃভাষার মাধ্যমে। মাতৃভাষাই মানুষের ভাব প্রকাশের সবচেয়ে প্রভাবশালী ও প্রিয় মাধ্যম, যার দ্বারা মানুষের মনের গভীর তৃপ্তি অর্জিত হয়।

নানান দেশের নানান ভাষা বিনা স্বদেশী ভাষা মিটে কি আশা For HSC

মূলভাব: মাতৃভাষার মাধ্যমেই আমরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে মনের ভাব প্রকাশ করি। মাতৃভাষার মতো প্রিয় আর মধুর কোনো ভাষা নেই।

সম্প্রসারিত ভাব: মাতৃভাষা বা স্বদেশী ভাষা মানুষের জন্য মাতৃস্তন্যের মতো। যেমন শিশুর তৃষ্ণা মাতৃস্তন্য ছাড়া মেটেনা, তেমনি মাতৃভাষা ছাড়া মানুষ প্রাণ উজাড় করে মনের ভাব প্রকাশ করতে পারে না। বাংলা আমাদের মাতৃভাষা। জন্মের পর থেকে আমরা এই ভাষায় কথা বলি, ভাবনা প্রকাশ করি, খাই-দাই, স্বপ্ন দেখি ও ঘুমাই। বাংলা ভাষার সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমাদের জাতীয় ঐতিহ্য ও অস্তিত্বের চেতনাও। আমরা বাংলায় সহজে ও সাবলীলভাবে মনের ভাব প্রকাশ করতে পারি, যা অন্য ভাষায় সম্ভব নয়। বিদেশি ভাষায় দক্ষতা অর্জন করা সম্ভব, কিন্তু মাতৃভাষার মতো গভীরভাবে প্রকাশ করা যায় না। বিদেশি ভাষা আমাদের স্বপ্ন, আশা ও আকাঙ্ক্ষাকে পূর্ণতা দিতে পারে না। তাই শিক্ষার ক্ষেত্রে সর্বদা মাতৃভাষাকেই প্রধান্য দেওয়া উচিত।

কিন্তু আমাদের দেশে এমন অনেক মানুষ আছে, যারা নিজেদের ভাষাকে অবজ্ঞার চোখে দেখে, বিদেশি ভাষার প্রতি বেশি আগ্রহী হয়। এ ধরনের মানুষ জাতির জন্য কলঙ্ক। এরা অতি হীনমনের অধিকারী। এরা কখনো জীবনে জ্ঞানে পরিপূর্ণতা অর্জন করতে পারে না। কারণ তাদের রক্তমজ্জাতে মিশে আছে বাংলা ভাষা ও বাঙালি সংস্কৃতি। ওপরে ওপরে তারা যতই ইংরেজ বা ফরাসি সাজার চেষ্টা করুক, তারা তা কখনো করতে পারবে না।

প্রখ্যাত কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত আমাদের জন্য দৃষ্টান্ত। অসীম প্রতিভা ও পাণ্ডিত্যের থাকা সত্ত্বেও তিনি ইংরেজি সাহিত্যে প্রতিষ্ঠিত হতে পারেননি এবং শেষ পর্যন্ত ফিরে এসেছেন মাতৃভাষার কাছে। কবি আবদুল হাকিমের ভাষায়, যারা মাতৃভাষাকে অবজ্ঞা করেন, তাদের বংশপরিচয়ও সন্দেহযোগ্য। সত্যিই, মাতৃভাষা ছাড়া মানুষ পরিপূর্ণভাবে বিকশিত হতে পারে না। পৃথিবীতে হাজারো ভাষা থাকলেও মাতৃভাষাই মানুষের আশা, আকাঙ্ক্ষা ও মনের তৃপ্তি প্রকাশের একমাত্র মাধ্যম। প্রতিটি মানুষের কাছে তার মাতৃভাষা মা-সদৃশ প্রিয়, কারণ এ ভাষার মধ্যেই তার অস্তিত্ব নিহিত।

 এই ছিল আমাদের আজকের ভাবসম্প্রসারণ। আশা করি, বুঝতে সহজ হয়েছে। এমন আরও সুন্দর ভাবসম্প্রসারণ পড়তে চাইলে ঘুরে আসো আমাদের ওয়েবসাইটে— StudyTika.com। এখানে নিয়মিত নতুন নতুন ভাবসম্প্রসারণ দেওয়া হয়। পড়ে দেখো, ভালো লাগবে!

Getting Info...

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Oops!
It seems there is something wrong with your internet connection. Please connect to the internet and start browsing again.