ভাবসম্প্রসারণঃ স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে স্বাধীনতা রক্ষা করা কঠিন [Class 6 7 8 9 10 ‍SSC HSC]

এই ব্লগপোস্টে আপনি পাবেন একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাবসম্প্রসারণ — স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে স্বাধীনতা রক্ষা করা কঠিন। ভাবসম্প্রসারণটি খুব সহজ ভাষায় লেখা হয়েছে, যাতে সবাই ভালো করে বুঝতে পারে। আশা করি, এই ভাবসম্প্রসারণটি পড়ে আপনার ভাষার দক্ষতা আরও বাড়বে এবং পড়ার আগ্রহ থাকবে।

ভাবসম্প্রসারণঃ স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে স্বাধীনতা রক্ষা করা কঠিন [Class 6 7 8 9 10 ‍SSC HSC]

স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে স্বাধীনতা রক্ষা করা কঠিন

মূলভাব: পরাধীনতার নাগপাশ ছিন্ন করে স্বাধীনতা অর্জন করা অত্যন্ত দুরূহ কাজ। কিন্তু অর্জিত স্বাধীনতাকে যথার্থভাবে রক্ষা করতে আরও অনেক বেশি ত্যাগ, সাধনা, পরিশ্রম ও নিষ্ঠার প্রয়ােজন হয়। সর্বোপরি প্রয়ােজন দেশের জনগণের পারস্পরিক ঐক্য ও দেশপ্রেম।

ভাবসম্প্রসারণ: স্বাধীনতা সকলেরই কাম্য। স্বাধীনতা যতই মধুর শোনাক, তা সহজভাবে অর্জন করা যায় না। বহু ত্যাগ, রক্ত এবং জীবনের বিনিময়ে এটি লাভ করা হয়। পৃথিবীর কোনো জাতিই বিনা কষ্টে স্বাধীনতা অর্জন করতে পারেনি। তবে স্বাধীনতা অর্জনই শেষ কথা নয়; অর্জিত স্বাধীনতাকে রক্ষা করাও অনেক কঠিন। কারণ স্বাধীনতার শত্রুরা কখনও তা নির্বিঘ্নে ভোগ করতে দেয় না। স্বাধীনতা অর্জনের পর শত্রুরা তা বিনষ্ট করার জন্য সবসময় তৎপর থাকে। এ ধরনের শত্রু দেশের ভেতরে ও বাইরে বিদ্যমান। তাই সবাইকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে, যেন ভেতরের শত্রু মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে এবং বাইরের শত্রু সঙ্গে হাত মেলাতে না পারে। অপরদিকে, বিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠন করা, শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা, আর অর্থনৈতিক উন্নতি সাধন করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। তাই কষ্টার্জিত স্বাধীনতাকে অর্থবহ করতে দেশের নারী-পুরুষ সকলকে মাঠে, কলকারখানায়, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সংস্কৃতি ও কৃষ্টি চর্চায় আন্তরিকভাবে নিয়োজিত হতে হবে। দেশের সকল নাগরিক যদি একতাবদ্ধভাবে দেশের অগ্রগতির জন্য কাজ করে, তবে স্বাধীনতা বিপন্ন হওয়ার কোন আশঙ্কা থাকে না। দেশের অর্থনৈতিক দুর্বলতা, জনগণের অসচেতনতা বা দেশপ্রেমের অভাব থাকলে স্বাধীনতা বিপন্ন হতে পারে। একতাবদ্ধ নাগরিক দেশের যেকোনো বিপদ মোকাবিলা করতে পারে এবং প্রয়োজনে রক্ত ও জীবনও বিসর্জন দিতে দ্বিধা করে না।

স্বাধীনতা লাভ করলেই কর্তব্য শেষ হয় না, একে মর্যাদার সাথে রক্ষা করে পূর্ণতা দিতে পারলেই অর্থবহ হবে। স্বাধীন জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হলে সকলকেই পরিশ্রমী, দায়িত্বশীল, কর্তব্যপরায়ণ ও দেশপ্রেমিক হতে হবে।

এই একই ভাবসম্প্রসারণটি অন্য বই থেকেও সংগ্রহ করে দেয়া হলো

মূলভাব: যে কোনাে জাতির জীবনে স্বাধীনতা সূর্যকে ছিনিয়ে আনা কষ্টকর এবং তার চেয়েও কষ্টকর ঐ স্বাধীনতারক্ষা করা।

সম্প্রসারিত ভাব : স্বাধীনতা মানুষের অমূল্য সম্পদ। কোনাে মানুষই পরাধীনরূপে বেঁচে থাকতে চায় না। স্বাধীনতাঅর্জন অত্যন্ত গৌরবের ব্যাপার। তাই মানুষ স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন করে, যুদ্ধ করে। স্বাধীনতা অর্জনের জন্য অবর্ণনীয়দুঃখ-কষ্ট ও ত্যাগ স্বীকার করতে হয় এবং অমূল্য জীবন বিসর্জনের মাধ্যমেই স্বাধীনতা আসতে পারে। কারণ স্বার্থমগ্ন।শক্তিশালী বেনিয়া শাসকরা কোনো জাতিকে সহজে স্বাধীনতা দিতে চায় না; তাই বহু কষ্ট এবং রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমেই স্বাধীনতা অর্জন করতে হয়। স্বাধীনতা অর্জিত হলেই সংগ্রাম শেষ হয় না; তখন শুরু হয় স্বাধীনতা রক্ষার সংগ্রাম। এই সংগ্রামে আরও বেশি ত্যাগ, ধৈর্য ও শক্তি-সামর্থ্য প্রয়োজন। কারণ স্বাধীন দেশের ভেতরে ও বাইরে শত্রুর অভাব নেই। তারা সারাক্ষণ সুযোগের সন্ধান করে থাকে। যে কোনো সময় সুযোগ পেলে হিংসাত্মক কার্যকলাপের মাধ্যমে স্বাধীনতাকে বিপন্ন করতে পারে। অতএব, এই ধরনের প্রতিক্রিয়াশীল এবং হিংসাত্মক চরিত্রের মোকাবিলায় দেশকে রক্ষা করার জন্য প্রয়োজন শক্তি, বুদ্ধি ও সতর্কতা। যথেষ্ট দায়িত্ববোধ, নিবেদিত প্রাণ, দেশপ্রেম ও দৃঢ় মনোবল ছাড়া স্বাধীনতাকে রক্ষা করা সহজ নয়।

মন্তব্য : স্বাধীনতা রক্ষা করা স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে কঠিন ও দুরূহ কাজ। তাই স্বাধীনতা রক্ষা করার জন্য সবাইকেপ্রাণপণ চেষ্টা করা উচিত।


আপনি যদি আরও সুন্দর সুন্দর ভাবসম্প্রসারণ পড়তে চান, তাহলে আমার ওয়েবসাইট StudyTika.com-এ আরো ভাবসম্প্রসারণ রয়েছে। সেগুলোও পড়ে নিজের ভাষা শুদ্ধ ও উন্নত করুন। ধন্যবাদ।

Getting Info...

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Oops!
It seems there is something wrong with your internet connection. Please connect to the internet and start browsing again.