এই পোস্টে তোমরা পড়তে পারবে একটি ছোট কিন্তু সুন্দর ভাবসম্প্রসারণ: “মিথ্যা শুনিনি ভাই, এই হৃদয়ের চেয়ে বড় কোন মন্দির কাবা নাই”। এখানে সহজ ভাষায় ভাব প্রকাশ করা হয়েছে, যা তোমার পড়ার আনন্দ বাড়াবে। পুরো ভাবসম্প্রসারণটি পড়ো এবং নিজের মনে আনন্দ অনুভব করো।
ভাবসম্প্রসারণঃ মিথ্যা শুনিনি ভাই, এই হৃদয়ের চেয়ে বড় কোন মন্দির কাবা নাই
মূলভাব: পৃথিবীতে কোনো কিছু এককভাবে উপভোগ করলে সে জিনিসের যথার্থ মূল্য বোঝা যায় না। মানুষের হৃদয় যেকোনো উপাসনালয় থেকেও বড় উপাসনালয়। এ উপাসনালয় খোঁজার জন্যে মানুষকে কষ্ট করে দূরে যেতে হয় না।
সম্প্রসারিত ভাব : হৃদয় হল মানুষের সবচেয়ে পবিত্র স্থান। এখানে মানুষ চুপচাপ নিজের সব ইচ্ছা ও চাওয়া-পাওয়ার হিসাব মেলাতে পারে। হৃদয় যেন এক উপাসনালয়, যা চিরস্থায়ী, পবিত্র ও মহান। প্রতিটি ধর্মের মানুষ তাদের নিজ নিজ উপাসনালয়কে পবিত্র মনে করে। মানুষ মাঝে মাঝে বাহ্যিকভাবে এসব উপাসনালয়ে গিয়ে প্রার্থনা করে, যাতে আত্মতৃপ্তি ও শান্তি পায়। ধারণা করা হয়, উপাসনালয়ে প্রার্থনা করলে মহান সৃষ্টিকর্তার মহিমা লাভ করা যায়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সবচেয়ে পবিত্র স্থান হলো মানুষের হৃদয়। হৃদয়ে লুকিয়ে আছে সেই মণিকোঠা, যেখান থেকে আবেগ, অনুভূতি ও মানবিক গুণগুলো উদ্ভাসিত হয়। যদিও এই হৃদয় চোখে দেখা যায় না, তবুও এটি মানুষের জীবনের নিয়ন্ত্রণক্ষমতাকে অসীম করে। হৃদয়ই মানুষকে সীমাহীন জ্ঞানের সঙ্গে যোগসূত্র স্থাপন করতে সাহায্য করে। এ হৃদয়েই রয়েছে প্রেম, প্রীতি, ভালোবাসা, মমত্ব ও কল্যাণবোধের অবস্থান। মহান, কল্যাণকামী ব্যক্তিবর্গ তাই মানবহৃদয়কে সর্বোচ্চ স্থান দিয়েছেন। মানবহৃদয় যাতে কলুষিত না হয় সেই জন্যে নানা উপদেশ দিয়েছেন। ধর্মীয় উপাসনসালয় স্রষ্টার সাধনার স্থান, আর হৃদয় এর চাইতেও বড় পবিত্র স্থান। নিজেকে উপলব্ধি করতে ও পবিত্র রাখতে হৃদয়ের ভূমিকাই প্রধান।
মন্তব্য : হৃদয় দ্বারাই মানুষ নিজেকে সৎ ও মহৎ পথে পরিচালিত করতে পারে। হৃদয়মন্দির সঠিক দিকনির্দেশনা না দিলে কেবল ধর্মীয় উপাসনালয়ে প্রার্থনা করে নিজেকে কলুষমুক্ত রাখা যায় না । হৃদয় তাই শ্রেষ্ঠ পবিত্র স্থান ।
এই ভাবসম্প্রসারণটি পড়ার পর আশা করি তোমার ভালো লাগবে। আরও সুন্দর সুন্দর ভাবসম্প্রসারণ পড়তে চাও? তাহলে তোমরা আমাদের ওয়েবসাইট StudyTika.com এ ঘুরে দেখো।