আপনি কি কখনো ভাবেছেন, পৃথিবীর পাথরের জন্ম কীভাবে হয়? আমাদের চারপাশের পৃথিবী, পাহাড়, নদীর তীর সবকিছুই যে শিলার সমন্বয়ে তৈরি, তা শুনলে হয়তো অবাক হবেন। শিলা আমাদের জীবনের সাথে কতটা ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত তা আমরা প্রায়শই ভাবি না। এই ব্লগে আমরা শিলার সহজ সংজ্ঞা থেকে শুরু করে এর বিভিন্ন প্রকার ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানতে যাচ্ছি। তাই, আপনার কৌতূহল থাকলে পুরো পোস্টটি পড়তে ভুলবেন না, কারণ শিলার জগতে অনেক আকর্ষণীয় তথ্য লুকিয়ে আছে!
শিলা কী?
বিভিন্ন খনিজ পদার্থ মিশ্রিত হয়ে কিছু শক্ত কণা তৈরি হয়, ঐ শক্ত কণাসমূহ একত্র হয়ে যে পদার্থ তৈরি হয় তাকে শিলা বলে।
আরো বিস্তারিত বললে, ভূ-ত্বক যেসব উপাদান দিয়ে তৈরি, তাদের সাধারণ নাম শিলা। ভূ-ত্বকবিদদের মতে, দুই বা একাধিক খনিজের সংমিশ্রণে শিলার সৃষ্টি হয়। সকল কঠিন ও কোমল পদার্থ যা ভূ-ত্বক গঠন করে, তা শিলা। উদাহরণ: মুড়ি, কাঁকর, গ্রানাইট, কাদা, বালি ইত্যাদি।
অন্যভাবে বলা যায়, এক বা একাধিক খনিজের সংযুক্ত রূপকেই শিলা বলে। শিলা প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া যায় এবং গঠনের সময় প্রতিটি খনিজের বৈশিষ্ট্য থাকে। কখনো কখনো একটি মাত্র খনিজ দিয়ে শিলা তৈরি হতে পারে। যেমন কেলসাইট খনিজ ও শিলা (চুনাপাথর) একই পদার্থ।
শিলার শ্রেণি
ভূ-ত্বক বিভিন্ন প্রকার শিলা দ্বারা গঠিত। শিলার ধরন অনুযায়ী বৈশিষ্ট্য আলাদা। কোনো শিলা নরম, আবার কোনো শিলা শক্ত। সব শিলা প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্টি।
গঠনের দিক থেকে শিলাকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়:
- ক) আগ্নেয় শিলা (উদাহরণ: গ্রানাইট)
- খ) পাললিক শিলা (উদাহরণ: চুনাপাথর)
- গ) রূপান্তরিত শিলা (উদাহরণ: মার্বেল)
আগ্নেয় শিলা (Igneous rocks)
পৃথিবীর আদিম অবস্থায় উত্তপ্ত গলিত লাভা বা আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতের সময় গলিত পদার্থ ঠান্ডা হয়ে যে শিলার সৃষ্টি হয়, তাকে আগ্নেয় শিলা বলে।
আগ্নেয় শিলার বৈশিষ্ট্য
- এ ধরনের শিলায় স্তর থাকে না, কারণ তা উত্তপ্ত অবস্থায় থেকে গলে তৈরি হয়।
- গলিত পদার্থে জীবাশ্ম বা উদ্ভিদ জন্মে না।
- ঠান্ডা হওয়ার সময় কেলাসিত হয় বা নির্দিষ্ট আকার পায়।
- ভূ-পৃষ্ঠে ঠান্ডা হলে বহিঃজ আগ্নেয় শিলা (Extrusive) এবং ভূ-অভ্যন্তরে ঠান্ডা হলে অন্ত্যজ আগ্নেয় শিলা (Intrusive) হয়।
- উদাহরণ: ব্যাসল্ট, পিউমিকস্টোন, লাপিলি (বহিঃজ); গ্র্যানাইট, গারো, সায়েনাইট, পরিফাইরি (অন্ত্যজ)
পাললিক শিলা (Sedimentary rocks)
প্রাকৃতিক শক্তির প্রভাবে আগ্নেয় শিলা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে ছোট অংশে বিভক্ত হয়। এগুলো সমুদ্র, হ্রদ বা তলদেশে জমে স্তর আকারে শক্ত হয়। এ ধরনের শিলাকে পাললিক শিলা বলা হয়।
পাললিক শিলার বৈশিষ্ট্য
- প্রধান শিলার ক্ষয়প্রাপ্ত অংশ থেকে সৃষ্টি হয়।
- স্তর আকারে তৈরি হয়।
- জীবাশ্ম থাকতে পারে।
- উত্তপ্ত অবস্থায় তৈরি নয়, অকেলাসিত।
- গৌণ বা মাধ্যমিক শিলা হিসেবে পরিচিত।
- ভৌত, রাসায়নিক বা জৈবিক প্রক্রিয়ায় উন্নত হতে পারে।
- উদাহরণ: বালিপাথর, শেল, ডলোমাইট, সিল্টস্টোন, চুনাপাথর ইত্যাদি।
রূপান্তরিত শিলা (Metamorphic rocks)
প্রচণ্ড তাপ ও চাপে আগ্নেয় বা পাললিক শিলা পরিবর্তিত হয়ে কঠিন ও স্ফটিকাকার শিলা হয়। যেমন: চুনাপাথর → মার্বেল, বেলেপাথর → কোয়ার্টজাইট, কাদা → শ্লেট, গ্রানাইট → গ্নিসেস।
রূপান্তরিত শিলার বৈশিষ্ট্য
- আগ্নেয় ও পাললিক শিলার উভয়ই উৎস হতে পারে।
- প্রচণ্ড তাপ ও চাপে নতুন শিলা গঠিত হয়।
- এটি কেলাসিত হওয়ায় অন্য শিলার থেকে আলাদা করা যায়।
- খনিজ উপাদান সমান্তরাল হওয়ায় আগ্নেয় শিলার থেকে সহজে চেনা যায়।
শিলা সম্পর্কে এত সুন্দর তথ্য জেনে আপনি নিশ্চয় ভাবছেন, প্রকৃতির এই কঠিন yet মুগ্ধকর উপাদানটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ। এটি কেবল ভূ-ত্বক নয়, আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অনেক জায়গাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আপনি যদি আরও জানতে চান এমন আকর্ষণীয় এবং সহজ ভাষায় লেখা তথ্যসমৃদ্ধ পোস্ট, তাহলে আমাদের StudyTika.com ওয়েবসাইটে আরও অনেক পোস্ট পড়তে পারেন। প্রতিবার নতুন কিছু শেখার আনন্দ নিতে এখানে চলে আসুন!