ক্লোরোপ্লাস্ট কাকে বলে? (সহজ সংজ্ঞা) | ক্লোরোপ্লাস্টের আকার | ক্লোরোপ্লাস্টের উৎপত্তি

 তুমি কি কখনো ভেবেছো, গাছ নিজের খাবার কীভাবে তৈরি করে? 🤔 এই ছোট্ট সবুজ পাতার ভেতরে লুকিয়ে আছে এক দারুণ রহস্য! এমন একটি বিশেষ অংশ আছে, যা গাছকে বাঁচিয়ে রাখে এবং আমাদের জন্যও খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।  এই বিষয়টি জানলে তুমি জীববিজ্ঞানের অনেক কঠিন জিনিস খুব সহজে বুঝতে পারবে। তাই দেরি না করে চল, ধীরে ধীরে পুরো বিষয়টা জানি—তুমি অবাক হয়ে যাবে!

ক্লোরোপ্লাস্ট কাকে বলে?(সহজ সংজ্ঞা)

ক্লোরোপ্লাস্ট কাকে বলে (সংজ্ঞা)

যে কোষ অঙ্গাণুতে ক্লোরোফিল থাকে এবং উদ্ভিদে খাদ্য তৈরির প্রক্রিয়া (প্রকাশ-সংশ্লেষণ) সম্পন্ন হয় তাকে ক্লোরোপ্লাস্ট বলে।

উদ্ভিদ কোষে থাকা সবুজ রঙের প্লাস্টিডকে ক্লোরোপ্লাস্ট বলে, যা উদ্ভিদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গাণু।

ক্লোরোপ্লাস্ট কাকে বলে? (সহজ সংজ্ঞা) | ক্লোরোপ্লাস্টের আকার | ক্লোরোপ্লাস্টের উৎপত্তি

ক্লোরোপ্লাস্ট সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত তথ্য

১৮৮৩ সালে বিজ্ঞানী পিম্পার প্রথম উদ্ভিদ কোষে সবুজ প্লাস্টিড লক্ষ্য করেন এবং এর নাম দেন ক্লোরোপ্লাস্ট।

প্রতি কোষে ক্লোরোপ্লাস্টের সংখ্যা

প্রতি কোষে ক্লোরোপ্লাস্টের সংখ্যা এক বা একাধিক হতে পারে। উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদে সাধারণত প্রতি কোষে ১০-৪০টি ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে।

ক্লোরোপ্লাস্টের আকার

উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদে ক্লোরোপ্লাস্ট সাধারণত লেন্সের মতো আকৃতির হয় এবং এর ব্যাস প্রায় ৩–৫ মাইক্রোমিটার। নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদে ক্লোরোপ্লাস্ট বিভিন্ন আকৃতির হতে পারে, যেমন পেয়ালার মতো, সর্পিল, জালিকাকার, তারকার মতো বা আংটির মতো।

ক্লোরোপ্লাস্টের উৎপত্তি

নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদে পুরনো ক্লোরোপ্লাস্ট নিজেই বিভাজনের মাধ্যমে নতুন ক্লোরোপ্লাস্ট সৃষ্টি করে। তবে উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদে নতুন ক্লোরোপ্লাস্ট তৈরি হয় আদি প্লাস্টিড থেকে। আদি প্লাস্টিড হলো একটি ছোট, গোলাকার কণিকা, যার ব্যাস প্রায় ০.৫ মাইক্রোমিটার। এটি দুই স্তরের আবরণে ঘেরা থাকে। সূর্যের আলো পেলে এতে ক্লোরোফিল তৈরি হয় এবং ধীরে ধীরে এটি ক্লোরোপ্লাস্টে পরিণত হয়।

ক্লোরোপ্লাস্টের গঠন

১) আবরণী (Membrane)

প্রতিটি ক্লোরোপ্লাস্ট একটি দ্বিস্তরবিশিষ্ট আবরণী দ্বারা আবৃত থাকে, যা লিপোপ্রোটিন দিয়ে তৈরি। এই আবরণী প্লাজমা মেমব্রেনের মতো কাজ করে। এটি ভেতরের অংশকে রক্ষা করে এবং ভেতরে-বাইরে পদার্থের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করে।

২) স্ট্রোমা (Stroma)

ক্লোরোপ্লাস্টের ভেতরের স্বচ্ছ, দানাদার, অর্ধতরল পদার্থকে স্ট্রোমা বলা হয়। এতে লিপোপ্রোটিন ও বিভিন্ন এনজাইম থাকে। স্ট্রোমা ক্লোরোপ্লাস্টের মূল অংশ হিসেবে কাজ করে।

৩) থাইলাকয়েড ও গ্রানাম (Thylakoid and Granum)

থাইলাকয়েড হলো চ্যাপ্টা থলি আকৃতির গঠন, যা স্ট্রোমার মধ্যে থাকে। অনেকগুলো থাইলাকয়েড একসাথে স্তূপ আকারে থাকে, যাকে গ্রানাম বলা হয়।

প্রতিটি ক্লোরোপ্লাস্টে সাধারণত ৪০-৬০টি গ্রানাম থাকে।

৪) স্ট্রোমা ল্যামেলি (Stroma Lamellae)

দুটি গ্রানামকে সংযুক্ত করার জন্য সূক্ষ্ম নালিকার মতো অংশ থাকে, যাকে স্ট্রোমা ল্যামেলি বলা হয়।

৫) সালোকসংশ্লেষণকারী একক ও ATP Synthase

থাইলাকয়েড ঝিল্লিতে অনেক ছোট গোলাকার গঠন থাকে, যাকে ATP Synthase বলা হয়। এগুলো ATP তৈরি করতে সাহায্য করে।

এখানে ক্লোরোফিল, ক্লোরোফিল-b, ক্যারোটিন, জ্যান্থোফিলসহ প্রায় ৩০০-৪০০ অণু থাকে। এছাড়াও বিভিন্ন এনজাইম ও লিপিড থাকে।

৬) ক্লোরোপ্লাস্ট ডিএনএ ও রাইবোসোম

ক্লোরোপ্লাস্টে 70s ধরনের রাইবোসোম থাকে, যা প্রয়োজনীয় প্রোটিন তৈরি করে। এতে নিজস্ব ডিএনএও থাকে।

ক্লোরোপ্লাস্টের রাসায়নিক উপাদান

ক্লোরোপ্লাস্টে লিপিড (১০-২০%), প্রোটিন, ক্লোরোফিল, ক্যারোটিনয়েড, ডিএনএ, আরএনএ, বিভিন্ন এনজাইম, কোএনজাইম এবং খনিজ পদার্থ থাকে।

ক্লোরোপ্লাস্টের কাজ

১. সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে কার্বন ডাইঅক্সাইড ও পানি থেকে শর্করা তৈরি করে।

২. প্রোটিন ও নিউক্লিক অ্যাসিড তৈরি করতে সাহায্য করে।

৩. সূর্যালোকের সাহায্যে ADP থেকে ATP এবং NADP থেকে NADPH তৈরি করে।

৪. এনজাইমের সাহায্যে প্রোটিন ও স্নেহজাতীয় খাদ্য তৈরি করে।

৫. ফটোরেসপিরেশন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে।

৬. সাইটোপ্লাজমিক বংশগতিতে সাহায্য করে।

আশা করি পুরো লেখাটি পড়ার পর তুমি ক্লোরোপ্লাস্ট সম্পর্কে অনেক কিছু সহজভাবে বুঝতে পেরেছো। 😊 যদি তোমার ভালো লেগে থাকে, তাহলে অবশ্যই আরও নতুন ও সহজ পড়াশোনার বিষয় জানতে ভিজিট করো আমাদের ওয়েবসাইট StudyTika.com। 📚✨ এখানে তুমি এমন অনেক সহজ ও মজার লেখা পাবে, যা তোমার পড়াশোনাকে আরও সহজ করে দেবে। তাই নিয়মিত ভিজিট করতে ভুলবে না!

Getting Info...

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Oops!
It seems there is something wrong with your internet connection. Please connect to the internet and start browsing again.