অগ্রাধিকার শেয়ার কাকে বলে? (সহজ সংজ্ঞা) | অগ্রাধিকার শেয়ারের মূল বৈশিষ্ট্য ও বিস্তারিত আলোচনা

শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করার কথা ভাবছেন? কিন্তু বুঝতে পারছেন না ঠিক কোন শেয়ারটিতে আপনার টাকা সবচেয়ে নিরাপদ থাকবে? আমরা অনেকেই লভ্যাংশ বা মুনাফা পাওয়ার আশায় শেয়ার কিনি, কিন্তু সবসময় একটা ভয় কাজ করে—যদি লভ্যাংশ না পাই? ঠিক এই সমস্যার সমাধান দিতেই আছে এক বিশেষ ধরণের শেয়ার, যার নাম 'অগ্রাধিকার শেয়ার'। মজার ব্যাপার হলো, এই শেয়ারের মালিকরা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে থাকেন। কিন্তু কেন তারা এগিয়ে? আর এই শেয়ার কিনলে আপনার লাভ কী বা সীমাবদ্ধতাই বা কী? আপনি যদি ঝুঁকিহীনভাবে নির্দিষ্ট আয়ের পথ খুঁজছেন, তবে আজকের এই পোস্টটি আপনার জন্য। চলুন জেনে নেওয়া যাক, অগ্রাধিকার শেয়ার আসলে কী এবং কেন এটি আপনার বিনিয়োগের তালিকায় থাকা উচিত। শেষ পর্যন্ত পড়লে আপনি নিজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন এটি আপনার জন্য সঠিক কি না!

অগ্রাধিকার শেয়ার কাকে বলে?(সহজ সংজ্ঞা)

অগ্রাধিকার শেয়ার (Preferred Stock) কী?

সহজ কথায় বলতে গেলে, যে শেয়ারের মালিকরা সাধারণ শেয়ার মালিকদের তুলনায় লভ্যাংশ পাওয়ার ক্ষেত্রে বেশি অগ্রাধিকার বা সুযোগ পান, তাকে অগ্রাধিকার শেয়ার বলে। 

অথবা, যে শেয়ারের মালিকগণ লভ্যাংশ গ্রহণ ও মূলধন প্রত্যাবর্তনে অন্যান্য শেয়ার মালিকগণের চেয়ে অগ্রাধিকার পায়, তাকে অগ্রাধিকার শেয়ার বলে।

এই শেয়ারের মালিকরা একটি নির্দিষ্ট হারে মুনাফা পান, তবে তারা কোম্পানির ভোটদান বা পরিচালনার কাজে অংশ নিতে পারেন না।

অগ্রাধিকার শেয়ারের মূল বৈশিষ্ট্য ও বিস্তারিত আলোচনা

নিচে অগ্রাধিকার শেয়ার সম্পর্কে সব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সহজভাবে দেওয়া হলো:

১. নির্দিষ্ট হারে লভ্যাংশ

অগ্রাধিকার শেয়ার মালিকরা কোম্পানির লাভের একটি নির্দিষ্ট অংশ লভ্যাংশ হিসেবে পান। কোম্পানির লাভ কম হোক বা বেশি, তাদের লভ্যাংশের হার সব সময় একই থাকে।

২. লভ্যাংশের অগ্রাধিকার

কোম্পানি যখন মুনাফা বন্টন করে, তখন সাধারণ শেয়ার মালিকদের আগে অগ্রাধিকার শেয়ার মালিকদের লভ্যাংশ পরিশোধ করা হয়। অর্থাৎ, তারা লাইনের প্রথমে থাকেন।

৩. পরিচালনায় অংশ নিতে না পারা

এই শেয়ারের একটি সীমাবদ্ধতা হলো—এর মালিকরা কোম্পানির সাধারণ সভায় ভোট দিতে পারেন না বা কোম্পানির কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা পরিচালনায় অংশগ্রহণ করতে পারেন না।

৪. ঝুঁকিহীন বিনিয়োগ

যারা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ঝুঁকি নিতে চান না, তাদের জন্য এটি একটি আদর্শ খাত। কারণ এখানে আয়ের হার নিশ্চিত এবং লভ্যাংশ না পাওয়ার অনিশ্চয়তা অনেক কম থাকে।

৫. অতিরিক্ত মুনাফায় অধিকার নেই

কোম্পানি যদি কোনো বছর প্রচুর লাভ করে, তাহলেও অগ্রাধিকার শেয়ার মালিকরা কেবল তাদের নির্দিষ্ট হারের লভ্যাংশই পাবেন। বাড়তি মুনাফার কোনো অংশ তারা দাবি করতে পারেন না। বাড়তি লাভ পুরোটাই সাধারণ শেয়ার মালিকদের কাছে চলে যায়।

৬. মূলধন ফেরত পাওয়ার অগ্রাধিকার

যদি কখনো কোম্পানি বন্ধ হয়ে যায়, তবে পাওনাদারদের টাকা শোধ করার পর অবশিষ্ট সম্পদ থেকে সাধারণ শেয়ার মালিকদের আগে অগ্রাধিকার শেয়ার মালিকদের বিনিয়োগ করা টাকা ফেরত দেওয়া হয়।

উপসংহার

আশা করি, আজকের এই আলোচনার পর অগ্রাধিকার শেয়ার সম্পর্কে আপনার ধারণা একদম পরিষ্কার হয়ে গেছে। সহজ কথায়, যারা একটু নিশ্চিন্তে এবং নিয়ম মেনে লভ্যাংশ পেতে চান, তাদের জন্য এটি চমৎকার একটি সুযোগ। তবে বিনিয়োগের আগে এর বৈশিষ্ট্যগুলো ভালো করে বুঝে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। এই ধরণের আরও অনেক সহজ এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষামূলক তথ্য জানতে আমাদের studytika.com ওয়েবসাইটের অন্যান্য পোস্টগুলো নিয়মিত পড়ুন। আমরা চেষ্টা করি জটিল সব বিষয়কে আপনার কাছে পানির মতো সহজ করে তুলে ধরতে। আমাদের সাথেই থাকুন!

Getting Info...

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Oops!
It seems there is something wrong with your internet connection. Please connect to the internet and start browsing again.