জাতি কাকে বলে? (সহজ সংজ্ঞা) | জাতি কত প্রকার ও কী কী? | বিভিন্ন রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর মতে জাতির সংজ্ঞা | জাতির প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ | জাতি গঠনের প্রধান উপাদানসমূহ | জাতি রাষ্ট্র কাকে বলে? | জাতি ও রাষ্ট্রের মধ্যে পার্থক্য

 আমরা প্রতিনিয়ত ‘জাতি’, ‘জাত’ বা ‘জাতীয়তা’ শব্দগুলো কত বেশি ব্যবহার করি, তাই না? যেমন— আমরা বুক ফুলিয়ে বলি আমরা বাঙালি জাতি, আবার সমাজের নানা জায়গায় বিভিন্ন ‘জাত’ বা ‘শ্রেণী’র কথাও শুনি। কিন্তু কখনো কি গভীরভাবে ভেবে দেখেছেন, আসলে ‘জাতি’ বলতে ঠিক কী বোঝায়? কীভাবে একটি সাধারণ জনমানুষের দল আস্তে আস্তে একটি শক্তিশালী জাতিতে পরিণত হয়? আর ‘জাতি’ ও ‘রাষ্ট্রের’ মধ্যেই বা আসল পার্থক্যটা কোথায়? আপনি যদি এই বিষয়গুলো একদম সহজ ভাষায়, গল্পে গল্পে এবং পরিষ্কারভাবে জানতে চান, তবে আপনি একদম সঠিক জায়গায় এসেছেন! আজকের এই পোস্টে আমরা জাতির এমন কিছু অজানা এবং দারুণ তথ্য শেয়ার করব, যা আপনার ভেতরের সব কনফিউশন এক পলকে দূর করে দেবে। তাহলে আর দেরি কেন? সত্যিটা জানতে ও সবার চেয়ে একধাপ এগিয়ে থাকতে পুরো পোস্টটি শেষ পর্যন্ত ঝটপট পড়ে ফেলুন!

জাতি কাকে বলে?(সহজ সংজ্ঞা)

জাতি কী এবং জাতি কাকে বলে? 

সহজ কথায়, জাতি (Nation) হলো এমন একটি জনসংখ্যা বা মানবগোষ্ঠী, যারা দীর্ঘদিন ধরে একসাথে থাকতে থাকতে নিজেদের মধ্যে এক গভীর ঐক্য বা মিল অনুভব করে এবং নিজেদের একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গড়ে তোলে বা গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখে।

লাতিন শব্দ "Nascio" বা "Natio" থেকে ইংরেজি 'Nation' শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে, যার অর্থ হলো 'জন্ম' বা 'বংশ'। তাই প্রাচীনকালে কেবল জন্ম বা রক্তের সম্পর্কের ভিত্তিতে তৈরি হওয়া সমাজকে জাতি বলা হতো। কিন্তু আধুনিক যুগে এসে জাতি একটি রাজনৈতিক রূপ নিয়েছে। যখন একটি জনসমাজ (যেমন: একই ভাষা বা সংস্কৃতিতে বড় হওয়া মানুষ) নিজেদের আলাদা দেশ বা সরকার গঠনের দাবি জানায়, তখনই ‘জাতি’র জন্ম হয়।

জাতি কত প্রকার ও কী কী? (Types of Race/Nation)

জীববিজ্ঞান বা আধুনিক জিনতত্ত্ব (Genetics) অনুযায়ী, পৃথিবীতে মানুষের কেবল একটিই প্রজাতি আছে, তা হলো হোমো স্যাপিয়েন্স (Homo sapiens)। বৈজ্ঞানিকভাবে মানুষকে রক্ত বা জিনের ভিত্তিতে আলাদা আলাদা জাতিতে ভাগ করা যায় না। তবে মানুষের গায়ের রঙ, চোখের গঠন, চুলের ধরণ ইত্যাদির ওপর ভিত্তি করে নৃবিজ্ঞানীরা মানবজাতিকে প্রধানত ৪টি ভাগে ভাগ করেছেন:

জাতির নামপ্রধান বৈশিষ্ট্য ও এলাকা
১. ককেসয়েড (Caucasoid):সাধারণত ইউরোপ ও আমেরিকার সাদা চামড়ার মানুষ এই শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত।
২. নিগ্রোয়েড (Negroid):সাধারণত আফ্রিকা অঞ্চলের কালো চামড়ার মানুষ এই শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত।
৩. মঙ্গোলয়েড (Mongoloid):সাধারণত এশিয়া (যেমন: চীন, জাপান, কোরিয়া) অঞ্চলের মানুষ এই শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত।
৪. অস্ট্রালয়েড (Australoid):সাধারণত অস্ট্রেলিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জের আদিবাসীরা এই শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত।

বিভিন্ন রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর মতে জাতির সংজ্ঞা

জাতিকে আরও ভালোভাবে বোঝার জন্য কয়েকজন বিখ্যাত পণ্ডিত বা রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর দেওয়া সহজ সংজ্ঞা নিচে দেওয়া হলো:

  • লর্ড ব্রাইস (Lord Bryce): "জাতি হলো এমন একটি জনসমষ্টি, যারা রাজনৈতিকভাবে ঐক্যবদ্ধ এবং যারা সম্পূর্ণ স্বাধীন অথবা স্বাধীনতা পাওয়ার জন্য আন্দোলন করছে।"
  • অধ্যাপক ম্যাকাইভার (MacIver): "জাতি হলো ইতিহাসের হাত ধরে তৈরি হওয়া এবং একাত্ম বোধ বা আধ্যাত্মিক চেতনার মাধ্যমে গড়ে ওঠা একটি সমাজ, যারা নিজেদের জন্য একটি সাধারণ আইন বা সংবিধান তৈরি করতে চায়।"
  • জন স্টুয়ার্ট মিল (John Stuart Mill): "জাতি হলো এমন একদল মানুষ, যাদের মধ্যে নিজেদের মাঝে গভীর সহানুভূতি থাকে যা অন্যদের সাথে থাকে না। তারা নিজেদের ইচ্ছায় এক সরকারের অধীনে থাকতে ভালোবাসে।"
  • অধ্যাপক হায়েস (Hayes): "যখন একটি জাতীয় জনসমাজ একতাবদ্ধ হয়ে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা বা সার্বভৌমত্ব অর্জন করে, তখন তাকে জাতি বলে।"
সহজ সূত্র: জাতি = গভীর সামাজিক একতা + রাজনৈতিক সচেতনতা ও স্বাধীন রাষ্ট্র (Nation = Nationality + Political Unity)।

জাতির প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ

জাতি বা জাতি ব্যবস্থার মূল বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে সহজ ভাষায় আলোচনা করা হলো (বিশেষ করে ভারতীয় উপমহাদেশে প্রচলিত 'জাত প্রথা' বা 'কাস্ট সিস্টেম' এবং সাধারণ জাতির ধারণা মিলিয়ে এর রূপগুলো এমন হয়):

  1. বংশানুক্রমিক: জাতি ব্যবস্থার একটি বড় দিক হলো এটি জন্মভিত্তিক। মানুষ যে জাতিতে বা জাতে জন্মায়, আজীবন তাকে সেই পরিচয়ই বহন করতে হয়।
  2. স্বজাতির মধ্যে বিয়ে (অন্তবৈবাহিক): এই নিয়ম অনুযায়ী সাধারণত মানুষ নিজের জাতির বা জাতের বাইরে অন্য কাউকে বিয়ে করতে পারে না।
  3. খাদ্য ও সামাজিক ছোঁয়াছুঁয়ির নিয়ম (সপাঙক্তেয়তা): প্রাচীন বা সনাতন সমাজ ব্যবস্থায় বিভিন্ন জাতির মধ্যে একসাথে খাওয়া-দাওয়া বা সামাজিক মেলামেশার কিছু কঠোর নিয়ম ছিল। যেমন: উঁচু জাতের মানুষ নিচু জাতের হাতের রান্না বা ছোঁয়া খেত না।
  4. পেশা বা বৃত্তি বিভাগ: অতীতে একেকটি জাতির জন্য একেকটি কাজ বা পেশা নির্দিষ্ট থাকত। কামারের ছেলে কামার, কুমোরের ছেলে কুমোর হতো। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে সমাজে প্রথম কাজের ভাগ বা শ্রমবিভাগ শুরু হয়েছিল।
  5. নিজস্ব সামাজিক নিয়মকানুন: প্রতিটি জাতির নিজস্ব কিছু সামাজিক নিয়ম বা আচার-অনুষ্ঠান থাকে, যা তারা জন্ম, বিয়ে বা মৃত্যুর সময় পালন করে। এগুলো অমান্য করলে একসময় সমাজচ্যুত বা শাস্তি দেওয়ার নিয়ম ছিল।
  6. উঁচু-নিচু স্তরবিন্যাস: জাতি ব্যবস্থার কারণে সমাজে একটি চেইন বা সিঁড়ির মতো স্তর তৈরি হয়, যেখানে কিছু জাতিকে সমাজের উঁচুতে (যেমন: ব্রাহ্মণ) এবং কিছু জাতিকে নিচে স্থান দেওয়া হয়।
  7. সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার পার্থক্য: প্রতিটি ক্ষুদ্র বা বৃহৎ জাতি বৃহত্তর সমাজের অংশ হয়েও নিজেদের আলাদা সংস্কৃতি, উৎসব ও জীবনধারা বজায় রাখে।
  8. সামাজিক পরিবর্তন কঠিন হওয়া: জাতিভেদ প্রথায় চাইলেই নিজের জাত বা অবস্থান পরিবর্তন করা যায় না। তবে ভালো কাজের মাধ্যমে বা 'সংস্কৃতায়ন' প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাজে মর্যাদা কিছুটা উন্নত করা সম্ভব হতো।

জাতি গঠনের প্রধান উপাদানসমূহ

একদল সাধারণ মানুষ কীভাবে আস্তে আস্তে একটি শক্তিশালী জাতিতে পরিণত হয়? এর পেছনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপাদান কাজ করে:

  • ১. ভৌগোলিক সান্নিধ্য (একই এলাকায় বসবাস): যখন একদল মানুষ একটি নির্দিষ্ট সীমানার ভেতর দীর্ঘদিন একসাথে বসবাস করে, তখন তাদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই একটি গভীর মিল বা একাত্মতা তৈরি হয়।
  • ২. বংশগত বা রক্তসম্পর্কের ঐক্য: মানুষ যখন বিশ্বাস করে যে তাদের সবার পূর্বপুরুষ এক এবং তাদের রক্তে একই ঐতিহ্য বইছে, তখন তাদের মধ্যে জাতীয়তাবোধ তীব্র হয়। (যেমন: একই বংশের মানুষ)।
  • ৩. ধর্মীয় একতা: একই ধর্ম বিশ্বাসের কারণে মানুষ খুব দ্রুত একে অপরের কাছাকাছি আসে এবং নিজেদের অন্য ধর্মীয় গোষ্ঠী থেকে আলাদা ও ঐক্যবদ্ধ মনে করে।
  • ৪. অর্থনৈতিক স্বার্থ: যখন কোনো অঞ্চলের মানুষের ব্যবসার সুযোগ, চাকরি বা বেঁচে থাকার অর্থনৈতিক স্বার্থ এক হয়ে যায়, তখন তারা নিজেদের অধিকার রক্ষার জন্য এক হয়ে লড়াই করে।
  • ৫. ভাষার মিল (ভাষাগত ঐক্য): মনের ভাব প্রকাশের সবচেয়ে বড় মাধ্যম হলো ভাষা। একই ভাষায় কথা বলা মানুষের মধ্যে খুব সহজেই বন্ধুত্বের ও আপনত্বের সম্পর্ক তৈরি হয়।
  • ৬. রাজনৈতিক একতা: দীর্ঘদিন ধরে একই শাসনব্যবস্থা বা সরকারের অধীনে থাকার ফলে জনগণের মধ্যে একটি অভিন্ন রাজনৈতিক চেতনা বা একতা তৈরি হয়।
  • ৭. সাধারণ শত্রু বা দ্বন্দ্বের বিরুদ্ধে লড়াই: বাইরের কোনো শত্রু বা অত্যাচারের বিরুদ্ধে যখন কোনো অঞ্চলের সব মানুষ একসাথে লড়াই করে, তখন সেই দুঃখ-কষ্ট এবং সংগ্রামের ভেতর দিয়ে একটি নতুন জাতির জন্ম হয়।
  • ৮. একই মানসিকতা ও আদর্শ: মানুষের চিন্তা-ভাবনা, লক্ষ্য ও মানসিকতা যখন একই রকম হয়, তখন তারা নিজেদের একটি জাতি হিসেবে ঘোষণা করতে ভালোবাসে।

জাতি রাষ্ট্র কাকে বলে?

যখন একটি নির্দিষ্ট জাতির একক পরিচয়, ভাষা, ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে ভিত্তি করে একটি স্বাধীন দেশ বা রাষ্ট্র গড়ে ওঠে, তখন তাকে জাতি রাষ্ট্র (Nation-State) বলে। এই ধরণের রাষ্ট্রে জাতীয় ঐতিহ্য ও মূল্যবোধকে সবচেয়ে বেশি সম্মান দেওয়া হয়।

উদাহরণ: আমাদের প্রিয় দেশ বাংলাদেশ একটি আদর্শ জাতি রাষ্ট্র। কারণ এই রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি হলো বাঙালি জাতীয়তাবাদ এবং বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি। তবে একটি জাতি রাষ্ট্র নিজের দেশের ভেতরে থাকা অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বা আদিবাসীদের সংস্কৃতি ও অধিকারের প্রতিও সমান শ্রদ্ধাশীল থাকে।

জাতি ও রাষ্ট্রের মধ্যে পার্থক্য

অনেকে জাতি ও রাষ্ট্রকে একই মনে করলেও এদের মধ্যে কিছু পরিষ্কার পার্থক্য রয়েছে:

  • উপাদান: রাষ্ট্র গঠিত হয় ৪টি নির্দিষ্ট উপাদান নিয়ে (জনসমষ্টি, নির্দিষ্ট ভূখণ্ড, সরকার ও সার্বভৌমত্ব)। কিন্তু জাতি গঠনের জন্য নির্দিষ্ট ভূখণ্ড বা সরকার বাধ্যতামূলক নয়; মানুষের ভেতরের মানসিক ঐক্যই এর মূল উপাদান।
  • ক্ষমতা: রাষ্ট্রের কাছে 'সার্বভৌমত্ব' বা আইনগত সর্বোচ্চ ক্ষমতা থাকে এবং তা প্রয়োগের জন্য সরকার থাকে। কিন্তু জাতির নিজস্ব কোনো সরকার বা আইন প্রয়োগকারী যন্ত্র থাকে না।
  • ধারণা: রাষ্ট্র হলো একটি আইনি বা রাজনৈতিক ধারণা। আর জাতি হলো একটি আবেগীয়, মানসিক বা মনস্তাত্ত্বিক চেতনা।
  • স্থায়িত্ব: যুদ্ধে একটি রাষ্ট্র ধ্বংস বা বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে, কিন্তু জাতি টিকে থাকে। যেমন: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানি বা জাপানের রাষ্ট্রব্যবস্থা ভেঙে পড়েছিল, কিন্তু জার্মান ও জাপানি জাতি হারিয়ে যায়নি।
  • সীমানা: একটি রাষ্ট্রে একাধিক জাতি থাকতে পারে (যেমন: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা চীন)। আবার একটি জাতি একাধিক রাষ্ট্রে ছড়িয়ে থাকতে পারে।

বর্ণ (Varna) ও জাতির (Jat) মধ্যে পার্থক্য

সনাতন বা হিন্দু সমাজ ব্যবস্থায় 'বর্ণ' এবং 'জাত' দুটি ভিন্ন ধারণা। এদের মূল পার্থক্যগুলো নিচে দেওয়া হলো:

  1. সংখ্যা: বর্ণ সংখ্যায় মাত্র ৪টি (ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্র)। কিন্তু জাত বা জাতির সংখ্যা কোনো নির্দিষ্ট নেই, এটি হাজার হাজার (৩ হাজারের বেশি) হতে পারে।
  2. পরিবর্তনশীলতা: প্রাচীন বর্ণ ব্যবস্থায় যোগ্যতা অনুযায়ী বর্ণ পরিবর্তন করার সুযোগ ছিল (সামাজিক সচলতা ছিল)। কিন্তু জাত প্রথা সম্পূর্ণ জন্মভিত্তিক, তাই এখানে নিজের জাত পরিবর্তন করা যায় না।
  3. ধারণা ও বাস্তব রূপ: বর্ণ হলো সমাজের একটি তাত্ত্বিক বা ধারণাগত কাঠামো। আর জাত হলো সমাজের বাস্তব জীবনের পেশা ও দলভিত্তিক রূপ।
  4. অস্পৃশ্যতা: আদি বর্ণ ব্যবস্থায় কোনো ছোঁয়াছুঁয়ি বা অস্পৃশ্যতার নিয়ম ছিল না। কিন্তু জাত প্রথা কঠোর হওয়ার পর সমাজে অস্পৃশ্যতা বা বৈষম্যের জন্ম হয়।
  5. আঞ্চলিকতা: বর্ণ ব্যবস্থা সারা দেশ বা অঞ্চলে একইভাবে কাজ করে। কিন্তু জাত ব্যবস্থা অঞ্চলভেদে আলাদা হতে পারে (এক এলাকার জাত অন্য এলাকায় অন্য নামে বা মর্যাদায় থাকতে পারে)।

জাতি (Caste) ও শ্রেণীর (Class) মধ্যে পার্থক্য

সমাজে মানুষের অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে জাত এবং সামাজিক শ্রেণীর মধ্যে কিছু বড় অমিল রয়েছে:

  • ভিত্তি: জাত বা জাতির ভিত্তি হলো মানুষের জন্ম ও বংশ (এটি অপরিবর্তনীয়)। আর সামাজিক শ্রেণীর ভিত্তি হলো মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা, শিক্ষা, পেশা বা টাকা-পয়সা (এটি পরিবর্তনশীল)।
  • বিয়ে: জাত প্রথায় নিজের জাতের বাইরে বিয়ে করা নিষেধ। কিন্তু শ্রেণীর ক্ষেত্রে ধনী-দরিদ্র বা উচ্চবিত্ত-নিম্নবিত্তের মধ্যে বিয়ে হতে কোনো আইনি বাধা নেই।
  • ভৌগোলিক সীমানা: জাত বা জাতিভেদ প্রথা মূলত ভারতীয় উপমহাদেশের একটি বিশেষ ব্যবস্থা। কিন্তু ধনী-দরিদ্র বা শাসক-শোষিতের মতো শ্রেণীব্যবস্থা পৃথিবীর সব দেশেই কম-বেশি রয়েছে।
  • মর্যাদা লাভ: জাতের মর্যাদা হলো 'আরোপিত' (মানুষ জন্মসূত্রে যা পায়)। আর শ্রেণীর মর্যাদা হলো 'অর্জিত' (মানুষ নিজের যোগ্যতা, পড়াশোনা বা চাকরি দিয়ে যা অর্জন করে)।
  • প্রতিযোগিতা: শ্রেণীর মানুষ নিজের ভাগ্য বদলানোর জন্য অন্য শ্রেণীর সাথে প্রতিযোগিতা করতে পারে। কিন্তু জাত প্রথায় পেশা ও নিয়ম আগে থেকেই নির্দিষ্ট থাকায় প্রতিযোগিতা থাকে না।

জাতি ও জাতীয়তার মধ্যে পার্থক্য

জাতি (Nation) এবং জাতীয়তা (Nationality)-র মধ্যকার মূল পার্থক্যগুলো ছকের মাধ্যমে সহজে বুঝানো হলো:

  • পর্যায়
  • পার্থক্যের বিষয় জাতি (Nation) জাতীয়তা (Nationality)
    সহজ সংজ্ঞা রাজনৈতিকভাবে সচেতন ও স্বাধীন বা স্বাধীনতাকামী জনসমষ্টি। একই ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সূত্রে আবদ্ধ মানুষের মানসিক অনুভূতি।
    ধারণা এটি একটি বাস্তব, সক্রিয় এবং রাজনৈতিক রূপ। এটি মূলত একটি মানসিক বা মনস্তাত্ত্বিক অনুভূতি।
    জাতীয়তার চূড়ান্ত বা শেষ রূপ হলো জাতি। জাতি গঠনের প্রথম ধাপ বা প্রাথমিক পর্যায় হলো জাতীয়তা।
    গঠন জনসমাজ + রাজনৈতিক সচেতনতা + স্বাধীনতার ইচ্ছা বা লাভ। জনসমাজের নিজস্ব একতা এবং সাধারণ মিলের চেতনা। উৎপত্তি প্লেটো ও অ্যারিস্টটলের সময়কার প্রাচীন ধারণা। ম্যাকিয়াভেলির হাত ধরে আসা আধুনিক কালের ধারণা।

    সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ) | জাতি ও জাতীয়তা

    প্রশ্ন ১: ভারতের 'জাতির জনক' কাকে বলা হয়?
    উত্তর: মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী (মহাত্মা গান্ধী)-কে ভারতের 'জাতির জনক' বলা হয়। স্বাধীন ভারতের সংসদ আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁকে এই স্বীকৃতি দেয়।

    প্রশ্ন ২: মহাত্মা গান্ধীকে প্রথম কে 'জাতির জনক' বলে সম্বোধন করেছিলেন?
    উত্তর: বিখ্যাত স্বাধীনতা সংগ্রামী নেতা নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু প্রথমবার মহাত্মা গান্ধীকে “জাতির জনক” বলে সম্বোধন করেছিলেন।

    আশা করি, আজকের এই সহজ আলোচনা থেকে ‘জাতি’, এর প্রকারভেদ এবং বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আপনার ধারণা একদম পরিষ্কার হয়ে গেছে। কঠিন বিষয়গুলোকে আপনাদের সামনে সহজ ও সুন্দরভাবে তুলে ধরাই আমাদের মূল লক্ষ্য। এই রকম আরও অনেক শিক্ষণীয়, দরকারি এবং পরীক্ষার জন্য উপকারী তথ্য পেতে নিয়মিত ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট studytika.com। এখানে আপনাদের জন্যই অপেক্ষা করছে আরও অনেক চমৎকার সব পোস্ট, যা আপনার জ্ঞানকে অনেকখানি বাড়িয়ে দেবে। তাই দেরি না করে এখনই আমাদের ওয়েবসাইটের অন্যান্য পোস্টগুলোও পড়ে ফেলুন। আজ এই পর্যন্তই, ভালো থাকুন এবং নতুন নতুন বিষয় শিখতে studytika.com-এর সাথেই থাকুন। ধন্যবাদ!

    Getting Info...

    إرسال تعليق

    Oops!
    It seems there is something wrong with your internet connection. Please connect to the internet and start browsing again.