নিষ্ক্রিয় গ্যাস কাকে বলে? (সহজ সংজ্ঞা) | নিষ্ক্রিয় গ্যাস কয়টি ও কী কী?

প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা, আশা করি তোমরা সবাই অনেক ভালো আছো! বিজ্ঞান বা রসায়ন পড়তে গিয়ে আমাদের অনেকেরই মাথা ঘুরে যায়, তাই না? পর্যায় সারণির এত এত মৌলের ভিড়ে এমন কিছু মৌল আছে, যারা একটু ভিন্ন রকমের। এরা যেন নিজেদের এক আলাদা পৃথিবীতেই শান্তভাবে বাস করে! কেউ এদের সাথে রাগ করুক বা বন্ধুত্ব করতে আসুক, এরা কারো সাথে একদমই মেশে না। কিন্তু কেন এমন হয়? এরা কেন এতটা শান্ত ও আলাদা? রসায়নের এই অদ্ভুত ও মজার রহস্যটি জানতে পুরো পোস্টটি মন দিয়ে শেষ পর্যন্ত পড়ে ফেলো!

নিষ্ক্রিয় গ্যাস কাকে বলে?(সহজ সংজ্ঞা)

নিষ্ক্রিয় গ্যাস কাকে বলে?

যেসব মৌলিক গ্যাস অন্য কোনো পদার্থের সাথে বা নিজেদের পরমাণুর সাথে সহজে বিক্রিয়া করে না, সেগুলোকে নিষ্ক্রিয় গ্যাস বলা হয়। পর্যায় সারণির ১৮ নম্বর গ্রুপে এই গ্যাসগুলোকে রাখা হয়েছে। সাধারণ তাপমাত্রায় এরা সবাই এক-পরমাণুক অবস্থায় থাকে (অর্থাৎ এরা একা একটি পরমাণু হিসেবেই বাতাসে ঘুরে বেড়ায়)।

নিষ্ক্রিয় গ্যাস কাকে বলে? (সহজ সংজ্ঞা) | নিষ্ক্রিয় গ্যাস কয়টি ও কী কী?

নিষ্ক্রিয় গ্যাস কয়টি ও কী কী?

নিষ্ক্রিয় গ্যাস মোট ৬টি। এগুলো হলো:

  • হিলিয়াম (Helium - He)
  • নিয়ন (Neon - Ne)
  • আর্গন (Argon - Ar)
  • ক্রিপ্টন (Krypton - Kr)
  • জেনন (Xenon - Xe)
  • রেডন (Radon - Rn)

নিষ্ক্রিয় মৌলগুলোর নিষ্ক্রিয়তার প্রধান কারণ

নিষ্ক্রিয় গ্যাসগুলো কেন কারো সাথে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে না, তার প্রধান কারণ হলো এদের অত্যন্ত শক্তিশালী ও স্থিতিশীল ইলেকট্রন বিন্যাস। নিচে সহজ ভাষায় কারণগুলো তুলে ধরা হলো:

১. সর্ববহিঃস্থ শক্তিস্তর পূর্ণ থাকা

নিষ্ক্রিয় মৌলগুলোর পরমাণুর সব বাইরের শক্তিস্তর যতগুলো ইলেকট্রন ধারণ করতে পারে, ততগুলো দিয়েই পূর্ণ থাকে।

  • হিলিয়াম (He)-এর বাইরের শক্তিস্তরে ২টি ইলেকট্রন থাকে, যা প্রথম শক্তিস্তরের সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা।
  • অন্যান্য সব নিষ্ক্রিয় গ্যাসের (নিয়ন, আর্গন, ক্রিপ্টন, জেনন, রেডন) বাইরের শক্তিস্তরে s এবং p অরবিটাল মিলে মোট ৮টি ইলেকট্রন (ns² np⁶) থাকে।

২. জোড়ায় জোড়ায় ইলেকট্রন অবস্থান

এদের বাইরের ইলেকট্রনগুলো বিপরীত মুখী স্পিনসহ একদম জোড়ায় জোড়ায় সাজানো থাকে। ফলে ইলেকট্রনগুলো বেশ সুবিন্যস্ত এবং স্থিতিশীল থাকে।

৩. ইলেকট্রন আদান-প্রদান বা শেয়ার না করা

যেকোনো মৌল রাসায়নিক বিক্রিয়া করে মূলত নিজের বাইরের স্তরে ২টি বা ৮টি ইলেকট্রন পূর্ণ করে স্থিতিশীল হওয়ার জন্য। কিন্তু নিষ্ক্রিয় গ্যাসগুলোর এই অবস্থা আগে থেকেই পূর্ণ থাকে। তাই এদের কোনো ইলেকট্রন আসক্তি থাকে না। এরা অন্য কোনো মৌল থেকে ইলেকট্রন গ্রহণও করে না, দানও করে না এবং শেয়ারও করে না।

৪. বন্ধন গঠন না করা

ইলেকট্রন আদান-প্রদান বা শেয়ার করার প্রয়োজন হয় না বলেই এরা কোনো প্রকার রাসায়নিক বন্ধন তৈরি করে না। এরা এতটাই নিষ্ক্রিয় যে, দুটি পরমাণু নিজেদের মধ্যেও কোনো বন্ধন গঠন করে না।

সম্পর্কিত বিষয়সমূহ (Related Posts)

রসায়ন বিষয়ের আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে জানতে নিচের আর্টিকেলগুলো পড়তে পারেন:

  • পর্যায় সারণি (SSC রসায়ন নোট)
  • আইসোবার কাকে বলে ও আইসোবারের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ
  • উদ্ভিদ ও প্রাণীর কাজ পরিচালনায় বিভিন্ন প্রকার কোষের ভূমিকা
  • পর্যায় সারণির বিভিন্ন গ্রুপে উপস্থিত মৌলগুলোর বিশেষ নাম
  • পরমাণুর শক্তিস্তরে ইলেকট্রন বিন্যাসের সহজ নিয়ম

Getting Info...

إرسال تعليق

Oops!
It seems there is something wrong with your internet connection. Please connect to the internet and start browsing again.