প্রেষণা কাকে বলে? (সহজ সংজ্ঞা) | প্রেষণার সংজ্ঞা | প্রেষণা চক্র | প্রেষণার বৈশিষ্ট্য | প্রেষণার প্রয়োজনীয়তা

প্রেষণা হলো সেই শক্তি যা আমাদের লক্ষ্য অর্জনের পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। এটি এক ধরনের মানসিক প্রক্রিয়া যা আমাদের কাজকে আরও সক্রিয় করে তোলে। প্রেষণা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ও শিক্ষায় অপরিসীম গুরুত্ব বহন করে। আসুন, প্রেষণার এই প্রক্রিয়া এবং এর বিভিন্ন দিক সম্পর্কে আরও বিস্তারিতভাবে জানি।

প্রেষণা কাকে বলে? (সহজ সংজ্ঞা) | প্রেষণার সংজ্ঞা | প্রেষণা চক্র | প্রেষণার বৈশিষ্ট্য | প্রেষণার প্রয়োজনীয়তা

প্রেষণা কাকে বলে?

প্রেষণা হচ্ছে প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য অধিকতর কর্মপ্রচেষ্টা চালানোর ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষা।

প্রেষণা হচ্ছে এক ধরনের প্রক্রিয়া, যা মানুষের কাজকে উৎসাহ দেয়। এটি প্রতিষ্ঠানকে তার লক্ষ্য অর্জনে সাহায্য করে। যখন কেউ প্রেরণা পায়, তখন তার কাজ করার ইচ্ছা বেড়ে যায়।

প্রেষণার সংজ্ঞা

প্রেষণা মানে হলো, এক ধরনের মানসিক প্রক্রিয়া যা মানুষের মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টি করে। বিভিন্ন মনোবিদেরা প্রেষণাকে বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। মনোবিদ সুইফট বলছেন, মানুষের চাহিদা পূরণের জন্য যে প্রক্রিয়া কাজ করে, সেটাই প্রেষণা। আর ক্রাইডা বলছেন, যে আকাঙ্ক্ষা ও প্রয়োজন মানুষের কাজের দিকে তাকে চালনা করে, সেটি প্রেষণা।

প্রেষণা চক্র

প্রেষণা শিখনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি আমাদের কাজের জন্য অনুপ্রেরণা দেয়। প্রেষণার চারটি ধাপ রয়েছে:

  1. চাহিদা বা অভাববোধ: মানুষের মধ্যে অভাব বা চাহিদা তৈরি হয়। যেমন ক্ষুধা, তৃষ্ণা ইত্যাদি।
  2. তাড়না: চাহিদা থেকে তৈরি হওয়া অস্বস্তিকর অবস্থাকে তাড়না বলা হয়।
  3. সহায়ক আচরণ: অস্বস্তি দূর করার জন্য যেসব কাজ করা হয়, তা সহায়ক আচরণ।
  4. লক্ষ্য পূরণ: লক্ষ্য পূরণ হলে অস্বস্তি দূর হয় এবং ব্যক্তি সন্তুষ্ট হয়।

প্রেষণার বৈশিষ্ট্য

প্রেষণার কিছু বৈশিষ্ট্য আছে:

  1. প্রেষণা মানুষের চাহিদার উপর নির্ভর করে।
  2. তাড়না মানসিক অবস্থার সৃষ্টি করে।
  3. লক্ষ্য অর্জনের মাধ্যমে চাহিদা পূরণ হয়।
  4. প্রেষণার শক্তি বাড়তে বা কমতে পারে।
  5. প্রেষণা কাজকে লক্ষ্যপানে পরিচালিত করে।

শিক্ষায় প্রেষণার গুরুত্ব

শিক্ষার্থীদের শিখনের জন্য প্রেষণা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি তাদের কাজে উদ্যম দেয়। প্রেষণার কিছু গুরুত্ব হলো:

  1. উদ্যম সৃষ্টি: প্রেষণা শিক্ষার্থীদের অভ্যন্তরীণ শক্তি জাগিয়ে তোলে।
  2. লক্ষ্যভিত্তিক: প্রেষণা শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য অর্জনে সাহায্য করে।
  3. আগ্রহ: শিক্ষার্থীদের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি করে।
  4. মনোযোগ: প্রেষণা শিক্ষার্থীদের মনোযোগ বাড়ায়।
  5. প্রশংসা: প্রশংসা শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করে।
  6. অভ্যাস গঠন: প্রেষণা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভাল অভ্যাস তৈরি করে।
  7. সৃজন ক্ষমতা: এটি সৃজনশীলতা বৃদ্ধি করে।
  8. কর্মসম্পাদন: শিখনের সময় সঠিক কাজ করতে সাহায্য করে।

প্রেষণার প্রয়োজনীয়তা

প্রতিষ্ঠানের সাফল্য তার কর্মীদের উপর নির্ভর করে। কর্মীদের প্রেষণা দেওয়া খুবই জরুরি। প্রেষণার কিছু গুরুত্ব হলো:

  1. উৎপাদন বৃদ্ধি: সঠিক প্রেষণা কর্মীদের শক্তি বাড়ায়।
  2. মানব সম্পদের সঠিক ব্যবহার: প্রেষণা কর্মীদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করে।
  3. দক্ষতা বৃদ্ধি: প্রেষণা কর্মীদের দায়িত্ব পালন করতে সাহায্য করে।
  4. অপচয় হ্রাস: দক্ষ কর্মীদের কারণে সময় ও সম্পদের অপচয় কমে।
  5. চাকুরি ত্যাগের হার হ্রাস: প্রেষিত কর্মীরা প্রতিষ্ঠানে থাকতে চায়।
  6. শ্রমিক আন্দোলন হ্রাস: প্রেষণা কাম্য পর্যায়ে থাকলে আন্দোলন কমে।
  7. নির্দেশনার সঠিক বাস্তবায়ন: অনুপ্রাণিত কর্মীরা নির্দেশ পালন করে।
  8. সম্পদের যথাযথ সংরক্ষণ: কর্মীরা সম্পদ রক্ষা করে।
  9. প্রতিষ্ঠানের সুনাম বৃদ্ধি: কর্মীরা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে কাজ করে।
  10. ব্যবস্থাপনা-শ্রমিক সম্পর্কের উন্নয়ন: কর্মীদের প্রেষণা সম্পর্ক উন্নয়নে সাহায্য করে।
আশা করি, প্রেষণার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে আপনাদের ভালো ধারণা হয়েছে। আরও এমন শিক্ষামূলক পোস্ট পড়তে চাইলে আমার ওয়েবসাইট studytika.com-এ ঘুরে আসতে ভুলবেন না!

Getting Info...

إرسال تعليق

Oops!
It seems there is something wrong with your internet connection. Please connect to the internet and start browsing again.