ব্রডগেজ ট্রেন (Broad Gauge Train)
ব্রডগেজ ট্রেন বড় প্রস্থের রেলপথ ব্যবহার করে। বাংলাদেশের ঢাকার সাথে উত্তরাঞ্চল যুক্ত হয়েছে মূলত ব্রডগেজ রেল লাইনের মাধ্যমে। ব্রডগেজ লাইনের প্রস্থ ১৬৭৬ মিলিমিটার বা ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি। এক কোচের সর্বাধিক আসন সংখ্যা সাধারণত ১০৫ জন, যেখানে বেশিরভাগ কোচের আসন সংখ্যা ১০৪ জন। ব্রডগেজ লোকোর সর্বাধিক শক্তি ৩০০০ HP।
মিটারগেজ ট্রেন (Meter Gauge Train)
মিটারগেজ ট্রেনের রেলপথের প্রস্থ ১০৬৭ মিলিমিটার বা ৩ ফুট ৬ ইঞ্চি। এটি সংস্থাপন খরচে কম এবং কম জায়গায় সুবিধাজনক। মিটারগেজ ট্রেনের একটি কোচে সর্বাধিক ৭৫ আসন থাকে, যেখানে বেশিরভাগ কোচের আসন সংখ্যা ৬৮ জন। মিটারগেজ লোকোর সর্বাধিক শক্তি ১৫০০ HP, যা ব্রডগেজের তুলনায় অর্ধেক।
ব্রডগেজ ট্রেনের বৈশিষ্ট্য
- রেললাইনের প্রস্থ: ১৬৭৬ মিলিমিটার (৫ ফুট ৬ ইঞ্চি)
- এক কোচের সর্বাধিক আসন সংখ্যা: ১০৫
- বেশিরভাগ কোচের আসন সংখ্যা: ১০৪
- লোকোর সর্বাধিক শক্তি: ৩০০০ HP
- প্রধানত বেশি দূরত্ব ও ভারী মালামাল পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত
মিটারগেজ ট্রেনের বৈশিষ্ট্য
- রেললাইনের প্রস্থ: ১০৬৭ মিলিমিটার (৩ ফুট ৬ ইঞ্চি)
- এক কোচের সর্বাধিক আসন সংখ্যা: ৭৫
- বেশিরভাগ কোচের আসন সংখ্যা: ৬৮
- লোকোর সর্বাধিক শক্তি: ১৫০০ HP
- কম খরচে স্থাপনযোগ্য এবং কম স্থান প্রয়োজন
মূল পার্থক্য সারসংক্ষেপ
| বৈশিষ্ট্য | ব্রডগেজ ট্রেন | মিটারগেজ ট্রেন |
|---|---|---|
| রেল লাইনের প্রস্থ | ১৬৭৬ মিমি (৫'৬") | ১০৬৭ মিমি (৩'৬") |
| এক কোচের সর্বাধিক আসন | ১০৫ | ৭৫ |
| লোকোর সর্বাধিক শক্তি | ৩০০০ HP | ১৫০০ HP |
| মূল ব্যবহার | দূরত্ব, মালামাল পরিবহন ও বেশি ট্রাফিকের জন্য | কম খরচে, কম স্থান প্রয়োজন ও সীমিত দূরত্বের জন্য |
উপরের তথ্য থেকে বোঝা যায় যে, ব্রডগেজ এবং মিটারগেজ ট্রেনের মধ্যে মূল পার্থক্য তাদের রেললাইনের প্রস্থ, কোচের আসন সংখ্যা এবং লোকোর শক্তিতে নিহিত। বাংলাদেশের রেলপথে উভয় ধরনের ট্রেন চলাচল করে, যা দেশজুড়ে যাত্রী ও মালামাল পরিবহনকে সমর্থন করে। আরও বিস্তারিত রেলপথ তথ্যের জন্য ভিজিট করুন studytika.com।