এই ব্লগপোস্টে আমরা শিখব একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাবসম্প্রসারণ — "দুর্জন বিদ্বান হইলেও পরিত্যাজ্য"। সহজ ভাষায় বুঝিয়ে লেখা হয়েছে যাতে Class 6 থেকে HSC পর্যন্ত সব শিক্ষার্থীরা উপকৃত হতে পারে। পুরোটা পড়লে এই ভাবসম্প্রসারণটি সহজেই বুঝতে পারবেন।
দুর্জন বিদ্বান হইলেও পরিত্যাজ্য
মূলভাব : বিদ্যা অমূল্য সম্পদ হলেও চরিত্রহীন বিদ্বান ব্যক্তির সঙ্গ ত্যাগ করা মঙ্গলজনক।
সম্প্রসারিত ভাব : চরিত্রের মূল্য বিদ্যার চেয়ে অনেক বেশি, এ বিষয়ে কারো কোনো সন্দেহ নেই। সমাজে চরিত্রহীন মানুষকে সবাই ঘৃণা করে, সে বিদ্বান হোক বা মূর্খ। এমন ব্যক্তির সঙ্গ ত্যাগ করাই উত্তম। যেমন প্রবাদ বলে, কিছু বিষধর সাপের মাথায় মূল্যবান মণি থাকে, কিন্তু কোনো ব্যক্তি মণি লাভের আশায় বিষধর সাপের সঙ্গ পেলে তা মূর্খতার সমতুল্য হবে, কারণ এতে ক্ষতি লাভের চেয়ে বেশি হবে। কারণ এতে মৃত্যুর আশংকা থাকে। তাই দুর্জন বিদ্বান ব্যক্তির সঙ্গে চলাফেরাও মঙ্গলজনক নয়। এতে জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ অর্থাৎ নিষ্কলুষ চরিত্রও কলুষিত হতে পারে। তাই দুর্জন ব্যক্তি অর্থাৎ চরিত্রহীন ব্যক্তি বিদ্বান হলেও তার সঙ্গ ত্যাগ করা উচিত।
চরিত্র মানবজীবনের শ্রেষ্ঠতম সম্পদ আর সে চরিত্র একবার নষ্ট হয়ে গেলে সে আর মানুষ থাকে না, সে পশু বলে পরিগণিত হয়। তাই চরিত্রহীন বিদ্বান হলেও তার সাহচর্য ত্যাগ করাই শ্রেয়।
ভাবসম্প্রসারণটি অন্য একটি বই থেকেও সংগ্রহ করে দেওয়া হলো
মূলভাব: বিদ্যা মানুষের গুণাবলির মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলেও, শুধু বিদ্বান হওয়াই যথেষ্ট নয় যে কেউ সজ্জন হবে। যদি কোনো বিদ্বান ব্যক্তি সততার গুণে সজ্জিত না হয়, তবে তার সঙ্গ ত্যাগ করাই শ্রেয়।
সম্প্রসারিত ভাব: বিদ্যা মানুষের অমূল্য ধন , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু চরিত্র বিদ্যার চেয়েও বেশি মূল্যবান। যত বড় বিদ্বানই হোক না কেন , চরিত্রহীন লোক কখনো লোকসমাজে প্রশংসা লাভ করতে পারে না। তাকে সকলেই ঘৃণা ও নিন্দা করে থাকে। এরূপ চরিত্রহীন বিদ্বান লোকের সঙ্গ ত্যাগ করাই মঙ্গলজনক। কথিত আছে , কোনো কোনো বিষধর সাপের মাথায় মহামূল্য মণি রয়েছে। এর একটা মণি সংগ্রহ করতে পারলে বিপুল ধন - সম্পদের অধিকারী হওয়া যায়। তাই বলে মণি লাভের জন্য কোনো বুদ্ধিমান লোক সাপের সাহচর্য লাভ করতে চায় না। এতে জীবন নাশের আশঙ্কা থাকে। সেরূপ বিদ্যা অমূল্য ধন হলেও চরিত্রহীন দুর্জন বিদ্বান লোকের সাহচর্যে যাওয়া কিছুতেই মঙ্গলজনক নয়। এতে মানবজীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ চরিত্র নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সচ্চরিত্র ব্যক্তি মূর্খ হলেও অসচ্চরিত্র বিদ্বান অপেক্ষা শ্রেষ্ঠতর। কারণ চরিত্রহীনের বিদ্যা - বুদ্ধি জ্ঞানবান বা চরিত্রবান ব্যক্তির কোনো কাজে লাগে না। কাজেই জীবনের সর্বক্ষেত্রেই অসচ্চরিত্র ব্যক্তির সাহচর্য পরিত্যাগ করে চলাই বাঞ্ছনীয।
ভাবসম্প্রসারণটি অন্য একটি বই থেকেও সংগ্রহ করে দেওয়া হলো
দুর্জনের স্বভাব হলো অন্যকে ক্ষতি করা। তাই কোনো শিক্ষিত ব্যক্তি যদি চরিত্রহীন হয়, তার সঙ্গ ত্যাগ করাই ভালো। কারণ তার কাছ থেকে উপকার পাওয়ার চেয়ে ক্ষতির সম্ভাবনা বেশি। বিদ্বান ব্যক্তি সতী না হলে তার সান্নিধ্যও কাম্য নয়।
মনুষ্যত্ব-বিরোধী কুপ্রবৃত্তিগুলো দুর্জন লোকের নিত্যসঙ্গী। এই ধরণের ব্যক্তির নৈতিক চরিত্র দুর্বল, ব্যবহারে এরা রূঢ়, চিন্তায় তরল। সমাজ, দেশ বা জাতি কেউ এদের দ্বারা উপকৃত হয় না। এরা সমাজের কলঙ্ক। এরা আত্মকেন্দ্রিক, লোভী এবং স্বার্থপর। কোনো কোনো দুর্জন লোক প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয় বটে, কিন্তু বাস্তবে হয় না জ্ঞানী। তাদের শিক্ষার সার্টিফিকেট একটি কাগজ ছাড়া অন্য কিছু নয়। সার্টিফিকেট-সর্বস্ব শিক্ষা এদেশে চরিত্রে ও মানসিতায় কোনো পরিবর্তন ঘটাতে পারে না। এরা শিক্ষিত হয়ে আরো ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে। চাতুরি ও ছলনায় আরও কূটকৌশলী হয়ে এরা সহজ-সরল মানুষকে প্রতারিত করে। এদের সাহচর্যে সততার অপমৃত্যু ঘটে। মানুষের সবচেয়ে বড় গুণ তার চরিত্র। মানুষের এই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ঠিক রেখে অপরাপর বৈশিষ্ট্যের বিকাশ ঘটানো আবশ্যক। তেমনি, বিদ্বান হওয়াও একটি গুণ। বিদ্যা অর্জনের মাধ্যমে মানুষ যথার্থ মানুষ হয়ে ওঠে। বিদ্যা মানুষের মনের চোখ খুলে দেয়। বিদ্যা মানুষের জীবনে সফলতার সহায়ক। বিদ্বানের সংস্পর্শে আসলে জ্ঞানের আলো মনকে উজ্জ্বল করে। কিন্তু যদি কোনো বিদ্বান ব্যক্তি চরিত্রহীন হয়, তবে তার বিদ্যার কোনো মূল্য থাকে না; সে তা অন্যায়ের কাজে ব্যবহার করতে পারে। নিজের স্বার্থ বা অসৎ উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য এরা যেকোনো কৌশল ব্যবহার করতে পারে। চারিত্রহীন বিদ্বান থেকে জ্ঞান লাভ করেও জীবনে কোনো কল্যাণ করা যায় না। তাই দুর্জন যদি বিদ্বানও হয়, তার সান্নিধ্য ত্যাগ করাই মঙ্গলজনক।
আশা করি উপরের ভাবসম্প্রসারণটি আপনার উপকারে এসেছে। আরও অনেক সুন্দর ও সহজ ভাষায় লেখা ভাবসম্প্রসারণ পড়তে ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট StudyTika.com।