কেমন আছেন বন্ধুরা? রসায়ন বা কেমিস্ট্রি পড়তে গেলে অনেক সময় আমরা ছোট ছোট কিছু খটকা বা কনফিউশনে পড়ে যাই। তেমনই একটি মজার কিন্তু জরুরি টপিক হলো 'সুপ্ত যোজনী'। আপনি কি জানেন, একটি মৌল সবসময় তার পুরো শক্তি বা ক্ষমতা ব্যবহার করে না? কিছু অংশ সে লুকিয়ে রাখে। এই লুকিয়ে রাখা যোজনীটাই কিন্তু পরীক্ষার খাতায় আমাদের অনেক সময় বিপদে ফেলে দেয়। কিন্তু বিশ্বাস করুন, এটি বের করা পানির মতো সহজ! আপনি কি জানতে চান কীভাবে খুব সহজে মাত্র কয়েক সেকেন্ডে যেকোনো মৌলের সুপ্ত যোজনী নির্ণয় করা যায়? তাহলে আজকের এই ছোট্ট পোস্টটি আপনার জন্যই। শেষ পর্যন্ত পড়লে সুপ্ত যোজনী নিয়ে আপনার মনে আর কোনো ভয় থাকবে না, এটা গ্যারান্টি!
সুপ্ত যোজনী কী? (Definition)
কোনো মৌলের সর্বোচ্চ যোজনী এবং সেই মৌল যে যোজনী ব্যবহার করে (সক্রিয় যোজনী), এই দুইয়ের পার্থক্যকে সুপ্ত যোজনী বলে।
সহজভাবে বুঝি
একটি মৌল সবসময় তার সর্বোচ্চ ক্ষমতা ব্যবহার করে না।
যখন কম যোজনী ব্যবহার করে, তখন বাকি যোজনী অংশকে বলা হয় সুপ্ত যোজনী।
সক্রিয় যোজনী কী?
কোনো মৌল যখন কোনো যৌগ তৈরি করে, তখন সে যে যোজনী ব্যবহার করে তাকে সক্রিয় যোজনী বলে।
উদাহরণ (সালফার - S)
H₂SO₄ এ S এর সক্রিয় যোজনী = ৬
H₂S এ S এর সক্রিয় যোজনী = ২
SO₂ এ S এর সক্রিয় যোজনী = ৪
সর্বোচ্চ যোজনী
S (সালফার) এর সর্বোচ্চ যোজনী = ৬
সুপ্ত যোজনী নির্ণয়ের সূত্র
সুপ্ত যোজনী = সর্বোচ্চ যোজনী − সক্রিয় যোজনী
সুপ্ত যোজনী নির্ণয়ের উদাহরণ
১. H₂SO₄ এ
S এর সুপ্ত যোজনী = ৬ − ৬ = ০
২. H₂S এ
S এর সুপ্ত যোজনী = ৬ − ২ = ৪
৩. SO₂ এ
S এর সুপ্ত যোজনী = ৬ − ৪ = ২
৪. PCl₃ এ
P এর সর্বোচ্চ যোজনী = ৫
P এর সক্রিয় যোজনী = ৩
সুপ্ত যোজনী = ৫ − ৩ = ২
৫. FeCl₃ এ
Fe এর সর্বোচ্চ যোজনী = ৩
Fe এর সক্রিয় যোজনী = ৩
সুপ্ত যোজনী = ৩ − ৩ = ০
৬. FeCl₂ এ
Fe এর সর্বোচ্চ যোজনী = ৩
Fe এর সক্রিয় যোজনী = ২
সুপ্ত যোজনী = ৩ − ২ = ১
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
সাধারণত যেসব মৌলের একাধিক যোজনী থাকে, সেই মৌলগুলোর ক্ষেত্রেই সুপ্ত যোজনী নির্ণয় করা হয়।