বর্ণ কাকে বলে? (সহজ সংজ্ঞা) | বর্ণমালা কাকে বলে? | বর্ণমালা কত প্রকার?

আপনি কি কখনও ভেবেছেন, আমরা যখন কথা বলি বা কিছু লিখি, তখন সেই ছোট ছোট শব্দগুলো কিভাবে তৈরি হয়? প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি চিহ্নের পেছনে লুকিয়ে আছে একটি সুন্দর নিয়ম। আজ আমরা সেই বিষয়টিকে সহজ ভাষায় বোঝার চেষ্টা করব। এখানে আপনি জানতে পারবেন বর্ণ, বর্ণমালা, স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণের সব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। তাই পুরো পোস্টটি শেষ পর্যন্ত পড়লে আপনি নিশ্চয়ই খুব সুন্দরভাবে বুঝতে পারবেন।

বণ কাকে বলে?(সহজ সংজ্ঞা)

বর্ণ কাকে বলে?

মানুষ যখন কথা বলে, তখন যে ছোট ছোট আওয়াজ হয়, সেই আওয়াজকে লিখে বোঝানোর জন্য যে চিহ্ন ব্যবহার করা হয়, তাকে বর্ণ বলে।

উদাহরণ: অ, আ, ই, ঈ, ক, খ, গ, ঘ ইত্যাদি। ইংরেজি বর্ণ: a, b, c, d।

বর্ণ কাকে বলে? (সহজ সংজ্ঞা) | বর্ণমালা কাকে বলে? | বর্ণমালা কত প্রকার?

বর্ণমালা কাকে বলে?

বাংলা ভাষায় স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণ মিলিয়ে যে মোট ৫০টি বর্ণ রয়েছে, তাকে বর্ণমালা বলে।

বাংলায় অ থেকে চন্দ্রবিন্দু পর্যন্ত মোট ৫২টি বর্ণ রয়েছে। ইংরেজিতে A থেকে Z পর্যন্ত ২৬টি বর্ণ রয়েছে।

বাংলায় অ, আ, ক, খ না জানলে ভাষা শেখা যায় না। ইংরেজিতে a, b, c, d না জানলে ইংরেজি শেখা যায় না।

ভাষার প্রতিটি অক্ষরকে বর্ণ বলা হয়। ইংরেজিতে ২৬টি বর্ণকে একত্রে বর্ণমালা বলা হয়।

বর্ণমালা কত প্রকার?

বর্ণমালা সাধারণত দুই প্রকারের:

  • স্বরবর্ণ
  • ব্যঞ্জনবর্ণ

নিচে আমরা এই দুই প্রকার বর্ণ বিস্তারিতভাবে জানব।

স্বরবর্ণ কাকে বলে?

যে বর্ণ অন্য বর্ণের সাহায্য ছাড়া নিজে নিজে উচ্চারণ হতে পারে, তাকে স্বরবর্ণ বলে।

বাংলায় মোট ১১টি স্বরবর্ণ রয়েছে: অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ, ঋ, এ, ঐ, ও, ঔ।

স্বরবর্ণের ভাগ

স্বরবর্ণকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে:

  • হ্রস্ব স্বর
  • দীর্ঘ স্বর
হ্রস্ব স্বর

যে স্বরবর্ণ খুব অল্প সময়ে উচ্চারণ করা যায়, তাকে হ্রস্ব স্বর বলে। উদাহরণ: অ, আ, উ, ঋ।

দীর্ঘ স্বর

যে স্বরবর্ণ উচ্চারণ করতে বেশি সময় লাগে, তাকে দীর্ঘ স্বর বলে। উদাহরণ: আ, ঈ, ঊ, এ, ঐ, ও, ঔ।

ব্যঞ্জনবর্ণ কাকে বলে?

যে বর্ণ অন্য বর্ণের সাহায্য ছাড়া উচ্চারণ হয় না, তাকে ব্যঞ্জনবর্ণ বলে।

বাংলায় মোট ৩৯টি ব্যঞ্জনবর্ণ রয়েছে। উদাহরণ: ক, খ, গ, ঘ, ঙ, চ, ছ, জ, ঝ, ঞ, ট, ঠ, ড, ঢ, ণ, ত, থ, দ, ধ, ন, প, ফ, ব, ভ, ম, য, র, ল, শ, ষ, স, হ, ড়, ঢ়, য়, ৎ, ং, ঃ, ঁ।

ব্যঞ্জনবর্ণের শ্রেণী

ব্যঞ্জনবর্ণের বিভিন্ন শ্রেণী রয়েছে:

স্পর্শবর্ণ

ক থেকে ম পর্যন্ত ২৫টি বর্ণ। উচ্চারণের সময় মুখের কিছু অংশ স্পর্শ করে।

  • ক বর্ণ: ক, খ, গ, ঘ, ঙ
  • চ বর্ণ: চ, ছ, জ, ঝ, ঞ
  • ট বর্ণ: ট, ঠ, ড, ঢ, ণ
  • ত বর্ণ: ত, থ, দ, ধ, ন
  • প বর্ণ: প, ফ, ব, ভ, ম
কণ্ঠবর্ণ

ক, খ, গ, ঘ, ঙ – উচ্চারণে জিহ্বামূলে কণ্ঠে স্পর্শ হয়।

তালব্যবর্ণ

চ, ছ, জ, ঝ, ঞ – উচ্চারণে জিহ্বা তালুতে স্পর্শ হয়।

মূর্ধন্যবর্ণ

ট, ঠ, ড, ঢ, ণ – উচ্চারণে জিহ্বা উল্টিয়ে উচ্চারণ হয়।

দন্তবর্ণ

ত, থ, দ, ধ, ন – উচ্চারণে জিহ্বা দাঁতে স্পর্শ করে।

ওষ্ঠ্যবর্ণ

প, ফ, ব, ভ, ম – উচ্চারণে ওষ্ঠ্য এবং অধরের স্পর্শ হয়।

নাসিকাবর্ণ

ঙ, ঞ, ণ, ন, ম – সাধারণত নাসিকার সাহায্যে উচ্চারণ হয়।

অন্তঃস্ববর্ণ

য, র, ল, ব – স্পর্শ বর্ণ ও উম্মবর্ণের মাঝামাঝি।

উষ্মবর্ণ

শ, ষ, স, হ – উচ্চারণে শ্বাসের প্রাধান্য থাকে।

মহা প্রাণবর্ণ

দ্বিতীয় ও চতুর্থ বর্ণের উচ্চারণে প্রাণ জোরে উচ্চারণ হয়। উদাহরণ: খ, ঘ, ছ, ঝ।

অল্প প্রাণবর্ণ

প্রথম ও তৃতীয় বর্ণের উচ্চারণ হালকা প্রাণে হয়। উদাহরণ: ক, গ, চ, জ।

এখন আপনি বর্ণ ও বর্ণমালা সম্পর্কে কিছুটা ধারণা পেয়েছেন। কিন্তু আরও বিস্তারিত জানার জন্য আমাদের অন্যান্য পোস্টগুলোও দেখুন। StudyTika.com-এ আরও অনেক সহজ ও শিক্ষামূলক পোস্ট রয়েছে যা আপনার পড়াশোনাকে আরও মজাদার করে তুলবে। সব পোস্ট একবার ঘুরে দেখার চেষ্টা করুন, নতুন নতুন তথ্য আপনার জন্য অপেক্ষা করছে!

Getting Info...

إرسال تعليق

Oops!
It seems there is something wrong with your internet connection. Please connect to the internet and start browsing again.