কৃদন্ত পদ কাকে বলে? (সহজ সংজ্ঞা) | কৃদন্ত পদ কী? (সংজ্ঞা)

 বাংলা ব্যাকরণ অনেক সময় আমাদের কাছে একটু কঠিন মনে হয়। কিন্তু যদি বিষয়গুলো সহজভাবে বোঝানো হয়, তাহলে সেগুলো খুব সহজেই মনে রাখা যায়। অনেক ছাত্র-ছাত্রীই “কৃদন্ত পদ” নামটি শুনে একটু বিভ্রান্ত হয়ে যায় এবং ঠিকভাবে বুঝতে পারে না এটি আসলে কী। তাই এই পোস্টে আমরা খুব সহজ ভাষায় বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করেছি, যাতে যে কেউ পড়ে সহজেই বুঝতে পারে। আপনি যদি স্কুল, কলেজ বা যেকোনো পরীক্ষার জন্য বাংলা ব্যাকরণ শিখতে চান, তাহলে এই লেখাটি আপনার জন্য খুবই উপকারী হবে। তাই পুরো পোস্টটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন, তাহলে কৃদন্ত পদ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পেয়ে যাবেন।

কৃদন্ত পদ কাকে বলে?(সহজ সংজ্ঞা)

কৃদন্ত পদ কাকে বলে

যে পদ ধাতুর সাথে কৃত্‌ প্রত্যয় যোগ করে গঠিত হয় তাকে কৃদন্ত পদ বলে।

বাংলা ব্যাকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কৃদন্ত পদ। ছাত্র-ছাত্রীদের বোঝার সুবিধার্থে নিচে সহজভাবে এর সংজ্ঞা ও উদাহরণ আলোচনা করা হলো।

কৃদন্ত পদ কী? (সংজ্ঞা)

সহজ কথায়, ধাতুর (ক্রিয়ামূল) সাথে যখন 'কৃৎ প্রত্যয়' যুক্ত হয়ে নতুন কোনো শব্দ তৈরি করে, তখন সেই শব্দকে কৃদন্ত পদ বা কৃদন্ত শব্দ বলা হয়।

শব্দটি বিশ্লেষণ করলে পাওয়া যায়:
কৃদন্ত = কৃৎ + অন্ত।
অর্থাৎ, যার শেষে 'কৃৎ' প্রত্যয় আছে, তাকেই কৃদন্ত পদ বলে।


কৃদন্ত পদ কীভাবে গঠিত হয়?

কৃদন্ত পদ বোঝার জন্য আমাদের দুটি জিনিস জানতে হবে:

  • ধাতু: ক্রিয়ার মূল অংশকে ধাতু বলে।
  • কৃৎ প্রত্যয়: যে প্রত্যয় ধাতুর সাথে যুক্ত হয়।

যখন একটি ধাতুর সাথে কৃৎ প্রত্যয় যোগ করা হয়, তখন একটি নতুন শব্দ তৈরি হয়। এই নতুন শব্দটিই হলো কৃদন্ত পদ। বিশেষভাবে মনে রাখা প্রয়োজন যে, সমাস (যেমন: উপপদ তৎপুরুষ সমাস) আলোচনার ক্ষেত্রে কৃদন্ত পদের ধারণা থাকা খুবই জরুরি।


কৃদন্ত পদের উদাহরণ

নিচে কিছু প্রচলিত কৃদন্ত পদের তালিকা দেওয়া হলো:

গ্রহণ, বর্জন, দৃষ্টি, শ্রোতা, কার্য, দৃশ্য, বাক্য, গমন, গামী, দর্শী, জাত, জ, দাতা, দ, দা, কর, কার, কারী, কারক, করণ, হরণ, হারী, হর ইত্যাদি।


স্বাধীন ও পরাধীন কৃদন্ত পদ

উপরের উদাহরণগুলো লক্ষ করলে দেখা যায়, কিছু কৃদন্ত পদের অর্থ আমরা সরাসরি বুঝতে পারি (যেমন: দাতা, গ্রহণ)। কিন্তু কিছু পদের অর্থ একা একা বোঝা যায় না। এগুলো অন্য কোনো শব্দের সাহায্য নিয়ে অর্থপূর্ণ হয়ে ওঠে।

১. সরাসরি ব্যবহৃত কৃদন্ত পদ:

এরা বাক্য বা শব্দে স্বাধীনভাবে বসে অর্থ প্রকাশ করতে পারে। যেমন: দাতা, করণ, বর্জন

২. আশ্রিত কৃদন্ত পদ:

এরা সাধারণত উপসর্গ বা অন্য কোনো শব্দের (উপপদ) সাহায্যে ব্যবহৃত হয়। নিচে এর কয়েকটি উদাহরণ দেওয়া হলো:

শব্দ/উপসর্গ কৃদন্ত পদ গঠিত নতুন শব্দ
দূর গামী দূরগামী
পঙ্ক পঙ্কজ
জল জলদ
উপ কার উপকার

দেখুন, উপরে যে 'গামী', 'জ' বা 'দ' শব্দগুলোর একা কোনো অর্থ পরিষ্কার ছিল না, সেগুলো অন্য শব্দের সাথে যুক্ত হয়ে কত সুন্দর অর্থ প্রকাশ করছে!

আশা করি এই পোস্টটি পড়ে আপনি কৃদন্ত পদ সম্পর্কে সহজভাবে বুঝতে পেরেছেন। আমরা চেষ্টা করেছি বিষয়টি এমনভাবে বোঝাতে যাতে যে কোনো ছাত্র-ছাত্রী খুব সহজেই মনে রাখতে পারে। পড়াশোনাকে সহজ করার জন্য এমন আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ নোট, ব্যাখ্যা এবং শিক্ষামূলক পোস্ট নিয়মিত প্রকাশ করা হয়। তাই অনুরোধ থাকবে, আরও দরকারি তথ্য ও সহজ ব্যাখ্যা পড়তে আমাদের ওয়েবসাইট StudyTika.com ভিজিট করুন এবং অন্য পোস্টগুলোও দেখে নিন। এতে আপনার পড়াশোনা আরও সহজ হয়ে যাবে।

Getting Info...

إرسال تعليق

Oops!
It seems there is something wrong with your internet connection. Please connect to the internet and start browsing again.