তুমি কি কখনো ভেবেছো, আমাদের চারপাশে যে বিদ্যুৎ ব্যবহার করি, সেটা আসলে কিভাবে মাপা হয়? 🤔 ছোট একটা যন্ত্র কিভাবে এত গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে—এটা জানলে তুমি অবাক হয়ে যাবে! অনেক সময় আমরা শুধু নাম জানি, কিন্তু এর পেছনের গল্প বা ব্যবহার ঠিকমতো জানি না। আর মজার বিষয় হলো, এই ছোট যন্ত্রটির সাথে জড়িয়ে আছে অনেক বিজ্ঞানীর পরিশ্রম আর ইতিহাস! ⚡ এই পোস্টে তুমি ধাপে ধাপে খুব সহজ ভাষায় এমন কিছু জানবে, যা তোমার পড়াশোনাকে আরও সহজ করে দেবে। তাই পুরোটা না পড়ে গেলে কিন্তু আসল মজাটাই মিস করে ফেলবে!
অ্যামিটার কাকে বলে?
যে যন্ত্রের সাহায্যে কোনো বৈদ্যুতিক বর্তনীর তড়িৎ প্রবাহ সরাসরি অ্যাম্পিয়ার এককে মাপা যায় তাকে অ্যামিটার বলে।
অ্যামিটার কে আবিষ্কার করেন?
অ্যামিটার একদিনে তৈরি হয়নি। ধাপে ধাপে কয়েকজন বিজ্ঞানীর কাজের মাধ্যমে এটি তৈরি হয়েছে। নিচে সহজভাবে তাদের সম্পর্কে বলা হলো:
আলেসান্দ্রো ভোল্টা
১৮০০ সালে আলেসান্দ্রো ভোল্টা প্রথম বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হন। তার এই আবিষ্কারের ভিত্তিতে একটি সহজ গ্যালভানোমিটার তৈরি করা হয়, যা দিয়ে বর্তনীর তড়িৎ প্রবাহ মাপা যেত।
জোসেফ হেনরি
১৮২২ সালে জোসেফ হেনরি আরও উন্নত গ্যালভানোমিটার তৈরি করেন। এটি আগের তুলনায় বেশি নির্ভুলভাবে তড়িৎ প্রবাহ পরিমাপ করতে পারত।
ইয়োহান গ্যোটলিব গ্যালে
১৮২৭ সালে গ্যালে একটি চলমান কয়েল অ্যামিটার তৈরি করেন। এটি বেশি পরিসর এবং বেশি নির্ভুলভাবে তড়িৎ প্রবাহ মাপতে পারত।
এই তিনজন বিজ্ঞানীর অবদানেই ধীরে ধীরে অ্যামিটারের উন্নতি হয়েছে।
আধুনিক অ্যামিটার
১৮৯০-এর দশকে আধুনিক অ্যামিটার তৈরি হয়। এ সময় এডওয়ার্ড ওয়েস্টনসহ অনেক প্রকৌশলী নতুন ধরনের অ্যামিটার তৈরি করেন, যা বেশি নির্ভুল, নির্ভরযোগ্য এবং ব্যবহার করা সহজ।
বর্তনীতে অ্যামিটার কিভাবে সংযোগ দেয়া হয়?
অ্যামিটারকে বর্তনীতে শ্রেণী সংযোগে (Series connection) যুক্ত করা হয়। অর্থাৎ এটি এমনভাবে বসানো হয় যাতে পুরো তড়িৎ প্রবাহ অ্যামিটারের ভেতর দিয়ে যায়।
এ জন্য অ্যামিটারের দুইটি টার্মিনাল বর্তনীর দুটি বিন্দুর সাথে সংযুক্ত করা হয়। সাধারণত এই বিন্দুগুলো উৎস (battery) এবং লোডের মাঝখানে থাকে।
অ্যামিটার এর কাজ কি?
অ্যামিটার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যবহার করা হয়। যেমন:
- বর্তনীর তড়িৎ প্রবাহের পরিমাণ নির্ণয় করা
- বর্তনীর কোন অংশে বেশি তড়িৎ প্রবাহ হচ্ছে তা বোঝা
- কোথাও তড়িৎ প্রবাহ অস্বাভাবিকভাবে বেশি বা কম হচ্ছে কিনা জানা
- বর্তনীতে কোনো সমস্যা আছে কিনা তা শনাক্ত করা