প্রস্বেদন কাকে বলে? (সহজ সংজ্ঞা) | পত্ররন্ধ্র কী? | পত্ররন্ধ্রের গঠন

 তুমি কি কখনো ভেবেছো, গাছ কীভাবে নিজের ভেতরের পানি নিয়ন্ত্রণ করে? বা গাছের পাতার মাধ্যমে কীভাবে অদৃশ্যভাবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ হয়? এই বিষয়টা অনেকের কাছেই একটু জটিল মনে হতে পারে, কিন্তু আসলে এটি খুবই মজার এবং সহজভাবে বোঝা যায়। এই পোস্টে আমরা এমন একটি প্রক্রিয়া নিয়ে কথা বলবো, যা উদ্ভিদের জীবনে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তুমি যদি একবার মন দিয়ে পড়ো, তাহলে পুরো বিষয়টা একদম পরিষ্কার হয়ে যাবে এবং পড়তে পড়তে তোমার আগ্রহ আরও বেড়ে যাবে।

প্রস্বেদন কাকে বলে?(সহজ সংজ্ঞা)

প্রস্বেদন কাকে বলে?

উদ্ভিদ মাটি থেকে যে পানি শোষণ করে, তার একটি ছোট অংশ বিভিন্ন জৈব-রাসায়নিক কাজে ব্যবহার হয়। কিন্তু অধিকাংশ পানি উদ্ভিদদেহ থেকে জলীয় বাষ্প হিসেবে বের হয়ে যায়। উদ্ভিদদেহ থেকে পানি বাষ্প আকারে বের হওয়ার এই প্রক্রিয়াকে প্রস্বেদন বলা হয়।

প্রস্বেদনের প্রধান অঙ্গ

প্রস্বেদন প্রধানত উদ্ভিদের পাতার মাধ্যমে ঘটে। তবে কান্ড এবং শাখা-প্রশাখা থেকেও কিছু পরিমাণ প্রস্বেদন হয়।

প্রস্বেদনের প্রকারভেদ

প্রস্বেদন সাধারণত তিন প্রকার। যেমনঃ

  • (ক) পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন
  • (খ) কিউটিকুলার প্রস্বেদন
  • (গ) লেন্টিকুলার প্রস্বেদন

পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন

পত্ররন্ধ্র সাধারণত পাতার নিচের অংশে বেশি থাকে। কচি কান্ডেও পত্ররন্ধ্র দেখা যায়। উদ্ভিদের অধিকাংশ প্রস্বেদন এই পত্ররন্ধ্র দিয়েই হয়।

উদ্ভিদের মোট প্রস্বেদনের প্রায় ১০-১৫% পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে ঘটে। শিরা ও উপশিরার মাধ্যমে পানি পাতার কোষে পৌঁছে যায়, বিশেষ করে প্যালিসেড ও স্পঞ্জি প্যারেনকাইমা কোষে।

স্পঞ্জি প্যারেনকাইমা কোষগুলো ঢিলাভাবে সাজানো থাকে এবং এর মধ্যে অনেক ফাঁকা স্থান থাকে। এই অংশেই উদ্ভিদ বায়ু থেকে কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্রহণ করে, যা সালোকসংশ্লেষণের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।

বায়ু প্রথমে পত্ররন্ধ্র দিয়ে প্রবেশ করে পত্ররন্ধ্রীয় প্রকোষ্ঠে আসে, তারপর তা কোষের ফাঁকা স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। কোষের বাইরের অংশ সব সময় ভেজা থাকে, ফলে ব্যাপন সহজ হয়।

এই অবস্থায় উদ্ভিদ যেমন কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্রহণ করে, তেমনি পানি বাষ্প আকারে বাইরে বের হয়ে যায়। এই প্রক্রিয়াকে পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন বলা হয়।

কিউটিকুলার প্রস্বেদন

উদ্ভিদের পাতার ও কান্ডের উপরের অংশে একটি আবরণ থাকে, যাকে কিউটিকল বলা হয়। এই আবরণ উদ্ভিদকে সুরক্ষা দেয়।

যদি কিউটিকল পাতলা হয়, তাহলে এর মধ্য দিয়ে কিছু পানি বাষ্প আকারে বের হয়ে যায়। এই প্রক্রিয়াকে কিউটিকুলার প্রস্বেদন বলা হয়।

লেন্টিকুলার প্রস্বেদন

উদ্ভিদের কান্ড যখন মোটা হয় বা বৃদ্ধি পায়, তখন বাইরের আবরণ কিছু জায়গায় ফেটে যায়। এই ফাটা অংশগুলোকে লেন্টিসেল বলা হয়।

এই লেন্টিসেলের মাধ্যমে উদ্ভিদের ভেতরের টিস্যু থেকে পানি বাষ্প আকারে বের হয়ে যায়। একে লেন্টিকুলার প্রস্বেদন বলা হয়।

পত্ররন্ধ্র কী?

পাতার উপরের ও নিচের তলে অবস্থিত দুটি রক্ষী কোষ দ্বারা পরিবেষ্টিত ছোট ছিদ্রকে পত্ররন্ধ্র বলা হয়।

পত্ররন্ধ্র শুধু একটি ছিদ্র নয়, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এর মাধ্যমে প্রস্বেদন ও সালোকসংশ্লেষণ নিয়ন্ত্রিত হয়। এছাড়া পত্ররন্ধ্র খোলা ও বন্ধ হওয়ার বিষয়টিও নিয়ন্ত্রণ করে।

উদ্ভিদের প্রজাতি অনুযায়ী, প্রতি বর্গ সেন্টিমিটারে প্রায় ১,০০০ থেকে ৬০,০০০ পর্যন্ত পত্ররন্ধ্র থাকতে পারে।

পত্ররন্ধ্রের গঠন

একটি পত্ররন্ধ্র দুটি অর্ধচন্দ্রাকৃতির রক্ষী কোষ এবং মাঝখানের একটি ছিদ্র নিয়ে গঠিত।

রক্ষী কোষের মধ্যে একটি নিউক্লিয়াস, অনেক ক্লোরোপ্লাস্ট এবং ঘন সাইটোপ্লাজম থাকে। রক্ষী কোষের চারপাশে কিছু সহায়ক কোষ থাকে, যাদের আকৃতি একটু ভিন্ন।

পত্ররন্ধ্রের নিচে একটি বড় বায়ুকুঠুরী থাকে, যেখানে বায়ু জমা হয়।

পত্ররন্ধ্র খোলা ও বন্ধ হওয়া

অধিকাংশ উদ্ভিদের পত্ররন্ধ্র সকাল ১০-১১ টা এবং বিকাল ২-৩ টার মধ্যে পুরোপুরি খোলা থাকে। অন্য সময় আংশিক খোলা থাকে এবং রাতে সাধারণত বন্ধ থাকে।

আশা করি, এই পোস্টটি পড়ে প্রস্বেদন সম্পর্কে তোমার ধারণা অনেক সহজ ও পরিষ্কার হয়েছে। আমরা চেষ্টা করেছি খুব সহজ ভাষায় প্রতিটি বিষয় বুঝিয়ে দিতে, যাতে তুমি সহজেই মনে রাখতে পারো। এ ধরনের আরও সহজ ও দরকারি পড়াশোনার পোস্ট পেতে অবশ্যই ভিজিট করো আমাদের ওয়েবসাইট StudyTika.com। সেখানে তোমার জন্য আছে আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যা তোমার পড়াশোনাকে করবে আরও সহজ ও মজার।

Getting Info...

إرسال تعليق

Oops!
It seems there is something wrong with your internet connection. Please connect to the internet and start browsing again.